March 6, 2026
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় এলাকায় পুলিশের অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে গ্রেনেড বিস্ফোরণে জেএমবির সামরিক শাখার কমান্ডার জাবেদ নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন সিএমপি পুলিশের তিন সদস্য। মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে জাবেদকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ব্যস্ততম এলাকায় বাসা ভাড়া করে বিস্ময়করভাবে আস্তানা গড়ে তুলেছিল নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মোজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এ জঙ্গি আস্তানা থেকে গ্রেনেড ও অস্ত্র উদ্ধারের সময় সেখানে গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে আহত হন জেএমবির সামারিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ জাবেদ।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগরীর কর্ণফুলী থানার খোয়াজনগর আজিমপাড়া এলাকায় নুর আহাম্মদ টাওয়ারে অভিযান চালিয়ে পাঁচ জঙ্গি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন জেএমবির চট্টগ্রামের সামারিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ জাবেদ (২৪)। এই জাবেদ জেএমবির আত্মঘাতী দলের সদস্য বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছিলেন। গ্রেফতারকৃত অন্য জঙ্গিরা হল- জেএমবি সদস্য বুলবুল আহমেদ (২৬), মো. সুজন ওরফে বাবু (২৫), মাহবুব (২৪) ও সোহেল (৩২)।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর-দক্ষিণ) বাবুল আক্তার জঙ্গি গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কর্ণফুলী থানার খোয়াজনগর এলাকার আজিমপাড়ায় নূর আহমদ টাওয়ারের নিচতলায় বাসা ভাড়া নিয়ে জেএমবি সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছিল। সেখান থেকেই তারা সংগঠনের কার্যক্রম ও অপারেশন পরিচালনা করত। ঈদের আগের দিন সদরঘাটে ককটেল হামলা করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় যে দু’জন ছিনতাইকারী মারা যায় তার সূত্র ধরে সোমবার সন্ধ্যায় কর্ণফুলী থানার খোয়াজনগর এলাকায় অভিযান চালায় নগর গোয়েন্দা পুলিশ। যেখানে অভিযানটি পরিচালিত হচ্ছিল সেটি ছিল জেএমবির গোপন আস্তানা।
সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ হ্যান্ড গ্রেনেড, গুলি, অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্যসহ ৫ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্যদের চট্টগ্রামের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে দলের অন্যান্য সদস্য এবং আর কোথাও কোনো জঙ্গি আস্তানা রয়েছে কি-না সে ব্যাপারে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
২০০৫ সালে সিরিজ বোমা হামলার পরপরই চট্টগ্রামে জেএমবির অস্তিত্ব আবিষ্কার করে পুলিশ। নগরীর কাট্টলী এলাকাসহ একাধিক আস্তানায় অভিযান চালিয়ে জেএমবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান মোহাম্মদসহ একাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সময়ে জেএমবির বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান ও জেএমবির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশিক্ষিত কর্মী ও বোমা কারিগর গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের কর্মকাণ্ড ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসে। জেএমবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান মোহাম্মদ, বোমা কারিগর মিজানসহ বিভিন্ন সদস্যের সাজা হয়।
তারা এখন চট্টগ্রাম কারাগারে রয়েছে।সম্প্রতি সদরঘাট এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের সময় দুই ছিনতাইকারী নিহত হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ছিনতাইয়ের শিকার ব্যবসায়ীও। এ ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই পুলিশ এটি জেএমবির কাজ বলে তথ্য পায়। তথ্য অনুযায়ী সোমবার কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে খোয়াজনগরে জেএমবির এ গোপন আস্তানা আবিষ্কার করে পুলিশ। এর আগে বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় ন্যাংটা ফকির ও তার খাদেমকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও জেএমবির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।