পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

অজ্ঞানপার্টি: রাজধানীর ১২ পয়েন্টে ৩৬ চক্র

Posted on July 13, 2014 | in জাতীয় | by

130710045316ঢাকা: পবিত্র মাহে রমজান এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা সক্রিয় হয়েছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে তারা। রাজধানীর ১২টি পয়েন্টে ৩৬টি চক্র প্রতিদিনই অসংখ্য পথচারীকে নানা ফন্দি-ফিকিরের মাধ্যমে অজ্ঞান করে সর্বস্ব হাতিয়ে নিচ্ছে। রমজান শুরুর আগ থেকেই নগরীতে তাদের আনাগোনা বেড়ে যায়। ২৫ জুন বুধবার দুপুরে রাজধানীর সায়েদাবাদে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে নুরুল ইসলাম নামে বিদেশ গমনেচ্ছু ব্যক্তি। তাকে অজ্ঞান করে সাড়ে ৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা। ১৫ জুন রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে। এরআগে ১১ জুন দিবাগত রাতে রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকায় এক দম্পতিকে অজ্ঞান করে দুই ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৯৫ হাজার টাকা লুটে নেয় এ চক্র। দম্পতিরা হলেন- স্ত্রী আকলিমা (৩৫) ও তার স্বামী বিল্লাল হোসেন (৪৫)। তারা মেরুল বাড্ডার ৬৫/১ নম্বর বাড়িতে থাকেন। ১৪ রমজান পর্যন্ত রাজধানীতে তাদের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। আর রমজানে সারাদেশে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারানো পথচারীর সংখ্যা প্রায় দেড়শ । ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কড়া পাহারাকে ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিনই এই চক্রগুলো কারো না কারো সর্বনাশ করছে। কয়েকটি চক্রকে চিহ্নিত করতে পারলেও ভ্রাম্যমান হওয়ায় তাদের আটক করতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। ইতোমধ্যে অজ্ঞানপার্টির কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ডিএমপি সূত্র জানায়, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা ডিএমপির এলাকাসহ সারাদেশেই বছরের বিশেষ সময়গুলোতে তৎপর থাকে। সাধারণত রোজা, ঈদ, পূজা বা বিভিন্ন জাতীয় উৎসবে যখন বেচা-কেনা বা অর্থলেনদেনের পরিমাণ বাড়ে, তখনই এদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে ডিএমপির এলাকায় এদের তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়। বর্তমানে এদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্য না হলেও একেবারে শেষ হয়নি। দেশের প্রায় সব স্থানে অজ্ঞানপার্টি চক্রের তৎপরতা দেখা যায়। তারা ফুটপাত, লঞ্চঘাট, রেল বা বাস স্টেশন, হাট-বাজার ইত্যাদি জনবহুল জায়গায় হকার হিসেবে অবস্থান করে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করে। এসব খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ডাবের পানি, জুস, চা, কফি, পান, খেজুর, ঝালমুড়ি, শক্তিবর্ধক হালুয়া, ক্রিম জাতীয় বিস্কুট, চকলেট, রঙ্গিন পানীয় ইত্যাদি। আবার কখনও এরা যাত্রী বেশে লঞ্চ, বাস বা ট্রেনে উঠে সরাসরি কারো সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করে অজ্ঞানকারী খাদ্যদ্রব্য খাইয়ে মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায়।

খাদ্যদ্রব্যের সাথে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা পাকিস্তানে তৈরি ‘এটিভেন’ নামক একধরনের ট্যাবলেট খাওয়ায়। তবে সাধারণত শুকনা জাতীয় খাবারে ট্যাবলেট মেশানো হয় না। ‘এটিভেন’ একটি চেতনানাশক ট্যাবলেট, যা কোনো মানুষকে ঘুমের জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন ডাক্তাররা। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা মূলত এক বিশেষ শ্রেণীর প্রতারক। প্রত্যেক অজ্ঞান পার্টিতে সাধারণত কমপক্ষে ৪/৫ জন সদস্য থাকে, যাদের মধ্যে একজনই অজ্ঞানকারী ট্যাবলেট মেশানো খাদ্যদ্রব্য নিয়ে কাজ করে। অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের কাজের প্রথম ধাপ হলো টার্গেট নির্দিষ্টকরণ। এ কাজটি তারা খুবই বুদ্ধিমত্তা, অধিকতর সর্তকতা ও নিপুণতার সঙ্গে করে থাকে। এ চক্রের সদস্যরা দুই ধরনের খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করে। সাধারণ খাবার- যাতে কোনো ধরনের ট্যাবলেট মেশানো হয় না। এটি নিজেরাও খায়। অপরটি হচ্ছে ট্যাবলেট মিশ্রিত খাবার, যা টার্গেট করা ব্যক্তিকে খাওয়ানো হয়। এক্ষেত্রে নগদ টাকা বা মূল্যবান সামগ্রী আছে, এমন ব্যক্তিকে টার্গেট করে তারা। প্রথমে অপরাধীদের মধ্য থেকে ২/১ জন টার্গেট ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করে বিভিন্ন ধরনের আলাপ-আলোচনায় মশগুল করে তোলে। ইশারা দিলে অজ্ঞান পার্টির বিক্রেতা বিভিন্ন ধরনের পণ্য-সামগ্রী বিক্রির ছলে তাদের নিকটে আসে। একপর্যায়ে টার্গেট ব্যক্তির বিশ্বাস যোগ্যতা স্থাপনের জন্য প্রতারক শ্রেণির সদস্যরা তাদের সদস্যদের নিকট থেকে খাবার কিনে খায়। একইসঙ্গে টার্গেট ব্যক্তিকে খাবার খেতে প্ররোচিত করে। টার্গেট ব্যক্তি সম্মত হলে তাকে ট্যাবলেট মেশানো খাবার খাওয়ানো হয়। খাবার খেয়ে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে টার্গেট ব্যক্তি অচেতন হলে তার নিকট থেকে মূল্যবান দ্রব্যাদি নিয়ে চম্পট দেয় তারা। এ অপরাধী চক্র বিভিন্ন সময়ে প্রাইভেটকার, সিএনজি, রিকশা, মোবাইল, টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান দ্রব্যাদি হাতিয়ে নেয়।
রাজধানীর প্রবেশমুখ, বাসস্টান্ড, সদরঘাট, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর, শপিংমল, ব্যাংক এবং নিত্য পণ্যের বাজারসহ বেশ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে দলগতভাবে কাজ করে। নগরীতে প্রায় ৩৬টি চক্র রয়েছে। যারা ১২টি পয়েন্টে নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করে থাকে। এদের মধ্যে কেউ অর্থওয়ালা কোনো ব্যক্তির খবর দেয়, কেউ তার গন্তব্য বা স্থানের খবর নেয়। এরপর আরেক গ্রুপ তাকে অনুসরণ করে। এক গ্রুপ তার সঙ্গে খাতির পাতায়। অপর গ্রুপ হকার সেজে তাকে কোনো কিছু খাইয়ে থাকে। টার্গেট ব্যক্তি অচেতন হলে সঙ্গে থাকা গ্রুপটি তার সর্বস্ব লুট করে নেয়ার দায়িত্ব পালন করে। সংঘবদ্ধ চক্রটি এভাবেই দায়িত্ব পালন করে নাগরিকদের নিঃস্ব করে থাকে। এভাবেই প্রায় প্রতিনিয়ত অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ জনগণ। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের কার্যক্রম। এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ- কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ সর্বদাই সজাগ রয়েছে। প্রত্যেক নাগরিককে বাইরের খাবার গ্রহণে সচেতন হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছে পুলিশ। এছাড়াও মোটা অংকের লেনদেনের সময় পুলিশি সহায়তা নেয়ারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud