April 5, 2026
বিনেদন প্রতিবেদক : একই রকম পোশাক পরে ঈদে ঘুরে বেড়াবেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের দুই নায়িকা। আলোচিত মডেল, অভিনেত্রী নাজনীন আক্তার হ্যাপী ও মিষ্টি জান্নাত ঈদ উপলক্ষে একই রকম পোশাক কিনেছেন।
ঈদের দিন ওই পোশাক পড়ে ঢাকায় ঘুরবেন বলে জানান হ্যাপী। ‘কিছু আশা কিছু ভালোবাসা’ তারকা বলেন, ‘মিষ্টির সঙ্গে আমার বেশ ভালো বন্ধুত্ব। এবারের ঈদে দুই বান্ধবী একই রকম পোশাক পড়ে ঘুরে বেড়াব। এরই মধ্যে কোথায় কোথায় যাবো সেটা ঠিক করে ফেলেছি। এখনই বলতে চাই না। তবে ঈদের দিন খুবই মজা করব।’
হ্যাপী আরও বলেন, ‘প্রতি বছর ঢাকাতেই ঈদ করি। ছোটবেলায় গ্রামের বাড়িতে যেতাম। এবার যাওয়া হচ্ছে না। ঢাকাতে অনেক আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুরা আছে। সবার সঙ্গে আড্ডা, গল্প আর ঘুরাঘুরি নিয়েই সময় কাটবে আশা করছি।’
এবারের ঈদে হ্যাপীর জন্য কিছু স্পেশাল উপহার অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, ‘ঈদে প্রতি বছরই বিশেষ উপহার পেয়ে থাকি। এবারও পাবো। অপেক্ষায় আছি। এরই মধ্যে জেনে গেছি বিশেষ উপহারটি কী হতে যাচ্ছে। হাতে না আসা পর্যন্ত বলতে চাই না।’
বিনোদন ডেস্ক : মুক্তির আগেই মাহিয়া মাহির ঈদের ছবি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে চারদিকে। এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাটানো অগ্নি টু-এর একটি পোস্টারের বিরুদ্ধে নকলের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অন্যদিকে সিনেমাটির অন্যতম পরিচালক ইফতেখার চৌধুরী সিনেমাটি কেন ঈদের সেরা ছবি- এ নিয়ে তার কয়েকটি যুক্তি তুলে ধরেছেন।
এবার ঈদের তিন সিনেমার অন্যতম আকর্ষণ যৌথভাবে প্রযোজিত এই সিনেমাটির দেশিয় প্রযোজক জাজ মাল্টিমিডিয়া ও ভারতীয় প্রযোজক এসকে মুভিজ। সিনেমাটি যৌথভাবে সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের ইফতেখার চৌধুরী এবং ভারতের হিমাংশু।
অগ্নির মতো এই সিক্যুয়ালেও নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মাহিয়া মাহি। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার ওম। এই ছবিতেও ভিন্নধারার অ্যাকশন লুকে দেখা যাবে মাহিকে।
বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে অগ্নি টু্-এর ওপরের পোস্টারটি। এই পোস্টারটির সঙ্গে হলিউডি সিনেমা ইনসার্জেন্ট (২০১৫)-এর একটি পোস্টারের হুবহু মিল দেখা যাচ্ছে। পোস্টার দুটির একটি কোলাজ ছবি বানিয়ে বিভিন্নজন ফেসবুকে শেয়ার করছেন। সেখানে অনেকেই পোস্টার নকলের অভিযোগ এনে সিনেমাটি সংশ্লিষ্টদের সমালোচনা করেছেন।
অনেকেই আবার কৌতুক করে বলেছেন, পোস্টার দুটি কি করে নকল! আমাদের মাহির পা তো এখনো মাটিতেই আছে। আর বিদেশি নায়িকাতো উল্টো হয়ে আকাশে উঠে গেছে!’
এদিকে ইফতেখার চৌধুরী সিনেমাটিকে অন্যগুলো থেকে আলাদা বলে দাবি করেছেন। তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ইংরেজিতে যা লিখেছেন তার বাংলা করলে দাড়ায়-
‘অন্য সিনেমার চেয়ে যে কারণে অগ্নি টু আলাদা … ১. আন্তর্জাতিক মানের কাস্টিং, ২. দারুণ মারামারি, ৩. লোকেশন, লোকেশন, লোকেশন, ৪. দারুণ সংগীত (গান ও আবহ সংগীত), ৫. ৫.১ সারাউন্ড সাউন্ড, ৬. সবশেষে সিনেমাটির নির্মাণ আমি দারুণ উপভোগ করেছি। সুতরাং দারুণ অভিজ্ঞতার জন্য অগ্নি টু উপভোগ করুন।’
অগ্নি টু সিনেমাটি ঈদে মুক্তির পর পরই বিশ্বের আরো ৮টি দেশে প্রদর্শিত হবে। জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ জানিয়েছেন, ঈদের পর আগামী ১৪ আগস্ট থেকে ভারত, চীন (চায়না ভাষায়), হংকং, মালেশিয়া (মালয় ভাষায়), ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ইটালি ও আমেরিকা’তে প্রদর্শিত হবে সিনেমাটি।
বিনোদন সেস্ক : শোবিজে যারা অনস্ক্রিন কাজ করেন তাদের সারা বছরই সিনেমার শুটিংয়ের জন্য নতুন নতুন পোশাক কিনতে হয়। এর পরও ঈদ বলে কথা। শোবিজ তারকারাও ঈদের কেনাকাটা থেকে দূরে নেই। কেউ এরই মধ্যে ঈদের শপিং শেষ করে ফেলেছেন। আবার কেউ কিছু কিনেও আরো কিছু কেনাকাটা বাকি রেখেছেন চাঁদ রাতের জন্য। ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়কেদের কেনাকাটা নিয়ে রাইজিংবিডির এ বিশেষ প্রতিবেদন।
চাঁদ রাতে মার্কেটে যাবো : অমিত হাসান
কেনাকাটা করার সুযোগ পাইনি। বাসায় কেনাকাটা হয়েছে বেশ কয়েকবার। আমি এখনও মার্কেটে যেতে পারিনি। তবে চাঁদ রাতে মার্কেটে যাবো। তবে নিজের জন্য কিছু কিনতে নয়। আমার স্ত্রী ও অন্যদের উপহার দেয়ার জন্য। আমার জন্য উপহার অনেক চলে এসেছে। তাই পছন্দের কিছু পেলে কিনব আর পছন্দ না হলে কিনব না।
অনেক উপহার চলে এসেছে : আমিন খান
ঈদের কেনাকাট অলমোস্ট শেষ। প্রথমে আমার নিজেরটা কেনা হয় না। প্রথমে পরিবারের অন্যদের জন্য কেনা হয়। তার পরে যাদের উপহার দেয়া হয় তাদের জন্য কিনি। এর পরে অনেক সময় আমারটা খুব একটা কেনাকাটা করা হয় না। কারণ আমার স্ত্রী সব সময়ই আমাকে বিভিন্ন কিছু উপহার দেয়। এছড়া অন্যেরাও উপহার দেয়। এজন্য নিজেরটা আর কেনা দরকার হয় না। গিফটের ড্রেস পরতেই ভালো লাগে। বিশেষ করে আমার স্ত্রী দেওয়া উপহারের পোশাক পরতে বেশি ভালো লাগে। এরই মধ্যে অনেক উপহার চলে এসেছে।
কেনাকাটা শব্দটাই বাদ দিয়েছি : ওমর সানি
সাত-আট বছর ধরে কেনাকাটা শব্দটাই বাদ দিয়েছি। মাঝে-মধ্যে বউ, ছেলে-মেয়ে, অথবা বোন কিনে দেয়। আমি নিজে কোনো কিছু কিনি না।
মায়ের জন্য আগে শাড়ি কেনা হয়েছে : আনিসুর রহমান মিলন
আমি আসলে নিজের জন্য সব সময় ঈদের আগের দিন কেনাকাটা করি। ঈদের দিনের জন্য একটা নতুন পাঞ্জাবি পরা প্রয়োজন বলে একটি নতুন পাঞ্জাবি ও পাজামা কিনি। কখনও স্যান্ডেল কিনি কখনও কিনি না। আমাদের বাসার রেওয়াজ সবার প্রথমে বাসার মুরব্বিদের জন্য আগে কিনতে হবে। আমার মা সবার মুরব্বি। তাই মায়ের জন্য আগে শাড়ি কেনা হয়েছে। এটা অনেক আগে থেকে আমাদের পরিবারের রেওয়াজ। এরপরে অন্যান্যদের জন্য কেনা শুরু হয়। আমাদের পরিবারে প্রয়োজনের বাহিরে কেনাকাটা করি না। একটি নতুন ড্রেস প্রয়োজন তাই একটি নতুন ড্রেসই কেনা হয়।
চাঁদ রাতেই কিনি সবসময় : চঞ্চল চৌধুরী
ঈদের কেনাকাটা এখনও করা হয়নি। আরো পরে শপিং করব। চাঁদ রাতেই কিনি সবসময়।
আরো কিছু কিনতে হবে : সাইমন সাদিক
ঈদের কেনাকাটা শেষ করেছি। এবারের ঈদে পাঞ্জাবি কেনা হয়েছে কয়েকটা। অন্যান্য জিনিস কম কেনা হয়েছে। কারণ সারা বছরেই এগুলো কেনা হয়। গিফ্ট দেয়ার জন্য কেনাকাটা করেছি, আরো কিছু কিনতে হবে।
স্ত্রী জন্য কিছু শপিং হয়েছে : ইমন
কেনাকাটা এখনও করতেছি। ঈদের জন্য পাঞ্জাবি কেনা হয়। শুটিংয়ের জন্য সারা বছরই কেনাকাটা করতে হয়। তার পরও ঈদের জন্য শখ করেই কেনাকাটা করতে যাওয়া। আমার স্ত্রী জন্য কিছু শপিং হয়েছে আরো কিছু বাকি আছে।
পাঞ্জাবি-পাজামা কেনা হবে : নিরব
আমি এখনও কোন কিছু কিনি নি। বউয়ের জন্য একটা ড্রেস কেনা হয়েছে। পাঞ্জাবি-পাজামা কেনা হবে।
পরিবারের সবার জন্য কিনবো : আরেফিন শুভ
ঈদের কেনাকাটা করার তেমন সময়ই পাইনি। অনেক দিন দেশের বাহিরে ছিলাম। খুব শিগগিরি ঈদের কেনাকাটা শুরু করব। প্রতিবছরই ঈদের অনেক উপহার পাই, এবারও পাচ্ছি। নিজের জন্য তেমন কিছু কিনি না। পরিবারের সবার জন্য কিনব। এবারে আমার সহর্ধমীনির জন্য স্পেশাল কিছু কিনব।
আব্বু-আম্মুর জন্য কেনাকাটা করব : শাহরিয়াজ
ঈদের কেনা-কাটা করব তবে নিজের জন্য নয়। আব্বু-আম্মুর জন্য কেনাকাটা করব। ঈদের জন্য কেনাকাটা করা আমার ইচ্ছে নেই।
বিনোদন ডেস্ক : নারী অঙ্গে কত না রুপ! আর যে অভিনেত্রী তার তো নিজেকে নানা রুপে উপস্থাপন করতে হয়! সেক্ষেত্রে অভিনেত্রী নিজেকে যত রকমভাবে মেলে ধরতে পারেন ততোই যেন তার খ্যাতি, স্বীকৃতি। বলিউডের উদীয়মান অভিনেত্রীদের তালিকায় থাকা রাধিকাও সেটা জানেন ভালো করে। নিজের নামকে তারকাদের তালিকায় ওপরে দিকে টেনে তুলতে একই সঙ্গে তিনি অভিনয় করেছেন দুটি ভিন্ন রুপে দুই সিনেমায়।
এর একটিতে তাকে পাওয়া যাবে কামনার প্রতিমূর্তি রুপে। আর একটি তিনি চিরায়ত প্রেমের মূর্তি। দুটি ভিন্ন স্বাদের ছবিতে আলাদা-আলাদা চরিত্রে এবার রাধিকা আপ্তে। সম্প্রতি রাধিকার আগামী দুই সিনেমা সুজয় ঘোষের অহল্যা ও কেতন মেহেতার মানঝি- দ্য মাউটেন্ট ম্যান-এর ট্রেইলার মুক্তি পেয়েছে।
দেখুন : অহল্যা সিনেমার ট্রেইলার
রহস্যের মোড়কে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অহল্যার ট্রেইলারে সাসপেন্স বজায় রেখেছেন পরিচালক। রাধিকা ছাড়াও এখানে রয়েছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, টোটা চৌধুরী। টোটাকে এখানে পুলিশের চরিত্রের অভিনয় করতে দেখা যাবে। যে পাথর রহস্যের সমাধান করতে আসে রাধিকার বাড়ি। এটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের কোনো সিনেমা নয়, শর্ট ফিল্ম।
দেখুন : মানঝি সিনেমার ট্রেইলার
অন্যদিকে মানঝি, এক প্রেমের কাহিনি। ‘যব তাক তোরেগা নেহি তব তাক ছোড়েগা নেহি’ হ্যাঁ এই প্রেমের এতটাই জোর যে পাহাড় ভেঙে সমতল করার ক্ষমতা রাখে। এই চলচ্চিত্রে রাধিকার বিপরীতে দেখা যাবে নাওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকিকে। নাওয়াজই সেই মাউন্টেন ম্যান যে পাহাড় ভেঙে আত্রি ও ওয়াজির গঞ্জের মধ্যে একটি রাস্তা তৈরি করে। কিন্তু কেন? তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে সিনেমা মুক্তির দিন পর্যন্ত। এই সিনেমার গল্প রূপকথার মতো শোনালেও তা কিন্তু সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি।
আব্দুর রাজ্জাক : প্রায় সময় দেখা যায় শোবিজের তারকারা বিয়ে নিয়ে কোনো এক অজানা কারণে লুকোচুরি খেলেন, খেলতে ভালোবাসেন। এই ঘটনা শোবিজের রঙিন দুনিয়ায় একেবারেই প্রাচীন। তবে নতুন করে চোখে পড়ার মতো একটি বিষয় হলো, আজকাল আমাদের অনেক তারকারাই বিয়ে করে চিরবিদায় জানাচ্ছেন মিডিয়াভুবনকে। আর এক্ষেত্রে নারীরাই উল্লেখ্য। মান-মর্যাদা, সামাজিক স্ট্যাটাসের তোয়াক্কা না করে টাকার কুমির কিংবা বিত্তশালীদের গলায় মালা দিয়ে অনেক নারী তারকারা ত্যাগ করেছেন জ্বলজ্বলে ক্যারিয়ার, জনপ্রিয়তা আর কাট-অ্যাকশানের হাঁক ডাক। এ নিয়ে শোবিজে বিস্তর গবেষণা চলে প্রতিদিন। বিয়ে করেই কেন মিডিয়া ছেড়ে দেন কিছু তারকা? এসব যুক্তিতর্কে বারবার উঠে আসে তারকাদের ছোটলোকি মন, অকৃতজ্ঞ স্বভাব আর মিডিয়া-দর্শকদের সঙ্গে নীরব প্রতারণার বৈশিষ্ট। কেননা, তারকারা খ্যাতি পান মিডিয়ার জন্য, দর্শকদের জন্যই। হয়তো তারা নিজেদের মেধার বাহাদুরি করতে চাইবেন। কিন্তু এটা এক বাক্যে তাদের মানতে হবে, প্রচারণা না থাকলে, দর্শকদের কাছে না পৌঁছালে সুপ্ত মেধার কোনো মূল্য নেই। তাই সবাই আজকাল প্রকাশ্যেই বলাবলি করেন, এইসব তারকারা মূলত আসেন নাম-যশ কামিয়ে টাকাওয়ালা বরের সন্ধাণ করতেই। আর যখন সেটি পেয়ে যান তখন আর ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবেন না। চলুন দেখে নেই বিয়ে করে শোবিজকে বিদায় জানানো তারকাদের নামগুলো।
সারিকা
২০০৬ সালে একটি মোবাইল কোম্পানির মডেল হয়ে শোবিজে অভিষেক ঘটে মডেল ও অভিনেত্রী সারিকার। এর চার বছর পর আশুতোষ সুজনের ‘ক্যামেলিয়া’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু করেন। তবে অমিতাভ রেজার পরিচালনায় একটি বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়ে ২০০৮ এর দিকে মিডিয়ায় হৈ চৈ ফেলে দেন সারিকা। তারপর বাকিটা ইতিহাস। পত্রিকার বিনোদন পাতায়, টেলিভিশন, পর্দায়, বিলবোর্ডে এবং সাধারণ মানুষের মনে অল্প সময়েই জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। তবে সবকিছু ছাপিয়ে মডেলিংয়ে পেয়েছিলেন একচেটিয়া জনপ্রিয়তা। একজন আদর্শ বউ হয়ে উঠার স্বপ্ন নিয়ে সেই লোভনীয় ক্যারিয়ারকে তিনি ‘গুডবাই’ বলে দিলেন বিয়ের পর! হ্যাঁ, সবাই অবাক হয়েছিলো সারিকার এই সিদ্ধান্তে।
গেল বছরের ১২ অগাস্ট, মঙ্গলবার এক অনাড়ম্বর আয়োজনের মাধ্যমে সাত বছরের বন্ধু মাহিম করিমের সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন সারিকা। পুরান ঢাকার লক্ষীবাজারের বাসিন্দা মাহিম পেশায় একজন ব্যবসায়ী।
উল্লেখ্য, সারিকা অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে মোহন খানের ‘রাধা তুমি কার’, এস এ হক অলিকের ‘গেন্দুচোরা ও প্রেমকাহিনী’, হিমেল আশরাফের ‘প্রেমের বেদনা’, চয়নিকা চৌধুরীর ‘আহা বালিকা’ ও ‘বিকেলে সোনা রোদ’, সাইফ চন্দনের ‘একটু বোকামি অনেকটা পাগলামী’ ইত্যাদি।
আফসান আরা বিন্দু
লাক্স-চ্যানেল আইয়ের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন তিনি। আর এই প্রতিযোগিতা মিডিয়ায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার একটি প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে বিন্দুকে। পরবর্তীতে হুমায়ূন আহমেদের গল্প এবং তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় নির্মিত ‘দারুচিনি দ্বীপ’ চলচ্চিত্রটি দিয়েই মিডিয়ায় অভিষেক ঘটেছিল তার। এছাড়াও বেশ কিছু বিজ্ঞাপন ও নাটকের অভিনয় দিয়ে তিনি খুব সহজেই পৌঁছে যান দর্শকদের অন্তরে। দ্রæতই পরিণত হন শোবিজের চাহিদা সম্পন্ন একজন শিল্পীতে। পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও তিনি বাজিমাত করেন নতুন মুখ হিসেবে। ‘পিরিতের আগুন জ্বলে দ্বিগুণ’ ও ‘জাগো’ ছবির মাধ্যমে বিন্দু নিজেকে প্রমাণ করেছেন বড়পর্দায়। সর্বশেষ চলতি বছরেই মুক্তি পাওয়া ‘এই তো প্রেম’ নামের আরেকটি ছবিতে শাকিবের বিপরীতে কাজ করে তিনি অনেক সম্ভাবনার জন্ম দেন। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্যি, সব সম্ভাবনার ইতি বিন্দু নিজেই টেনে দিলেন নিজের উড়ন্ত ক্যারিয়ারের।
সম্প্রতি বিয়ে করেছেন এই লাক্স তারকা। পাত্র আসিফ সালাহউদ্দিন মালিক। তিনি আসিফ অ্যাপারেলস লিমিডেটের কর্ণধার। কুমিল্লার ছেলে আসিফ রাজধানীতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সেই আসিফের জীবন সঙ্গী হয়েই বিন্দু ঘোষণা দিলেন, আর কাজ করবেন না শোবিজে। এই সিদ্ধান্তের কোনো নড়চড় হবে না বলেও নিশ্চয়তা দেন বিন্দু। তিনি বলেন, ‘আমার পক্ষে আসলে একসঙ্গে দু’টি বিষয় চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এখন থেকে নিজেকে পুরোপুরিভাবে পরিবারের কাজে নিয়োজিত করতে চাই।’ তবে এতদিন যাদের জন্য তিনি আজকের বিন্দুতে পরিণত হয়েছেন সেইসব দর্শকরা তাকে মিস করলে কী করবেন- জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বিন্দু।
সাহারা
অনেক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে চলচ্চিত্রের আঙিনায় পা রেখেছিলেন লাস্যময়ী নায়িকা সাহারা। ২০০৩ সালে অভিষেক হয় তার। অনেক পরিশ্রম করে ঢাকার চলচ্চিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক তারকার সঙ্গে জুটি বাঁধলেও তার সফল চলচ্চিত্রগুলোর নায়ক শাকিব খান। সব মিলিয়ে ৫০টির মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তারমধ্যে বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’ তার অভিনীত সবচেয়ে আলোচিত চলচ্চিত্র। এতেও তার বিপরীতে ছিলেন শাকিব খান। সর্বশেষ গেল বছরের শুরুর দিকে মুক্তি পায় সাহারা অভিনীত ‘তোকে ভালোবাসতেই হবে’ চলচ্চিত্রটি।
এরপর তাকে আর মিডিয়ায় দেখা যায়নি। তখন থেকেই গুঞ্জন উঠেছিলো তবে কী অভিনয় ছাড়ছেন সাহারা। খোঁজ নিতেই জানা গেলো কোনো এক প্রযোজকের সাথে প্রেম করছেন তিনি। সেই প্রেমিকের ইচ্ছেতেই অভিনয় করছেন না। আর গেল ৮ মে, শুক্রবার জানা গেলো সেই প্রেমিকের নামটাও। তিনি ‘ঢাকা টু বোম্বে’ ছবির প্রযোজক মাহবুবুর রহমান মনি। ওইদিন তার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সাহারা। আর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে, নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানেই মিডিয়া ত্যাগের ঘোষণা দিলেন। এখন থেকে আর দর্শকদের মনোরঞ্জন নয়; সংসার সামলাবেন সাহারা।
শায়না আমিন
বদরুল আনাম সৌদের ‘ক্রস কানেকশন’ নাটকের মাধ্যমে ছোট পর্দায় পা রাখেন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী শায়না আমিন। এরপর বেশ কিছু বিজ্ঞাপন ও নাটকে কাজ করেন। ‘গুড়া মশলা’, ‘রমজানের ইফতার`’, ‘রেক্সনা’র বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হয়ে তিনি দারুণ প্রশংসিতও হন। পাশাপাশি আবু আল সাঈদের ‘প্রেমের অঙ্ক’, ‘এলমি নো’, ধারাবাহিক ‘লোকালয়`’, আরিফ খানের ‘মন উচাটন’সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করে অল্পদিনেই তারকাখ্যাতি অর্জন করেন।
সেই সুবাদে নাম লিখান চলচ্চিত্রের রুপালী পর্দায়। ২০১১ সালে কাজ করেন ‘মেহেরজান’ নামেরি একটি চলচ্চিত্রের নাম ভূমিকায়। প্রেম ও মুক্তিযদ্ধের গল্প নিয়ে তৈরি এই ছবিটি নিয়ে বিতর্ক হলেও প্রশংসিত হয় শায়নার অভিনয়। ২০১২ সালে মুক্তি পায় শায়নার দ্বিতীয় ছব ‘পিতা’। এটিও ছিলো মুক্তিযুদ্ধের গল্প নির্ভর চলচ্চিত্র। আর চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারী মুক্তি পাওয়া নার্গিস আক্তার পরিচালিত বাণিজ্যিক ছবি ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ মুক্তির পর নির্মাতারা যখন শায়নাকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন তখনই বিয়ে করে সংসারী হবার ইচ্ছে নিয়ে দেশ ছাড়েন শায়না। লন্ডনে গিয়ে মাসুদ রানা নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে বিয়ে করেছেন তিনি। সেখানেই পেতেছেন সুখের সংসার। প্রায় ৪ মাস হয়ে গেল দেশে ফিরছেন না। শোনা যাচ্ছে শোবিজে আর কাজ করার ইচ্ছে নেই শায়নার। অবশ্য তার দ্বিতীয় স্বামী রানারই আপত্তি। তিনি চান না শায়না অভিনয় করুক।
লামিয়া
ভিট চ্যানেল আই টপ মডেল ২০১৪’র প্রথম রানার্সআপ হয়েই তার রঙিন জীবনে পদার্পণ। তারপর কাজ করেছেন নাটকে। তিনি সাদিয়া ইসলাম লামিয়া। সম্প্রতি সায়মন তারিক পরিচালিত ‘মাটির পরী’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। এটি এখন মুক্তির অপেক্ষায় আছে। কিন্তু ক্যারিয়ারে নতুন পালক যোগ হবার আগেই সব কিছুর ইতি টানলেন লামিয়া। গেল মে মাসেই বিয়ে করে, বিয়ের অনুষ্ঠানেই সাংবাদিকদের কাছে ঘোষণা দিলেন ‘শোবিজে আর কাজ করব না’। এসময় লামিয়া বলেন, ‘এখন সংসার নিয়ে থাকতে চাই। তাই অভিনয়ে আপতত আমাকে দেখা যাবে না।’ তবে ভবিষ্যতে কবে নাগাদ দেখা যাবে সে বিষয়েও কিছু বলেননি লামিয়া। তার নীরবতাই বলে দিয়ে যায়, মিডিয়া থেকে নিজের নামটি মুছে দিতেই চলেছেন তিনি। উল্লেখ্য, গেল ১৪ মে মিরপুরের একটি অভিজাত রেঁস্তোারায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় লামিয়ার। তার বর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নৃত্য পরিচালক তানজিল আলম।
এই উল্লেখ করা পাঁচ তারকা ছাড়াও চলচ্চিত্রাভিনেত্রী রেসি, জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী রোমানা, কণ্ঠতারকা সোনিয়াসহ আরো অনেক তারকাই বিয়ে করে মিডিয়া ছেড়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রয়েছেন যারা বিয়েটাও করেছেন লুকিয়ে। তবে একথা বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের শিল্পী সঙ্কট; বিশেষ করে মেধাহীন শিল্পের এই বাজারে মিডিয়া ছেড়ে দেয়া এইসব সফল ও জনপ্রিয় তারকাদের শূন্যস্থান সহজে পূরণ হবে না। তাদের যেমন মিস করবে ভক্ত-দর্শকেরা, ঠিক তেমনি তাদের অভাবে ভুগবে আমাদের শোবিজ। তাই আর কোনো নতুন তারকা যেন এমন আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত না নেন, সেই শুভকামনা রইল।
বিনােদন ডেস্ক: আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করে ঝড় তুললেন বলিউডের সুপারমডেল সোফিয়া হায়াত ! বরাবরের মত এবারও মন্তব্য করেছেন বলিউডের এক জনপ্রিয় তারকাকে নিয়ে। আর সেই তারকা হলেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা হৃতিক রোশন !
সম্প্রতি তিনি হৃতিক রোশনকে নগ্ন অবস্থায় দেখতে চেয়ে তার মনের ইচ্ছার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন। আর তার পর থেকেই সোফিয়ার এমন মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলে দিয়েছেন হৃতিক ভক্তরা।
সম্প্রতি সোফিয়া এক সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস দিয়েছেন ”আমি হৃতিক রোশনকে নগ্ন অবস্থায় দেখতে চাই”। তবে শুধুমাত্র হৃতিকই নন, আরও অনেক তারকাকেই পোশাকহীন অবস্থায় দেখতে চান তিনি। সেই লিস্টে রয়েছেন হলিউড তারকা ব্র্যাডলি কুপার ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলিও !
হৃতিক ভক্তরা দাবী করেছেন সোফিয়া মানসিকভাবে অসুস্থ ! তাই বলিউড থেকে তাকে বিতাড়িত করা হোক। দেখা যাক হৃতিক ভক্তদের এমন জোরালো ক্ষুদ্ধ ভূমিকায় শেষ পর্যন্ত কি অবস্থা হয় সোফিয়ার। উল্লেখ্য, এর আগে নিজের স্নানের দৃশ্য ইন্টারনেটে ছেড়েও ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি।
বিনোদন ডেস্ক : সামিউল আলম রাজন। সিলেট মহানগরীর কুমারগাঁওয়ে ১৩ বছরের কিশোর। ৮ জুলাই বুধবার তাকে হত্যা করে গুম করার সময় পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। রাজনকে হত্যার আগে একটি দোকানের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে প্রায় দেড় ঘণ্টা নির্যাতন করা হয়। এ সময় পানির জন্য আকুতি জানালেও রাজনকে এক ফোটা পানি দেয়নি নির্যাতনকারীরা।
লাশ উদ্ধারের পর এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ছড়িয়ে পরে বিভিন্ন মাধ্যমে। আর প্রতিবাদের ঝড় উঠে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকেও। এমন হৃদয় বিদারক ঘটনায় মর্মাহত হয়ে প্রতিবাদে ফেসবুকে ফুসে উঠেছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও।
এ সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন- ‘রাজন ভাইয়াটা আমার..। বারো আউলিয়া যেই মাটিতে শুয়ে আছে সেই মাটিতে কিভাবে ওই মানুষরূপি জানোয়ারগুলো দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমি জানি না … সারা সিলেটবাসী এবং আমরা সবাই হয়ত অন্ধ হয়ে গেছি…।
ভাইয়া আমার, তুমি প্রচন্ড কষ্ট পেয়ে , তীব্র পিপাসা নিয়ে চলে গেছ ঠিকই কিন্তু আমাদের দিয়ে গেছ প্রিয়জনের কবর খোড়ার মতো কষ্ট (কারণ তোমাকে বাঁচাতে পারিনি) আর বানিয়ে গেছ চরম পিপাসার্ত (কারণ তোমাকে যারা মৃত্যুর সময় একটু পানি খেতে দেয়নি তাদের মৃত্যু না দেখে আমাদের তৃষ্ণা যাবে না)। তুমি যেখানেই থাক ভালো থেক। আর এটা মনে করে শান্তি পেয় যে, এই দুনিয়াটা তোমার যোগ্য ছিল না। ফি আমানিল্লাহ।’
জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী আক্ষেপ করে লিখেছেন- ‘কেন আমি আজকে ফেসবুকে ঢুকতে গেলাম? আর কেনই বা এই বিভৎস ঘটনা জানলাম ? হয়তো এই ঘটনার বিচার হবে, অপরাধীর শাস্তিও হবে । কিন্তু যে কালি মনে লেগেছে, এটা মুছবে কেমনে?’
জনপ্রিয় উপস্থাপক আবদুন নূর তুষার লিখেছেন- ‘রাজন এর বয়স মাত্র ১৩ । তার পক্ষে কি একটা আস্ত রিকশা ভ্যান চুরি করা সম্ভব? এই বয়সে এমন নিষ্পাপ চেহারার ফোলা ফোলা গাল এর একটি শিশুর হয়তো ঘুড়ি ওড়ানোর কথা, রিকশার টায়ার কাঠি দিয়ে ঘোরানোর কথা , লাফ দেবার কথা পুকুরে, অন্যের গাছ থেকে একটা দুটো আম বা পেয়ারা পাড়ার কথা। স্কুলে যাবার কথা, মাত্র বড় হচ্ছে, তাই গলাটা ভেঙ্গে পুরুষ হবার মাঝপথে লাজুক সময় পার করার কথা।
একদল পাষন্ড, নরাধম, বিকৃত মস্তিষ্ক নরকের কীট তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
মোবাইল ফোন দিয়ে এই নির্মম, অমানবিক বিভৎস অত্যাচার এর দৃশ্য ভিডিও করে ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে। এই নির্মমতা আমি চোখে দেখার শক্তি অর্জন করি নাই। আমি কেবল স্থির দৃশ্য গুলি দেখে আতংকিত, ভীত এবং অপরাধীদের প্রতি ঘৃণায় নিমজ্জিত হয়েছি, চোখ ভাসিয়ে কেঁদেছি।
যখন এই পশুরও অধম, বেজন্মাগুলি রাজনকে অত্যাচার করছিল, কি ভেবেছিল সে? তার মায়াভরা চোখ দুটি দেখেও সামান্য দয়া হয়নি এই নরকের জ্বালানীগুলির। খবরে পড়লাম, সামান্য পানি চেয়েছিল রাজন। তাকে নিজের ঘাম খেতে বলেছে এই অত্যাচারী কীটানুকীটগুলি।
এই রমজান মাসে, সংযমের মাসে নাকি শয়তানেরও লজ্জা হয় অন্যায়ে। আর এই নির্দয়, নিষ্ঠুর, বিকৃতমস্তিষ্ক সাইকোপ্যাথদের হাতে ঠান্ডা মাথায় নিহত হয়েছে রাজন। রাজন গরীবের ছেলে, রাজন এর জীবন তাই বলে মূল্যহীন হতে পারে না। রাজন তো আমার সন্তান, আমার পুত্র, আমার আত্মীয়।
বাংলাদেশের ক্রিকেট জয়ে উদ্বেল আনন্দের একটি দিনে আমি কেবলি কেঁদেছি। এই কান্না অপারগতার, অক্ষমতার, অসহায়ত্বের। এই কান্না নিজের দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি অবিশ্বাসের। রাজনের হত্যার বিচার না হলে, কেবল চুপ করে থাকার জন্য আমাদের সবার শাস্তি হওয়া দরকার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী , আপনার কাছে সবিনয় অনুরোধ জানাই। দেশে কত অপরাধীর কত রকম শাস্তিই না হয়। নাহয় দেশ থেকে কয়েকটি নরাধম এর বিচার হোক দ্রুততম সময়ে। আপনি নির্দেশ দিন। প্রতিটি অপরাধী বন্দী হোক।
আমরা দেখি এই কীটস্য কীটগুলির মৃত্যুদন্ড হোক রাজপথে। দেশে কত ক্রসফায়ার, কত এনকাউন্টার। অন্তত একটিবার আমি “বিচার ছাড়া বিচারে” সমর্থন দিতে চাই। ক্রসফায়ার চাই, এনকাউন্টার চাই। কে কি চায় জানি না, আমি চাই রাজনের হত্যাকারীদের মৃত্যু নিশ্চিত হোক, তাদের লাশ গলে পচে শকুনের খাবার হোক।
এই শিশু হত্যা শুধু নয়, এই হত্যাকান্ডটি যেভাবে তারা ছড়িয়ে দিয়েছে ভিডিও করে, একই ভাবে তাদের বিচারের দৃশ্যও ছড়িয়ে দেয়া হোক। প্রতিটি অত্যাচারী জানুক, সাবধান হোক, অত্যাচারের পথ থেকে সরে আসুক। সবাই জানুক দেশের প্রতিটি শিশু মূল্যবান, সুরক্ষিত।
রাজনের মৃত্যু আমাদের সকলকে অপরাধী করে দেয় যদিনা আমরা তার হত্যার বিচার নিশ্চিত না করি। আর কিছু নয়, কেবল চোখের বদলে চোখ চাই, রক্তের বদলে রক্ত চাই। রাজনের হত্যাকারীদের মৃত্যুদন্ড চাই। আজ ১৩-৭-২০১৫ শাহবাগে সকলে একত্রিত হবে বিকাল চারটায়। সময়ক্ষেপন নয়, কালবিলম্ব নয়। রাজন হত্যার বিচার চাই। বাংলাদেশ মানুষের দেশ, ইতরের নয়। এই দেশ কোন মৃত্যু উপত্যকা নয়।
প্রিয় রাজন, ক্ষমা করে দিও এই নপুংসক সমাজকে, ক্ষমা করে দিও এই অক্ষমতাকে। আমরা তোমার জন্য একটি নিরাপদ দেশ দিতে পারি নাই। এই অপারগতার দায়মোচন সম্ভব নয়। আমরা আর কোন রাজনকে এভাবে মরতে দেবো না। তোমাকে যারা কষ্ট দিয়ে, যন্ত্রনা দিয়ে জীবন কেড়ে নিয়েছে, আমরা তাদের মৃত্যুদন্ড চাই।
অভিনেতা সোয়েভ ইসলাম লিখেছেন, ‘রাজন আমাদের সাবাইকে ক্ষমা করে দিও ভাই।’ কণ্ঠশিল্পী সাবরিনা হক সাবা লিখেছেন- ‘আর কত কিছু এভাবে মুখ বুঝে সহ্য করে যাব? সবাই কী ভুলে গেছে আমরা কোরবানীর পশু না। আমরা মানুষ। যাদের মুখ ফুটে কথা বলার শক্তি আল্লাহ দিয়েছেন অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে। তবুও চুপ কেন সবাই? তিব্র নিন্দা জানাই প্রশাসনকে!’
গাড়িওয়াল খ্যাত নির্মাতা আশরাফ শিশির লিখেছেন- ‘শিশু রাজনকে এভাবে বর্বরোচিতভাবে হত্যাকারীদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
জনপ্রিয় নাট্যকার মাসুম রেজা লিখেছেন- ‘আমি মরি যাইরাম, আমারে কেউ বাঁচাওরে বা.. আকুতি করো না রাজন। তুমি মারা গেছো.. চোখ খোলার চেষ্টা করো না তুমি মারা গেছো..। যে তোমাকে বাঁচাতে পারতো তার নাম মানবতা.. তোমার আগেই সে খুন হয়ে গেছে..। দুঃখ পেওনা যে দেশ ছেড়ে তুমি চলে গেছো সে দেশ কখনই তোমার ছিলো না..। তোমার বাবা মন্ত্রী না আমলা না.. রাজনীতিবিদ না.. এই দেশ তবে তোমার কিভাবে? তুমি মনিরের চেয়ে আরো ক’টা দিন বেশী বেঁচে গেলে এই নিয়ে খুশী থেকো..। তোমার জন্যে বিচার চাইবো কেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি অন্ধ..? তোমাকে হত্যার চিত্র কী তিনি দেখেননি? তিনি কি মানুষ নন? মানুষ হলে কেন তিনিও আমাদের মতো চিৎকার করে বলবেন না.. রাজনের হত্যাকারী নরপশুদের রেহাই নাই..।’
আবৃত্তিকর্মী জোবায়দা লাবনী তার ফেসবুকে লিখেছেন- ‘সারারাত ঘুমুতে পারিনি ঠিকঠাক। ঘুমুতে গেলেই কেবল আর্তনাদ শুনেছি – ও মাইগো ও মাইগো। দু চোখে বারবার ভেসে উঠছিল বারবার আশায় বুকবাঁধা আতংকগ্রস্ত, যন্ত্রণাক্লিষ্ট একটি মুখের ছবি- এই বুঝি তাকে ছেড়ে দিবে। এই বুঝি শেষ হবে পাশবিকতার। অবশেষে মৃত্যুতেই হলো তার সকল যন্ত্রণার অবসান!! হত্যাকে উৎসব ভেবে যারা পার্কে, ক্যাম্পাসে মাঠে বাজারে বিষাক্ত গ্যাসের মতো মৃত্যুর বিভৎস গন্ধ দিয়েছে ছড়িয়ে, তাদের জন্য কোনো শাস্তিই যেন আজ যথার্থ মনে হচ্ছে না। তবু দাবী একটাই- বিচার চাই।’
বিনােদন ডেস্ক: ঈদ-উল-ফিতরে মুক্তি পাচ্ছে না শাকিব খান ও পরীমনি অভিনীত ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ সিনেমাটি। সিনেমার পরিচালক এস এ হক অলিক নিশ্চিত করেছেন, সিনেমাটির কাজ এখনও শেষ হয়নি। অলিক বলছেন, “সিনেমাটির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এ মুহূর্তে সিনেমাটি ভারতের একটি স্টুডিও ল্যাবে রয়েছে। ল্যাব থেকে আমাকে জানানো হয়েছে, ঈদের আগে সিনেমাটির কারিগরী দিকগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব না। আমিও ভাবলাম তাড়াহুড়ো করব না। সিনেমাটি ১০০% পারফেক্ট করে তবেই মুক্তি দেব।”
রিয়াজ-পূর্নিমা জুটির ‘হৃদয়ের কথা’ এবং ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’র মতো সিনেমার এই পরিচালক বলছিলেন, ঈদের পরই ভারতে গিয়ে তিনি সিনেমাটির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শেষ করবেন। তারপর ভালো একটি সময়ে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করবেন।
এদিকে ঈদে সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে না বলে মন কিছুটা খারাপ হলেও হতাশ হননি পরী, “সিনেমাটি নিয়ে আমার অনেক আশা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আমরা সিনেমাটির কাজ পুরোপুরি শেষ করতে পারিনি। আমি চাই না, আমার এই দারুণ সিনেমাটি অসম্পূর্ন অবস্থাতেই মুক্তি পাক। সিনেমাটির কাজ পরিপূর্ণভাবে শেষ হলে তবেই মুক্তি পাক। আমি হতাশ হইনি মোটেও।”
এবার ঈদ-উল-ফিতরে তাই অপু বিশ্বাস ও মাহিয়া মাহির সঙ্গে টক্কর দেওয়া হচ্ছে না পরীমনির। তবে ঈদ-উল-আযহায় তার কোনো একটি সিনেমা মুক্তি পেতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন।
সিনেমার নায়ক শাকিব খানের বরাত দিয়ে পরিচালক অলিক গ্লিটজকে বলেছেন, “সিনেমাটি নিয়ে শাকিবেরও প্রত্যাশা ছিল। সে যখন শুনলো, সিনেমাটি আসছে না ঈদে, খুব মন খারাপই করেছে সে।”
‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ সিনেমাটিতে শাকিব খান ও পরীমনি ছাড়া বিশেষ অতিথি চরিত্রে দেখা যাবে ববি হককে। এ চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল অপু বিশ্বাসের। কিন্তু তিনি রাজি হননি।
মেহেদী হাসান বাবু: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ১১ জুলাই প্রকাশিত হলো এ সময়ের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী বেলাল খানের দ্বিতীয় একক অডিও অ্যালবাম ‘আর একটিবার’। এ উপলক্ষে বাংলামটর একটি রেস্টুরেন্টে লেজার ভিশনের আয়োজনে মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শিল্পীকে শুভাশিষ জানিয়ে অ্যালবামটির মোড়ক উন্মোচন করেন গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, শহীদুল্লাহ ফরায়জী, জুলফিকার রাসেল, বিশিষ্ট
সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর, বসুধা বিল্ডার্স লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জাব্বার খান, ও কণ্ঠশিল্পী বেলাল খান, কনা, পুজা, লিজা, সাবরিনা সাবা, উপমা, লুৎফর হাসান, জুয়েল এবং সঙ্গীত পরিচালক পংকজ, প্রিতম হাসান, ইমন চৌধূরীসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লেজার ভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, সঙ্গীতাঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বত করেন লেজার ভিশনের চেয়ারম্যান এ.কে.এম. আরিফুর রহমান। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অ্যালবামের দু’টি গানের ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। উল্লেখ্য, অ্যালবামটি বেলাল খানের দ্বিতীয় একক অডিও অ্যালবাম। অ্যালবামটির গানের কথা লিখেছেন জুলফিকার রাসেল, জাহিদ আকবর, রবিউল ইসলাম জীবন, মাহমুদ জুয়েল, সমেশ্বর অলি, ইকবাল খন্দকার, জীবন মাহমুদ ও আবদুল কাদের মুন্না। সবকটি গানের সুর করেছেন
শিল্পী নিজেই এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন মুশফিক লিটু, ইমন চৌধুরী, জেকে, প্রিতম হাসান। অ্যালবামটিতে বেলাল খানের সাথে সহশিল্পী হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছেন সাবরিনা সাবা ও উপমা। অ্যালবামটিতে মোট ৯টি গান রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গান হলো একটা বিকেল, বাজী, আর একটিবার, নিশি করি ভোর, মেঘলা দুপুর ইত্যাদি, অ্যালবামটি প্রসঙ্গে শিল্পী বেলাল খান বলেন অ্যালবামটির সবকটি গানই খুবই ভালো হয়েছে। আশা করি শ্রোতারা
এবারের ঈদে আমার অ্যালবামটি ভালোভাবে গ্রহণ করবে বলে আমি আশাবাদি।
আবু-সুফিয়ান: উৎসবকে রাঙিয়ে তুলতে প্রতিবারের মত এবার ও জি-সিরিজ ও অগ্নিবীণা প্রকাশ করেছে শতাধিক নতুন অ্যালবাম। যার মধ্যে রয়েছে একক, মিশ্র ও ব্যান্ড অ্যালবাম। শনিবার রাজধানীর একটি রেস্তোরায়
অ্যালবাম গুলোর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন- সংগীত শিল্পী ও সুরকার, গীতিকারসহ কলাকৌশলী সাংবাদিক বৃন্ধু।

প্রকাশিত অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে প্রিন্স মাহমুদের মিশ্র অ্যালবাম খেয়াল পোকা, সানী জোবায়ের এর চাঁদের সরবরে, মিলার একক আনসেন্সরড, তপুর একক দেখা হবে বলে, হাসান চৌধুরী একক অ্যালবাম তোমার অপোয়, এফএ
সুমনের একক জানরে তুই, রাজিবের ভালবাসবি রে তুই, কিশোর পলাশের একক দয়াল, ব্যান্ড আর্টসেল এর অ্যালবাম আর্টসেল, অবস্কিউর ব্যান্ডের মাঝ রাতের চাঁদ, সাজুর একক সরল মনে, অভীর একক কোথা হতে এলে, ইভার
একক মেঘেরা, নির্ঝর চৌধুরীরর একক চন্দ্রমুখ কুহক মায়া, ঝিনুকের একক অ্যালবাম মেঘলা মনে, নাহিদ নাজিয়ার একক প্রেমের জোয়ারে, ফকির সিরাজির মিশ্র অ্যালবাম বদলে গেল বাংলাদেশ, সিনেমার গানের অ্যালবাম পদ্ম
পাতার জল, গাছ ব্যান্ডের অ্যালবাম গাছের কান্ড, মিনারের আহা রে, এফ এ সুমন ফিচারিং বিপুলের একক আমি তোমার কি হই, ইসলামিক সংগীত আলোর পথে, নন্দন আমিনার, মোহাম্মদ খালেদ হোসেন এর যাবি কে মদিনায়,
সিনথিয়ার একক তোমাকে ভুলিনি, শ্রেয়া গুহঠাকুরতা ও নুরুল ইসলাম এর রবীন্দ্রনাথের অ্যালবাম আজি এ বসন্তে, নোশীন লায়লার নজরুল সংগীতের একক অ্যালবাম সে দিন নিশীথে, অভি মোস্তাফিজের নজরুল সংগীতের একক প্রিয়া এসো হে রানী ও আলভী আহমেদ এর সিনেমার গান ইউ-ট্রান।
বাংলা সিনেমার গান হিটম্যান ও আমার চ্যালেঞ্জ, পারভীন সুলতানার একক তোমার লাগিয়া রে, নির্ঝর চৌধুরীর মিশ্র অ্যালবাম বিশ্বসাথে যোগ, রাসেল ফিচারিং সজীব, মুন, পুতুলের ক্যাকটাস, ডলারের ধ্বংসলীলা, জেমীর একক দুই অরের প্রেম, ইমরানের ফ্রেন্ডমিক্সড, বিপ¬ব দে এর একক জানা হলো না, আরডি হিল্লোল এর মিশ্র অ্যালবাম মন তোমায় চায়, ব্যান্ড মিক্সড রায়োটাস্-১৪, প্রিন্স হায়দারের একক সহজ কথা, রাজন সাহার সুরে মিশ্র অ্যালবাম
প্রেম প্রজাপতি, এহসান রাহীর দ্বিতীয় একক অ্যালবাম এহসান রাহি-২, লিজেন্ড নজরুিল সংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগম স্মরণে সুস্মিতা আনিস এর অ্যালবাম সাউন্ড অব সিজন।
এছাড়া বাংলা সিনেমা প্রকাশিত হয়েছে ১২টি। সিনেমা গুলোর শিরোণাম হলো- ৭১ এর গেরিলা, জটিল প্রেম, ণিকের ভালবাসা, কি প্রেম দেখাইলা, কখনও ভুলে যেও না, লাভ স্টেশন, সর্বনাশা ইয়াবা, এইতো প্রেম, ডিয়ারিং লাভার।
এছাড়া ও ব্যান্ড, মিক্সড, একক এর পাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্রের অ্যালবাম, নাটকের অ্যালবাম, মিউজিক ভিডিওর অ্যালবাম, ইসলামিক হাম-নাত, গজল ও চলচ্চিত্রের গানের অ্যালবাম করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
জি-সিরিজ কতৃপ থেকে জানান, উৎসব ঘিরে আমরা সব সময়ই একটু ব্যাতিক্রম ধরনের আয়োজন করে থাকি। এবারও তার ব্যাতিক্রম নয়। আমরা ঈদ ঘিরে প্রায় শতাধিক নাটক সিনেমা ও অডিওর অ্যালবাম শ্রোতাদের
উপহার দিতে পারবো বলে আশা করছি। প্রতিবারের মত এবার ও আমরা নবীন এবং প্রবীণদের অ্যালবাম দিয়ে ঈদের আয়োজন করেছি। আশা করি শ্রোতাদের ঈদ আয়োজনকে আরো বাড়িয়ে দিবে।