পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

কৌশলগত কারণে বিএনপির সাময়িক একলা চলো নীতি

Posted on February 12, 2013 | in রাজনীতি | by

†KŠkjMZ Kvi‡Y weGbwci mvgwqK GKjv P‡jv bxwZসাময়িকভাবে জামায়াত ইসলামী থেকে আলাদা থাকতে চাচ্ছে বিএনপি। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগ চত্বরসহ সারাদেশে চলমান আন্দোলনের কারণে বিতর্ক এড়াতে জোটের অন্যতম শরিক দলটিকে নিয়ে এমন চিন্তায় পড়েছে ১৮দলীয় জোটের নেতৃত্ব দানকারী দলটি।

গত শনিবার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল ও ১৮দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ মামলা, গুম ও খূনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচির ঘোষণা থাকলেও অনুমতি না পাওয়ার দোহাই দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। পরে ওইদিনই বিএনপি এককভাবে বিক্ষোভ মিছিল করে এ বিষয়টি অনেকটা স্পষ্ট করে দেয়।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সাময়িকভাবে অনেকটা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বিএনপি ‘একলা চল নীতি’ অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিএনপির এ কৌশলকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন না জোট নেতারা।
বিএনপি নেতারা বলছেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে মুক্তিযুদ্ধের দল হওয়ার পরও জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ আন্দোলন করছে বিএনপি। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ে জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার রায়ের পর রাজধানীসহ সারাদেশে যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে সে কারণে জোটের শরিক হওয়া সত্ত্বেও বিতর্ক এড়াতে এ দলটিকে নিয়ে মাঠে ময়দানে কর্মসূচি পালন করতে চাচ্ছে না বিএনপি। এটাকে ‘সাময়িক’ ও রাজনৈতিক ‘কৌশল’ বলে দাবি করছেন তারা।
অন্যদিকে জোট নেতারা বলছেন, শাহবাগের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপি জামায়াতকে দূরে রাখার কৌশল নিলে সেটা আপতত জোটের জন্য সমস্যা হবে না। তবে বিএনপি এতে ধরা পড়ে গেলে সরকারই লাভবান হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৮দলীয় জোটের শরিক দলের একজন চেয়ারম্যান বলেন, “কোনো আলোচনা ছাড়াই বিএনপি শনিবারের কর্মসূচি স্থগিত করে এককভাবে বিক্ষোভ মিছিল করায় আমাদের মধ্যে কিছুটা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্ক এড়ানোর জন্য বিএনপি সাহস করে এ সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ পর্যন্ত এতে সরকার লাভবান হতে পারে।”
তবে জোট আছে এবং থাকবে এমন আশা প্রকাশ করে ওই নেতা বলেন, “আমরা আশা করব জামায়াতকে দূরে রাখতে বিএনপির এই কৌশল স্থায়ী হলে পরবর্তিতে ক্ষতি হবে । এতে করে সরকারই লাভবান হবে।”
এদিকে শনিবারের স্থগিত করা কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি অনুমতি না পাওয়ার কথা বললেও পুলিশ ভিন্ন কথা বলছে। পুলিশ বলছে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াতসহ শরিকদের নিয়ে কর্মসূচি পালনে বিএনপি অপারগতার কথা বলে একক কর্মসূচির অনুমতি চায়। পরে তাদেরকে বিক্ষোভ মিছিলের অনুমতি দেয়া হয়।
এছাড়া ১৮ দলের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হলেও তা বাতিল কিংবা পরিবর্তন নিয়ে গণমাধ্যমকে কিছু জানানো হয়নি।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর হঠাৎ করে ২ ও ৪ ফেব্র“য়ারি পুলিশী প্রহরায় জামায়াত, শিবিরের মিছিল-সমাবেশ করায় জোটের মধ্যে সরকারের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের সন্দেহ দেখা দেয়। বিএনপি ও জোটের অধিকাংশ নেতারা এ সন্দেহের কথা স্বীকারও করলেও জোট ভাঙার কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না বলেও জানান তারা।
১৮ দলীয় জোটের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মূলত শাহবাগে আন্দোলন চলাকালে ঝুঁকি নিতে চায়নি বিএনপি। সেজন্যই জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে তারা সমাবেশ করেনি।
জোটের শরিক জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান এ প্রসঙ্গে বলেন, “জোট নিয়ে গণমাধ্যমে যে খবর আসছে তার সম্পূর্ণটা সত্য নয়, কিছুটা সত্য। তবে বাহ্যিকভাবে কিছুটা সন্দেহ চলছে মনে হলেও এটা জোটের জন্য সমস্যা নয়। আশা করি জোট আছে এবং থাকবে।”
সরকারের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা আসলে আঁতাত নয়, সরকার-জামায়াত উভয়ের কৌশল। এতে সরকারের আগ্রহের সঙ্গে জামায়াতেরও আগ্রহ আছে বলে মনে হয় ।”
জোটের শনিবারের কর্মসূচি স্থগিত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পুলিশ অনুমতি দেয়ার কথা বললেও আসলে স্থগিতের বিষয়ে জোটনেতাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য কেউ যেন আমাদেরকে (১৮দল) শাহবাগের যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবির আন্দোলনের প্রতিপক্ষ না ভাবে।”
অন্যদিকে জোটের শরিক দলের আরেক নেতা বলেন, কর্মসূচি কেন বাতিল করা হয়েছে তা আমরা কিছুই জানি না। বিএনপি বড় দল তারা কখন কি করে তা সব সময় আমরা জানতে পারি না। সমস্যা হচ্ছে জোটের মধ্যে বর্তমানে কোনো সমন্বয়কারী নেই।
এদিকে বিএনপির কয়েকটি সূত্র জানায়, এই মুহূর্তে জামায়াতকে নিয়ে বিএনপি কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। সাময়িকভাবে তারা ‘একলা চলো নীতি’তে চলতে চায়। শাহবাগসহ দেশব্যাপী আন্দোলন শেষ হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আবার জোটবদ্ধভাবেই আন্দোলন চাঙ্গা করা হবে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির্ একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “বাইরে অনেক কিছু শোনা গেলেও জোট আছে এবং থাকবে। তবে আমাদের আন্দোলনকে লক্ষচ্যুত করতে চক্রান্ত হতে পারে। কিন্তু তা সফল হবে কিনা সময় বলে দিবে।”
একই প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “জামায়াত হয়তো একটা কৌশল নিতে পারে। তবে জোট থেকে চলে যাবে বলে আমার মনে হয় না।”

 

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud