পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

কষ্টে আছেন অবরুদ্ধ খালেদা জিয়া

Posted on January 5, 2015 | in জাতীয় | by

নিউজ ডেস্ক: ‘কষ্ট করে এখানে আছি। ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। তারপরও থাকতে হচ্ছে।’ সাংবাদিকদের নিজের এ কষ্টের কথা জানালেন গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ খালেদা জিয়া। এর আগে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী জানান, পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত সারাদেশে অবরোধ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়া। সোমবার বিকালে গুলশানের কার্যালয় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বলে দিতে চাই, আমাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ ও কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি বন্ধ করতে সরকার ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এভাবে আমাদের কর্মসূচি বন্ধ করা যাবে না। খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি বলতে চাই, সারাদেশে পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলবে। দেশের জনগণকে এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আমি আহবান জানাচ্ছি। আমাদের সমাবেশ করতে দিতে হবে।’ একই সঙ্গে ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবসে বিক্ষোভ ও কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচিতে সরকারের পুলিশ-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ক্ষমতাসীন দলের হামলার নিন্দা জানান খালেদা জিয়া।
Bangladesh050315N-02
এর আগে বিকেল ৪টার দিকে নিজের কার্যালয়ে থেকে বেরুতে গেলে খালেদা জিয়াকে কার্যালয়ের বাইরে যেতে দেয়নি পুলিশ। প্রধান গেইট বাইরে থেকে তালা দিয়ে রাখা হয়। বেগম জিয়া গেইটের কাছেই নিজের নিশান পেট্রোল গাড়িতে কালো পতাকা হাতে বসে থাকেন প্রায় এক ঘণ্টা। এ সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের পক্ষ থেকে সাবেক পুলিশ মহাপরির্দশক আবদুল কাউয়ুম ও বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস গেইটের ভেতর থেকে পুলিশের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন। তারা বিএনপি চেয়ারপারসনকে বাইরে যেতে দিতে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানান। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা গেইটের তালা খুলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

পুলিশের এহেন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে অ্যাডভোকে শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ নয়। তারা যে মিথ্যাচার করেছেন, এটা আজকে প্রমাণ হয়ে গেছে। দেশনেত্রীকে এই কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এই ফ্যাসিস্ট সরকার দেশনেত্রীকেই শুধু অবরুদ্ধ করেনি, দেশের গণতন্ত্রকেও অবরুদ্ধ করে রেখেছে।’ এরপরপরই মহিলা দলের নেত্রী নুরে আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, রেহানা আখতার রানু, নিলোফার চৌধুরী মনি, সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, সুলতানা আহমেদ, খালেদা ইয়াসমিনসহ কয়েজন নেত্রী কালো পতাকা হাতে গাড়ির সামনে এসে গেইটে লাথি মেরে সেøাগান দিতে থাকে।

‘রাজপথ ছাড়ি নাই, খালেদা জিয়ার ভয় নেই’, ‘শহীদ জিয়ার স্মরণে ভয় করি না মরণে’, গুলি করে, হামলা করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না- ইত্যাদি সেøাগান দিয়ে পুলিশকে গেইটের তালা খুলে দিতে চিৎকার করতে থাকেন। এ সময়ে গেইটের সামনে থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য খালেদা জিয়ার গাড়ি লক্ষ করে পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করে। বিএনপি চেয়ারপারসনের নিশান পেট্রোল গাড়ির সামনের দিকে পিপার স্প্রে’র খয়েরি তরল গ্যাস পড়ে থাকতে দেয়া যায়। এই স্প্রে মহিলা দলের নেতাদের ও গণমাধ্যমের কর্মীদের ওপর এসে পড়লে অনেকে গুরুতর আহত হন।

তখন আগুন জ্বালিয়ে আহতদের তাপ নিতে দেখা যায়। পুলিশ মহিলা দলের নেত্রীদের সেøাগান বন্ধ করতে দুই দফা পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করে। খালেদা জিয়া নিজের গাড়ি থেকে নেমে একটি ছোট টেবিলের ওপর দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন। ২০ মিনিট স্থায়ী এই বক্তব্যে সরকারের দুর্নীতি, দুঃশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দলীয়করণ, স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিরোধী দলের কর্মসূচি পালনে বাধা দেয়ার কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

