পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

অস্বাস্থ্যকর কারখানার সেমাই বিভিন্ন ব্র্যান্ড নামে বাজারে

Posted on July 2, 2015 | in জাতীয় | by

semai02ঢাকা: সারি সারি ময়দার বস্তা। পাশেই ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। স্যাঁতসেতে পরিবেশ। এমন পরিবেশেই তৈরি হচ্ছে সেমাই্। সেই সেমাই শুকানোও হচ্ছে কারখানার ভেতরে। রাতের গভীরে কারখানার গেটে তালা দিয়ে সে সেমাই ভরা হচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানির নাম সম্বলিত প্যাকেটে। এ চিত্র কামরাঙ্গিরচরের কয়েকটি সেমাই কারখানার। এসব ‘ব্রান্ড’ সেমাই যাচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। সরেজমিন ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী ও কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা এই কারবারে নামেন প্রতিবছর। তারা ধরাও পড়েন। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের জেল-জরিমানাও করেন, সিলগালা হয় সেসব অবৈধ কারখানা। কিন্তু আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসেন তারা। বছর ঘুরতেই জায়গা বদল কলে আবার শুরু করেন এই কারবার। কামরাঙ্গিচরের আলীনগর এলাকা, পশ্চিম মমিনবাগ, আলীনগর খালপাড়, চৌরাস্তা, চেয়ারম্যানবাড়ী রোড, টেকেটহাটি রোড, দক্ষিণ জান্নাতবাগ, আশ্রাফাবাদ, বড়গ্রাম রোড, বেড়িবাঁধ এলাকাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক অস্থায়ী এবং অবৈধ সেমাই তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। তবে সেমাই কারখানার অনুমোদন পাওয়া ব্যবসায়ীরা কোনভাবেই অসাধু ব্যক্তিদের সাথে কুলে উঠতে পারছে না ব্যবসায়। ওই সব ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নকল সেমাই তৈরি করে তারা সস্তায় দিয়ে বাজার দখন করছে। ফলে আসল সেমাই দিয়ে তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। সরকারি মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিএসটিআই সূত্র জানায়, সেমাই তৈরির জন্য বিএসটিআই শুধু লাচ্ছা তৈরির জন্য অনুমোদন দিয়ে থাকে। আর কোনো সেমাই তারা অনুমোদন দেন না। তবে তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই এলাকায় প্রায় প্রায় সাতটির মতো কারখানার অনুমোদন দেয়া আছে। বাকিগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ। বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, অনুমোদিত কারখানা লাচ্ছা সেমাই বাজারজাত করার আগে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষাগারে জমা দিতে হয়। তারপর তারা ছাড়পত্র দেন। কিন্তু এ নিয়মের কোনটাই মানা হচ্ছে না কামরাঙ্গিরচরের অবৈধ কারখানাগুলো। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই চরের বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ীভাবে বাসা ভাড়া নিয়ে তৈরি হচ্ছে সেমাই। যদিও বাসাবাড়িতে সেমাই তৈরির কারখানা স্থাপনের নিয়ম নেই। ময়দার সঙ্গে কৃত্রিম রঙ, ভেজাল ঘি ও চিনি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে সেমাই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শুকিয়ে ভরা হচ্ছে নামি ব্র্যান্ডের প্যাকেটে। প্যাকেটের গায়ে বনফুল, গাউসিয়া, বোম্বে, পিওর, এসিআই, কর্ণফূলীসহ নানা নামের ব্যবহার করা হচ্ছে। এ তথ্য জানালে বিএসটিআই পরিচালক (সিএম) কমল প্রসাদ দাশ বলেন, ‘অবশ্যই কোনো কারখানা সেমাই (লাচ্ছা) তৈরি