May 1, 2026
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট নামের একটি রণতরী ইয়েমেনের জলসীমার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ইয়েমেনের সমুদ্রসীমায় এ যুদ্ধজাহাজটি পাঠনোর উদ্দেশ্য সেখানে অবস্থানরত অন্য মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যোগ দেয়ার মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা। ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত হুদি যোদ্ধাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়ার জন্য ইরানের অস্ত্রবাহী জাহাজ ইয়েমেনের জলসীমায় যাতে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য এ যুদ্ধজাহাজটি পাঠানো হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। গত সপ্তাহে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদিত একটি প্রস্তাবে ইরানের সমর্থিত শিয়া হুদি বিদ্রোহীদের নেতাদের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। প্রস্তাবটি ১৪-০ ভোটে পাস হয়। তবে রাশিয়া ভোটদান থেকে বিরত থাকে। এরপরই আরও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, আরব সাগরের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে যুদ্ধজাহাজটি। বিশাল এ জাহাজটি এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমান বহন করে থাকে। ইয়েমেনের জলসীমায় অধিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং ওই অঞ্চলে শক্তিমত্তা প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধজাহাজটি পাঠানো হচ্ছে।
ইয়েমেনের উদ্দেশে রওনা হয়েছে ইরানের ৮টি জাহাজ এবং সম্ভবত সে জাহাজগুলোতে হুদি বিদ্রোহীদের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে, এমন রিপোর্টের ভিত্তিতে মার্কিন নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করছে। নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ওই অঞ্চলে এখন ৯টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে। ইয়েমেনে হুদি বিদ্রোহীদের অব্যাহত আগ্রাসনের মুখে পালিয়ে সৌদি আরবে অবস্থান নেন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আবদু রাব্বু মনসুরহ হাদি। এরপর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের বিমান অভিযানে ইয়েমেন পরিস্থিতি আরও জটিল ও ঘোলাটে হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে শিয়া হুদি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মদদ ও অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। আর সে উদ্বেগ থেকেই ইরানকে প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের সমুদ্রসীমায় তাদের শক্তিমত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।