April 23, 2026
ঢাকা: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্পর্কে মিথ্যা,অসত্য তথ্য দিয়ে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে নির্লজ্জ,ভণ্ড,বাটপার ও দালাল বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। সম্প্রতি পত্রিকায় প্রকাশিত এরশাদের একটি কলামে জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে থাকা অংশের তী্ব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বিএনপি। ওই কলামের প্রতিবাদ জানাতে রোববার দুপুরে নয়া পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ এরশাদের তীব্র নিন্দা জানান। রিজভী আহমেদ বলেন, ‘কপট লুসিফারের আসল বৈশিষ্ট্য পাওয়া যাবে এরশাদের এই লেখার মধ্যে। আর এই লেখার মধ্যে লুসিফারের আত্মার সাক্ষাত পাওয়া যাবে এবং যাদের এখনও এরশাদকে চিনতে দ্বিধা আছে তাদের কাছে এরশাদ সুস্পষ্ট হয়ে যাবে। নির্লজ্জ ভণ্ডের যে কোনো রুচি, বিবেক, ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা এবং ন্যূনতম কমিটমেন্ট থাকে না সেটি এই লেখায় এরশাদ নিজেকে সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।’
রিজভী আহমেদ আরও বলেন,‘বাটপারী আর কাকে বলে। ক্ষমতা টেকওভারের জন্য অনেকদিন ধরেই কখনো গোপনে এবং শহীদ জিয়ার মৃত্যুর পরে অনেকটা প্রকাশ্যেই তিনি ষড়যন্ত্র করেছেন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অনেক রাজনীতিবিদ, গবেষক, ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা অসংখ্য তথ্যনির্ভর গ্রন্থ রচনা করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘মিথ্যাচারের প্রতিভূ হচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। লূসিফারের মতো মিষ্টি কথায় তিনি ভোলাতে চেয়েছেন অনেককে। বৃদ্ধ বিচারপতি সাত্তার এর নিকট আনুগত্যের ভণ্ডামি করে তাকে বারবার বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। রিজভী আহমেদ বলেন, ‘এরশাদ এমন একজন মোনাফেক যে, পবিত্র কোরান শরীফ নিয়ে শপথ করেও অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘নির্লজ্জ মিথ্যাবাদী এরশাদ বহু রক্তপাতকে পেছন থেকে উস্কেছেন। সুচতুর এরশাদ সময়ের সদ্ব্যবহার করতে কখনোই ভুল করেননি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা ও পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসতে যেয়ে ধরা পড়া বাঙ্গালি অফিসারদের বিচারের জন্য বিচারিক ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে ভূমিকার কারণেই তিনি সেনাবাহিনীতে কখনোই সমাদৃত ছিলেন না। তাই দাবার ঘুঁটি চেলে সেনাবাহিনীতে পাকিস্তান প্রত্যাগত মুক্তিযোদ্ধা বিরোধকে উস্কানি দিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি জিয়া ও মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড ঘটাতে হোসেইন মুহম্মদ এরশাদই যে স্থির মস্তিষ্কে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন সেটি জনগণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এবং অনেক আলামত গবেষকরা তুলে ধরেছেন। জিয়া হত্যায় যে এরশাদ জড়িত সেটা জেনারেল মঞ্জুর প্রকাশ করে দিতে পারে সেজন্যই এরশাদ তার ডিপুটেড লোকদের আদেশ দেয় ‘উইদাউট এনি ডিলে মঞ্জুরকে মেরে ফেলো।’ রিজভী আহমেদ বলেন, ‘খলের কখনো ছলের অভাব হয়না। মিথ্যাবাদীরা সত্যের শাণিত শব্দকে ভয় পায়। সুতরাং এরশাদ এর জীবনই কেটেছে হত্যা, ষড়যন্ত্র, লোভ, দুর্নীতি আর রক্তপাতের মধ্যে।’ তিনি এরশাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন,‘দীর্ঘ নয় বছর ক্ষমতায় থেকে আপনার (এরশাদ) ছোড়া গুলিতে হারুন, মোজাম্মেল, দীপালী সাহা, বাবলু, জেহাদ, নুর হোসেন, শাজাহান সিরাজ এর আত্মদানে এদের বুক থেকে রক্ত ঝরেছে না পানি ঝরেছে? ছাত্রদের মিছিলে ট্রাক চালিয়ে নিষ্পাপ কিশোরদের দেহ থেতলিয়ে দিয়েছে কে ? রাজনীতিবিদ ছাত্রনেতা ও শ্রমিক নেতাদের টাকা দিয়ে কিনে রাজনীতিকে কলুষিত করেছে কে? দালালের কখনো রঙ বদলায় না। একাত্তরে যিনি দালালি করেছেন দেশের বিরুদ্ধে ও হানাদারদের পক্ষে, এখনও তিনি দালালিতেই লিপ্ত আছেন।’