May 1, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট : জঙ্গি সংগঠন ‘ইসলামিক স্টেটের’ (আইএস) হয়ে যুদ্ধ করতে ইতিমধ্যে সিরিয়া ও ইরাকে গেছেন ১৩ বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ডেসকোর কর্মকর্তা, এমআইএসটির সাবেক ছাত্র, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার এবং চিকিৎসকও রয়েছেন। আরও অন্তত ২২ জন যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বাংলাদেশে আইএস নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ল্যাপটপ থেকে একটি গোয়েন্দা সংস্থা এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে।
রোববার রাতে রাজধানীর উত্তরা ও লালমাটিয়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আমিনুল ইসলাম বেগ (৫০) ও সাকিব বিন কামাল (৩৩) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। অভিযান চালানোর সময় উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কের ৫৩ নম্বর বাসার দোতলার ফ্ল্যাট থেকে ল্যাপটপটি ছুড়ে ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন আমিনুলের মা। আগে থেকেই তার মা জানতেন, ছেলের ল্যাপটপে উগ্রপন্থিদের ব্যাপারে অনেক তথ্য রয়েছে। পরে বাসার সামনের সড়ক থেকে ভাঙা ওই ল্যাপটপ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গোয়েন্দারা আইএস নিয়ে আমিনুলের পরিকল্পনা জানতে পারেন। ইতিমধ্যে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষক সাইফুল্লাহর কাছে আমিনুল ও তার সহযোগীরা একটি বড় অঙ্কের টাকা পাঠিয়েছেন। গোয়েন্দারা বলছেন, ওই টাকা আইএসের জন্য পাঠানো হয়। আইএসের জন্য অর্থ ও জনবল সংগ্রহে কাজ করে আসছিলেন আইটি বিশেষজ্ঞ আমিনুল ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষক সাকিব।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (উত্তর) শেখ নাজমুল আলম সমকালকে বলেন, গ্রেফতার দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।ডিবির এডিসি মো. শাহজাহান সমকালকে বলেন, বাংলাদেশকেন্দ্রিক আইএস নেটওয়ার্কের অন্যতম প্রধান সমন্বয়কারী আমিনুল। তার মাধ্যমে কয়েকজন উগ্রপন্থি ইতিমধ্যে সিরিয়া ও ইরাকে গেছেন বলে স্বীকার করেছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বাংলাদেশ থেকে যারা ইরাক ও সিরিয়া গিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ডেসকোর কর্মকর্তা সোহান, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার নজিবুল্লাহ আনসারী, এমআইএসটির সাবেক ছাত্র জিলানী। তা ছাড়া মোহাম্মদপুরের একজন চিকিৎসক সিরিয়ায় পাড়ি জমান। তা ছাড়া একই এলাকার একটি পরিবার ও ডিওএইচএসের এক দম্পতি সিরিয়ায় গিয়েছেন। তারা বুয়েট থেকে পাস করেছেন। অধিকাংশ তুরস্ক হয়ে সিরিয়া ও ইরাকে যান।
আমিনুল তার সহযোগীদের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সিরিয়া ও ইরাকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দুই নারীসহ আরও ২২ জন। তারা হলেন_ কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক মেহেরুন্নেছা, চিকিৎসক শতাব্দী, কুমিল্লার ফয়জুল, রাজশাহীর মীর ফরিদুল হক, তৌহিদ, সিফাত, আতিক সরকার, ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সিরাজুল, কামরান, মোজাদ্দিদ, ফয়সাল, রায়হান, মাওলানা ইশাদ, আবদুল্লাহ, মোতাহার ও একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা। বর্তমানে সোহান ও নজিবুল্লাহ ইরাকে রয়েছেন বলে গোয়েন্দারা জানান। এ ছাড়া বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত চিকিৎসকের কন্যা আইএসে যোগ দিতে পরিবারকে না জানিয়ে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। শেষ পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাকে উদ্ধার করে বাসায় ফেরত পাঠানো হয়।
সূত্র বলছে, অনেক দিন ধরেই একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ আইএসের জন্য লোকবল ও ফান্ড গঠনের জন্য বাংলাদেশে কাজ করে আসছিল। এর অন্যতম সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন আমিনুল। বাংলাদেশ থেকে টাকা সংগ্রহ করে ইতিমধ্যে জাপান প্রবাসী শিক্ষক সাইফুল্লাহর কাছে একটি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে আইএসের জন্য ৫০ লাখ টাকা পাঠানো হয়। সাইফুল্লাহর সঙ্গে আমিনুলের বিভিন্ন যোগসূত্র পাওয়া গেছে।আইএস নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশি আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার বিষয় খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।আইএস সমন্বয়ক আমিনুল বরিশাল ক্যাডেট কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে মালয়েশিয়ায় আইটি নিয়ে পড়াশোনা করেন। এর পর যোগ দেন একটি মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান আইটি কর্মকর্তা পদে। সর্বশেষ ছিলেন কোকাকোলার প্রধান আইটি কর্মকর্তা। তার সহযোগী সাকিব বিন কামাল একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষক।