May 8, 2026
ঢাকা: বাংলাদেশ দেশের প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা বুধবার বেলা দেড়টার দিকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহৃৃ.রাজেউন)। রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপহাসপাতালে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। পৌনে দুইটার দিকে পরিবারের সদস্যদের সম্মতিতে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়।
এবিএম মূসা অনেক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। গত ২৯ মার্চ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকবার তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটায় দিকে আবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে দেওয়া হয়।
এবিএম মুসার শরীরে রক্ত থাকছিল না, বারবার রক্ত দিলেও তার রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যাচ্ছিল। এ রোগের নাম মাইলো ডিসপ্লাস্টিক সিনড্রম- যা ব্লাড ক্যান্সারের মতোই। এছাড়া তার হার্ট এবং কিডনিতেও তার সমস্যা ছিল বলে হাসপাতালসূত্রে জানা গেছে। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এবিএম মূসার জন্ম এবং কর্মজীবন
এবিএম মূসার জন্ম ১৯৩১ সালে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায়। তার কর্মজগতের ব্যাপ্তি অনেক। ১৯৫০ সালে ‘দৈনিক ইনসাফ’ পত্রিকার মধ্য দিয়ে তার সাংবাদিকতার জীবন শুরু। ওই বছর তিনি ইংরেজি দৈনিক ‘পাকিস্তান অবজারভার’এ যোগ দেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসি, সানডে টাইমস ইত্যাদি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সংবা“াতা হিসেবে তিনি রণাঙ্গন থেকে সংবাদ পাঠাতেন। স্বাধীনতার পর তিনি বিটিভির মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ সালে তিনি ব্যাংককে জাতিসংঘের পরিবেশ কার্যক্রমের (এসকাপ) এশিয়া প্যাসেফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদে যোগ দেন। দেশে ফিরে ১৯৮১ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক হন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’র (বাসস) মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান সম্পাদক ছিলেন। তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের চারবার সভাপতি আর তিনবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালে তিনি কয়েক মাস ‘দৈনিক যুগান্তর’-এর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এবিএম মুসা আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের সমালোচনা করায় সরকারের রোষানলে পড়েন। এছাড়া তিনি দেশের বিভিন্ন সমস্যা এবং সম্ভবনা নিয়ে টকশো এবং উপ-সম্পাদকীয় কলামে সরব ছিলেন।