April 5, 2026
ঢাকা: ক্ষুধা ও দারিদ্রতা দূরীকরণে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৮তম সার্ক সম্মেলনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সার্কের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষুধা ও দারিদ্রতা। দারিদ্র্যমু্ক্ত দেশ গড়তে তার সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। ২০৪১ সালে হবে এক উন্নত দেশ। এসময় সরকারের গৃহিত উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান।
সার্ক অঞ্চলের সব জনগণের জন্য খাদ্য নিশ্চিত করণের লক্ষে সার্ক ফুড ব্যাংক ও সিড ব্যাংক নির্মণে গুরুত্বারোপ করে লিখিত বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোতে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সবার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর মনযোগ দেয়া উচিত। দারিদ্র্য দূরীকরণে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলনে, এসব পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
শেখ হাসিনা শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, আইসিটি, বৈশ্বিক উষ্ণতা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘সার্ক দেশগুলোর মধ্যে কিছু কিছু বিষয়ে ঐক্যমত্য হওয়া এখন খুবই প্রয়োজন, যাতে পারস্পরিক সহযোগিতা থাকবে। এতে এসব দেশের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়বে। তিনি বলেন, ‘মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দারিদ্র্য নির্মূলে প্রধান খাদ্যশস্য উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ মৎস ও প্রাণিজ সম্পদ উৎপাদন, কৃষিতে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নের কথা উল্লেখ করে আঞ্চলিক ক্ষেত্রে নারীর ক্ষতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উদ্ভবনীমূলক শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে আঞ্চলিক পর্যায়ে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সার্বিক শান্তি, উন্নতি ও স্থিতিশীলতার জন্য পরস্পরের মধ্যে ভৌত ‘কানেকটিভিটি’ গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক মোটরযান পরিবহন চুক্তি ও রেল পরিবহন চুক্তি স্বাক্ষর দ্রুতগতিতে হলে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে।
টেকসই উন্নয়নের জন্য সাক অঞ্চলের ব্লু ইকনমি তথা সমুদ্র অর্থনীতির ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সমন্বিত সহযোগিতায় বিশ্বাস করে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নন-ট্যারিফ ও প্যারা ট্যারিফ বাধা দূরীকরণ এখন সময়ের দাবি। দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্ক কাঠামোর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা প্রশংসনীয়।
‘শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’- এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়েছে ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের মূল পর্ব। ভ্রীকুটি মণ্ডপে রাষ্ট্রীয় সভাগৃহে শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ও সার্কের বিদায়ী চেয়ারপারসন আবদুল্লাহ ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুম। তার সঙ্গে নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা প্রদীপ প্রজ্বালন করেন।
১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের মূল পর্বে প্রথমে ভাষণ দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ।