May 8, 2026
১. বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত যাদেরকে বলেছে নাস্তিক। ছেলেমেয়েদের নিয়ে কুৎসতি মন্তব্য করেছে। এখানে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে- ইত্যাদি অভিযোগে গণজাগরণ মঞ্চ অভিযুক্ত ছিল প্রথম থেকেই।
যে সময় এই অভিযোগ এসেছে, সেই সময় শাহবাগের আন্দোলনে তেমন কোনো অর্থের যোগান ছিল না। যা এসেছে তার পুরোটাই ছিল স্বতস্ফুর্ত। অর্থ এসেছে পরে, ব্যবস্থা করে দিয়েছে সরকার। বিভিন্ন ‘সংস্থা’, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের নিয়ে মিটিং হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, কেউ কেউ স্বইচ্ছায়ই অর্থ দিয়েছেন। সরকার জানত না এমন প্রায় কোনো কিছুই গণজাগরণ মঞ্চে ঘটেনি। গণজাগরণ মঞ্চের নিয়ন্ত্রণ যাতে সরকারের পক্ষে থাকে, সরকারের অ্যাসাইনমেন্টে বেশ কিছু ব্যক্তিত্ব তো সেখানে প্রায় ২৪ ঘণ্টাই উপস্থিত থেকেছেন। তারা সবাই তো এই অর্থ জোগানের বিষয়টি জানেন। অথবা বলা যায় তাদের মাধ্যমেই তো অর্থের বড় অংশ এসেছে। অর্থের পরিমাণ কত, জানি না। তবে এভাবে অর্থ যে এসেছে সেটা
নিশ্চিত। ছাত্রলীগ, যুবলীগ তো প্রায় সূচনালগ্ন থেকেই গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে ছিল।
২. এখন বোঝা যাচ্ছে সরকার ‘সংস্থা’র মাধ্যমে তথ্য প্রমাণ রেখেই অর্থ এনেছে। এখন সেটা প্রকাশ করে বলছে গণজাগরণ ‘চাঁদাবাজি’ করেছে। ছাত্রলীগকে দিয়ে বলানো হচ্ছে, সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন।
৩. যুদ্ধাপরাধের বিচার ঝিমিয়ে পড়েছে। জোড়ালো করার দাবি যাতে না ওঠে, জামায়াতের সঙ্গে নেপথ্য আলোচনার বিষয়ে যাতে কোনো কথা না ওঠে, তাই গণজাগরণ মঞ্চ এখন ভেঙে দিতে হবে।
৪. ভেঙে দেয়ার জন্যে সামনে আনা হয়েছে ‘চাঁদাবাজি’র প্রসঙ্গ। এক পক্ষ যাদেরকে বলেছে ‘নাস্তিক’ এখন সরকার তাদেরকে বলছে ‘চাঁদাবাজ’ ‘অসৎ’‘দুর্নীতিবাজ’। সঠিক পথে রাখার চেস্টা না করে ,একটা অসম্ভব ভালো উদ্যোগকে পরিকল্পিতভাবে কালিমা লেপন করে -কি অর্জন হবে সরকারের!
৫. কেউ কেউ বলছেন, সরকার নয়- এটা ছাত্রলীগ করছে। আসলে ছাত্রলীগ আলাদা করে কিছু করে না। তাদেরকে দিয়ে করানো হয়, সর্বোচ্চ নেতৃত্ব করায়। দু’একজন মন্ত্রী যে একই কথা বলছেন, সেটা তারই প্রমাণ।
৬. শাহবাগ এলাকার দখল, অর্থের ভাগ, নেতৃত্ব- ইত্যাদি কারণেও গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে এই অবস্থান।
৭. ছাত্রলীগের ক্রমাগত চাঁদাবাজি-মাস্তানি-হত্যাকাণ্ডের যে নেতিবাচক ইমেজ, এর পাশাপাশি গণজাগরণ মঞ্চের ইতিবাচক ইমেজকে তো মেনে নিতে পারে না ছাত্রলীগ! সুতরাং পেটাও!! ‘চাঁদাবাজি’ করে গুলশানে ফ্ল্যাট কিনব আমরা। এই অধিকার এককভাবে আমাদের!
৮. আওয়ামী লীগ সরকার ‘আমি’ ফর্মুলায় বিশ্বাসী। ‘আমি’ ছাড়া আর কাউকে দাঁড়াতে দেব না। যুদ্ধাপরাধের বিচার করব ‘আমি’। ঝুলিয়ে রাখব ‘আমি’। জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করব ‘আমি’। টাকা নেব ‘আমি’। নির্বাচন দেব ‘আমি’। ভোট নেব ‘আমি’। চাঁদা এনে দেব ‘আমি’। চাঁদাবাজির অভিযোগ করব ‘আমি’। ‘আমি’ই সবচেয়ে শক্তিমান। ‘আমি’ই শেষ কথা।
বি.দ্র: বিএনপি -জামায়াত -হেফাজত যে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছিল, সরকার এখন যে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে – এসবের কোনো কিছুর জন্যই দায়ী নয়, শপথদীপ্ত এই মানুষগুলো!!!