পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

গোলাম আযমের পক্ষে ফের বিদেশি সাফাই সাক্ষী আনার আবেদন

Posted on February 13, 2013 | in ইসলাম | by

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের পক্ষে আবারও বিদেশি সাফাই সাক্ষী আনার আবেদন জানিয়েছেন আসামিপক্ষ। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আবেদনটি করা হয়েছে। এ ধরনেরই একটি আবেদন গত বছরের ১৮ অক্টোবর শুনানি শেষে খারিজ করে দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার সকালে গোলাম আযমের পক্ষে ২য় ও ৩য় সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। গোলাম আযমের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ও অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম সাফাই সাক্ষী হাজির না করে বিদেশি দুই সাফাই সাক্ষী আনার আবেদনটি ফের জমা দেন।

দুপুর দুইটায় আবেদনটির ওপরে শুনানির সময় ধার্য করেছেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।

গোলাম আযমের পক্ষে প্রথম সাফাই সাক্ষী তার ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আযমীকে রাষ্ট্রপক্ষের জেরা শেষে বুধবার পরবর্তী সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল-১। এদিন দু’জন সাফাই সাক্ষী হাজির করতে আসামিপক্ষকে বলেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

সকালে ট্রাইব্যুনাল বসলেও কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির ছিলেন না। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ও অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে জানান, অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির কারণে গোলাম আযমের মামলার মুল আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম আসতে পারেননি।

ট্রাইব্যুনাল এ সময় তাদেরকেই মামলা পরিচালনা করতে বললে ওই দুই আইনজীবী দাবি করেন, এ মামলা মুলত পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম। তাদের কাছে মামলার ডকুমেন্টস নেই। তারা এ মামলার বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞাতও নন।

ইতিপূর্বে একজন সাফাই সাক্ষীকে অপহরণের অভিযোগ তুলে তারা আরও দাবি করেন, এ পরিস্থিতিতে সাফাই সাক্ষীরা আসতে ভয় পাচ্ছেন। তাই সাফাই সাক্ষী হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না।

এরপর দুই বিদেশি সাফাই সাক্ষী আনার আবেদনটি জানান গোলাম আযমের আইনজীবীরা। ওই দু’জন বিদেশি সাফাই সাক্ষী হচ্ছেন ন্যাটোর সাবেক কর্মকর্তা জেনারেল জ্যাক ডেভারেল এবং মিডলসেট ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মানবাধিকার বিভাগের অধ্যাপক উইলিয়াম সাবাজ। তারা দু’জনই যুক্তরাজ্যের নাগরিক। তাদের মধ্যে ডেভারেল গোলাম আযম যে যুদ্ধাপরাধের ‘সুপিরিয়র কমান্ডার’ ছিলেন সেই অভিযোগের বিষয়ে এবং সাবাজ আইনগত দিক নিয়ে সাক্ষ্য দেবেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৬ অক্টোবর এ দুজন বিদেশি সাক্ষীকেই হাজির করে সাফাই সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালের সমন চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। ওই দিন ও পরদিন ১৭ অক্টোবর শুনানি শেষে ১৮ অক্টোবর আবেদনটি খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল।

সে সময় ট্রাইব্যুনাল তার আদেশে বলেন, ‘‘ট্রাইব্যুনাল এ আবেদন খারিজ করলেন। তবে আসামিপক্ষ যদি চান, তাহলে তারা নিজ উদ্যোগে এ সাক্ষীদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার উদ্যোগ নিতে পারেন।’’

আসামিপক্ষ গোলাম আযমের পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ২৯৩৯ জন সাফাই সাক্ষীর নামের তালিকা দিয়েছিলেন। ওই তালিকা বাতিল করে গোলাম আযমের পক্ষে আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষী সংখ্যা ১২ জন হবেন বলে গত বছরের ৯ অক্টোবর আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

১২ জনের মধ্যে প্রথম সাফাই সাক্ষী গোলাম আযমের ছেলে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্তকৃত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী গত বছরের ১২ নভেম্বর থেকে গত ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাফাই সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্রপক্ষ তার জেরা শেষ করেন সোমবার।

অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমানসহ গোলাম আযমের বিরুদ্ধে জব্দ তালিকার ৭ সাক্ষীসহ রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৭ জন সাক্ষী এর আগে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিপক্ষ তাদের জেরাও সম্পন্ন করেছেন। আর ১ জন সাক্ষীর তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া জবানবন্দিকেই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া ঘটনার সাক্ষীরা হলেন, বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও গবেষক ড. মুনতাসীর মামুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবউদ্দিন আহম্মদ বীরবিক্রম, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, মানবাধিকারকর্মী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, মুক্তিযোদ্ধা শফিউদ্দিন আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৈরতলা দক্ষিণপাড়া গ্রামের সোনা মিয়া, একজন শহীদ পরিবারের নারী(ক্যামেরা ট্রায়াল), দেশবরেণ্য গীতিকার ও সুরকার মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, রাজধানীর নাখালপাড়ার ফরিদ আলম এবং মহসিন আলী খান।

আর জব্দ তালিকার সাক্ষীরা হলেন- বাংলা একাডেমীর সহ গ্রন্থাগারিক মো. এজাব উদ্দিন মিয়া, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) রাজনৈতিক শাখার উচ্চমান সহকারী সেলিনা আফরোজ, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের উচ্চমান সহকারী কাজী আইয়ুব হোসেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার কামালের বোন ডা. মুনিয়া ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় যাদুঘরের কিপার ড. স্বপন কুমার বিশ্বাস, পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে কর্মরত সাঁট মুদ্রাক্ষরিক জামিনুর শেখ।

মানবতাবিরোধী ৫ ধরনের অপরাধের ৬১টি অভিযোগে অভিযুক্ত করে গত বছরের ১৩ মে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। ১০ জুন তার বিরুদ্ধে ওপেনিং স্টেটমেন্ট উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। ১ জুলাই থেকে শুরু হয় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ।

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে পাঁচ ধরনের অভিযোগ হলো, মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র, উস্কানি, পাকিস্তানি সেনাদের সাহায্য করা এবং হত্যা-নির্যাতনে বাধা না দেওয়া।

অভিযোগগুলোর মধ্যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা ও তাদের সঙ্গে চক্রান্ত করার জন্য ছয়টি, তাদের সঙ্গে পরিকল্পনার তিনটি এবং উস্কানি দেওয়ার ২৮টি এবং তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ২৪টি অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১১ জানুয়ারি গোলাম আযমকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কারাগারে পাঠানোর পর চিকিৎসার জন্য তাকে নেওয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বিচার চলছে।

এর আগে গত বছরের ৯ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া ওই আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মোট ৬২টি অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ৬১টি গ্রহণ করে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর গোলাম আযমের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করেন তদন্ত কর্মকর্তারা। পরে কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের মাধ্যম। মোট ৩৬০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনের পাশাপাশি ১০ হাজার পৃষ্ঠার নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud