May 6, 2026
ঢাকা: চীনে বাংলাদেশি সব পণ্য শুল্কমুক্ত কোটায় রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে চীনের ইউনান প্রদেশের গভর্নর লি জিনেং এর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আমরা তামাক ও অ্যালকোহল ছাড়া মোট ২৫টি পণ্য শুল্কমুক্ত রপ্তানি করতে পারি। এজন্য চীনকেও বাংলাদেশি সব পণ্য শুল্কমুক্ত কোটায় আমদানি করার প্রস্তাব দিয়েছি। তারা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখছেন। আশা করি, চীনেও আমরা শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবো।
তিনি জানান, মুন্সীগঞ্জের বাউশিয়ায় গার্মেন্টস পল্লী করতে ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। চীন সরকার সেখানে অর্থায়ন করতে চায়। এছাড়া ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার স্থায়ী কাঠামো দিতে যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তাতেও চীন অর্থায়ন করতে রাজি হয়েছে।
অন্যদিকে চীন সরকার কুনমিংয়ে বাংলাদেশের জন্য স্থায়ীভাবে একটি জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে। যেখানে বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শনীর সুযোগ পাবো।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করে তার মধ্যে চীন প্রথম এবং ভারত দ্বিতীয়। প্রতিবছর প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য চীন থেকে আমদানি করা হয়। এর বিপরীতে আমরা সেখানে মাত্র ৫০ কোটি ডলারেরও কিছু বেশি পণ্য রপ্তানি করি।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেশি উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
আগামী ৬-১০ জুন চীনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশকে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ইউনান প্রদেশের গভর্নর লি জিনেং।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ানো এবং দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ও জোরদারের লক্ষ্যে বৈঠক ফলপ্রসু হয়েছে।
বাংলাদেশকে দীর্ঘদিনের বন্ধু উল্লেখ করে গর্ভনর বলেন, বাংলাদেশ আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু রাষ্ট্র। আমরা বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চাই। কেননা দেশটি অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে খুব ভালো করছে। আমরা দেশটির এই অগ্রগতিতে পাশে থাকতে চাই।