April 28, 2026
কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে গতকাল শনিবার রাতে একই পরিবারের তিনজনের ওপর অ্যাসিড ছোড়া হয়েছে। এ ঘটনার জের ধরে আজ গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে এবং এতে সাতজন আহত হন। পূর্বশত্রুতার জের ধরে ধরে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে এলাকাবাসী ও পুলিশ জানিয়েছে। অ্যাসিডদগ্ধ তিনজন হলেন সালেহা খাতুন (৫০), সোনিয়া খাতুন (১৮) ও তিতুমীর (১৩)। সালেহা খাতুন সোনিয়া খাতুনের ফুপু। তিতুমীর সালেহা খাতুনের আরেক ভাইয়ের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। এলাকাবাসী ও পুলিশের অভিযোগ, গোপালপুর গ্রামের হালিম মোল্লা ও মনির উদ্দীনের মধ্যে কয়েক বছর ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গতকাল রাত নয়টার দিকে হালিম মোল্লার সমর্থক আয়ুব আলীর বাসায় দুর্বৃত্তরা অ্যাসিড ছোড়ে। এ সময় চৌকিতে শুয়ে থাকা আয়ুব আলীর বোন সালেহা, সোনিয়া ও তিতুমীর আহত হন। রাতেই তাঁদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সোনিয়া এ বছর স্থানীয় ঝাউদিয়া কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। অবস্থা খারাপ হওয়ায় সোনিয়া ও তিতুমীরকে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।সালেহা খাতুন বলেন, সোনিয়া ও তিতুমীরকে নিয়ে রাতে তিনি ঘরে শুয়ে ছিলেন। এ সময় জানালা দিয়ে কী যেন গায়ে পড়ে। শরীর জ্বলতে শুরু করে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আজিজুন নাহার বলেন, ‘সোনিয়ার শরীরের ৪০ ভাগ পুড়ে গেছে। এটি আশঙ্কাজনক। রাতেই তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে অ্যাসিডে পুড়েই এসব ক্ষত তৈরি হয়েছে।’অ্যাসিড ছোড়ার ঘটনার জের ধরে আজ সকালে গ্রামের দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তারা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা করে। এতে সাতজন আহত হন। তাঁরা হলেন আত্তাব মল্লিক, জহির মল্লিক, শাহেদা খাতুন, মিন্টু, বসত আলী, ইউনুচ আলী। বাকি একজনের পরিচয় জানা যায়নি। তাঁদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।এ প্রসঙ্গে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর শরিফুল ইসলাম বলেন, অ্যাসিড নিক্ষেপে জড়িত সন্দেহে নায়েব আলী নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।