তিনি বলেন, ‘সরকার দেশটাকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। বিরোধী দলকে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হয় না। একদিকে ক্ষমতাসীনরা মিছিল মিটিং করবে, আর আমাদের কর্মসূচি করতে দেবে না। এটা কি কোনো ফ্যাসিস্ট কান্ট্রি।’ শনিবার থেকে অবরুদ্ধ হয়ে থাকার কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘কেনো আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমার অফিসের সামনে এতো ইট-বালুর ট্রাক কেনো রাখা হয়েছে। কেনো গেইট তালা দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কারণ আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। তারা তা দেয়নি।’

তিনি বলেন, আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এজন্য যে, আমি কর্মসূচিতে গেলে জনগণের স্রোত নামবে। এই অবৈধ সরকার জনগনকে ভয় পায়। কারণ তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই।’ গুলশান কার্যালয় অবরুদ্ধ নয়; সরকারের এহেন দাবি নাকচ করে তিনি বলন, ‘আমি যদি অবরুদ্ধ না থাকি তাহলে কেনো আমার সঙ্গে নামকরা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দেখা করতে দেয়া হলো না। দেশের একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজো চৌধুরী সাহেবকে কেনো দেখা করতে দেয়া হলো না? সরকার এভাবে মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।’

নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে সরকার বিভিন্ন সময়ে অবরুদ্ধ করে রাখার কৌশল নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। র্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে এক অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। গুম-খুন, হামলা-মামলা দিয়ে সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না।’ সাবেক এ প্রধানমন্ত্র বলেন, ‘আজকেও অনেকের রক্ত ঝরিয়েছে সরকার ও তার আইনশৃঙ্খলঅ বাহিনী। আমি স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, রক্ত দিয়ে এভাবে ক্ষমতায় থাকা যাবে না। রক্ত দিয়ে এই সরকার বিদায় করে দেশে আইনের সুশাসন ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।’ পিপার স্প্রে নিক্ষেপের সমালোচনা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী এমন ঘটনা ঘটেছে এখানে পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করতে হবে। আমরা পুলিশ বাহিনীকে বলতে চাই- আমাদের সঙ্গে আপনাদের কোনো বিরোধ নেই। একটি জেলার ও ছাত্রলীগের লোকজন এই বাহিনীতে ঢুকে এই বাহিনীর ইমেজ নষ্ট করছে।’ এ সময়ে আবার পিপার স্প্রে মারলে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা (পুলিশ বাহিনী) এভাবে গ্যাস কেনো মারছেন। আমি কথা বলছি দেখতে পারছে না। এটা বন্ধ করুন।’

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সম্প্রচারনীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শুনেছি ইটিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর আগেও কয়েকটি চ্যানেলের সম্প্রচার সরকার বন্ধ করেছে। বিরোধী দলের সংবাদ যাতে না যায় সেজন্য গণমাধ্যমের ওপরও সরকার হস্তক্ষেপ করছে।’ আবারো সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি আহবান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এখনো বলছি, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিন। দেখা যাবে কে জনগণ কার সাথে আছে।’

সমাবেশের ওপর ১৪৪ ধারা জারির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এতো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেও আমাদের কর্মসূচি বন্ধ করতে পারেনি। দেশের জনগণ ও আমাদের দল ও ২০ দলীয় নেতা-কর্মীরা শত বাধার মধ্যেও কর্মসূচি পালন করেছেন, সেজন্য তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি।’ সরকারের প্রতি আহবান রেখে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাদের ঢাকায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে দিতে হবে। গুম-খুন ও হামলা-মামলা করে মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’

একই সঙ্গে নিজের কার্যালয়ের গেইটের তালা খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তালা খুলে দিন। আমি নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যেতে চাই। সহযোগিতা করুন।’ কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচিতে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হামলার অপচেষ্টারও নিন্দা জানান খালেদা জিয়া।সুত্র….. শীর্ষ নিউজ

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud