May 25, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, ‘ভারি বর্ষণের সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সৃষ্ট বন্যায় দেশের ১৩টি জেলার ৪৫টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’
বুধবার (১২ জুলাই) সকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সিলেট, মৌলভীবাজার ও উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। এসময় মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৩ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে চার হাজার মেট্রিক টন চাল, এক কোটি নয় লাখ টাকা ও নয়টি আইটেম সমৃদ্ধ সাড়ে ১৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর বাইরে গত মার্চ মাসে আগাম বন্যায় ফসলহানির কারণে সিলেট অঞ্চলের জেলাসমূহে তিন লাখ ৮০ হাজার পরিবারকে ভিজিএফ কার্ড দেওয়া হয়েছে।’
মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার খোলা আকাশের নিচে, উঁচু বাঁধে ও রাস্তায় আশ্রয় নেওয়া মানুষজনকে দ্রুততার সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের টিউবওয়েল উঁচু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহের জন্যও বলা হয়েছে।’
উত্তরাঞ্চলের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘সেখানে এখনও পর্যন্ত কোনও আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়নি। সেখানে কেবল পানি আসতে শুরু করেছে। তবে প্রয়োজন হলে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন করে মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, শরিয়তপুর, চাঁদপুর এবং ভোলা জেলা বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব জেলার প্রশাসনকে সর্তক থাকার নির্দেশ দেওয়া আছে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল বলেন, ‘অনেকে ত্রাণ পাচ্ছে না -এমন ঢালাও অভিযোগ মানা হবে না। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে জানান, আমরা ব্যবস্থা নেব।’ বাজেটে ত্রাণের কোনও ঘাটতি নেই বলেও জানান তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, শুক্রবার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন ত্রাণমন্ত্রী ও সচিব। জামালপুর থেকে শুরু পরিদর্শন শুরু হবে।
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।