করলে আমাদের দেখিয়ে তারপর তা বাজারজাত করতে হবে। আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরিকৃত সেমাই জনস্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। তবে যেসব কারখানা ভেজাল সেমাই তৈরি করছেন তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ এদিকে অভিযোগ উঠেছে, এসব কারখানা যারা চালান তারা খুবই প্রভাবশালী। এলাকার জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসনের লোকেরাও এ ব্যাপারে জানেন। এ বিষয়ে দু’জন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথাও হয়। ৫৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘কারখানা আছে অনেকগুলো। আর এই কারখানাগুলো অনেকদিন ধরেই আছে। তবে তারা ভেজাল সেমাই তৈরি করছে কি না তা জানা নেই। আর এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ দিলে অবশ্যই আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্তা গ্রহণ করবো।’ একই কথা বললেন ৫৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরে আলমও। তবে আলীনগর এলাকার মুদিদোকানদার সুমন বলেন, ‘এই সব কারখানায় ভেজাল সেমাই তৈরি হয় বলেই তো তারা কারখানায় কাউকে ঢুকতে দেয় না। এমনকি আমাদেরও না।’ তার পাশেই থাকা আরেক দোকানি বলেন, ‘আসলে তারা যে কোনটা আসল দেয় আর কোনটা নকল আমরা কি করে বুঝবো? আমরাতো ক্রেতার হাতে তুলে দেই মাত্র।’ দিনের বেলা গিয়ে বেশ কয়েকটি কারখানায় কোনো শ্রমিক পাওয়া যায়নি। এমনি একটি কারখানা আলীনগর মোড়ে। নামবিহীন সে কারখানায় প্রবেশ করতে চাইলে রশিদ নামের এক শ্রমিক বাধা দিয়ে বলেন, ‘মালিকে কইছে ভিতরে কাউকে ঢুকতে না দিতে।’ পরে অনেক চেষ্টা করেও সেখানে ঢুকা সম্ভব হয়নি। অবশ্য বেড়িবাধ এলাকায় একটু ভিন্ন চিত্র। এ এলাকায় সেসব কারখানা গড়ে উঠেছে সেসব কারখানার সেমাই প্রকাশ্যেই শুকানো হচ্ছে বাইরে। এই এলাকার প্রত্যেকটি কারখানায় বাইরে থেকে তালা লাগানো। এলাকাবাসী জানালেন, ঈদের পর এসব কারখানা আর থাকে না। মালিকরা এলাকায় বেশ প্রভাবশালী। কেউ কিছু বললেই শ্রমিকদের দিয়ে বিভিন্নভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করেন। আবার প্রশাসনকে জানালেও কোনো কাজ হয় না। বড়গ্রাম রোডে শুধু সেমাইয়ের কারখানাই নয়, প্লাস্টিকসহ শত রকমের অবৈধ কারখানা রয়েছে। এসব প্লাস্টিক কারখানার ভিতরেই একটি চক্র তৈরী করছে নকল সেমাই। পরে সেই এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, প্লাস্টিক কারখানার ভেতরেই বেশি ভেজাল সেমাই তৈরি করা হচ্ছে। পরে সে সেমাই ভিন্ন নামে প্যাকেটও করা হচ্ছে। এসব কারখানায় কেন দিনের বেলা দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় তা জানা নেই সেসব কারখানার শ্রমিক থেকে শুরু করে এলাকাবাসীরও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি কারখানার শ্রমিক জানান, প্রতি ঈদে তারা নকল সেমাই তৈরি করেন। এসব সেমাই খাওয়া যায় ঠিকই কিন্তু আসল সেমাইয়ের স্বাদ পাওয়া যায় না। বেশি খেলে পেটেরও সমস্যা হয়। বাবলু নামের একজন জানান, রমজানের শুরুতে তারা দেশের কয়েকটি কোম্পানি থেকে অর্ডার পান। ফলে ক্রেতারা কোনোভাবেই বুঝতে পারেন না কোনটা আসল আর কোনটা নকল।
তিনি আরও জানান, অনেক সময় তারা একই সেমাই ১০-১২টি কোম্পানির নামের প্যাকেটে ভরে বাজারজাত করেন। ফলে একই সেমাই বাজারে বিভিন্ন নামে পাওয়া যায়।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud