পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

সোনার ভরিতে ১১ হাজার টাকা ঠকছেন ক্রেতারা!

Posted on August 17, 2015 | in ব্যবসা-অর্থনীতি | by

অর্থনীতি ডেস্ক; রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের একটি জুয়েলারির দোকানে সোনার গহনা বানাতে এসেছেন নাসিমা আক্তার। ২২ ক্যারেট সোনায় ভরিপ্রতি তাকে দিতে হচ্ছে ৪১ হাজার ৭৫৭ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে সোনার দাম কমছে, সেখানে এত বেশি দামে কেন সোনা কিনছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সোনার দাম কমার কথা শুনে গহনা বানাতে দিতে এসেছি। কিন্তু এখন তো দেখছি সোনার দাম আগের মতোই রয়ে গেছে। দাম এত বেশি নেওয়ার কারণ বুঝতে পারছি না।’
আন্তর্জাতিক বাজারে বড় দরপতনের কারণে দেশের বাজারেও সোনার দাম কমার কথা। এটা ভেবে নাসিমার মতো অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন জুয়েলারির দোকানগুলোতে। কিন্তু হতাশ হয়ে ফিরছেন ক্রেতারা। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে ভরিপ্রতি ১১ হাজার ১৭১ টাকা বেশি গুণতে হচ্ছে ক্রেতাদের। অর্থাৎ ২০১১ সালে সোনার যে দাম ছিল এখন তা সে দামেই বিক্রি হচ্ছে।

shop-1_1
কমোডিটি এক্সচেঞ্জ মার্কেটে গত বৃহস্পতিবার বিশুদ্ধ বা ২৪ ক্যারেট সোনার প্রতি আউন্সের (২.৪৩০৫ ভরি) সর্বশেষ দর ছিল ১ হাজার ১১২ মার্কিন ডলার ৯০ সেন্ট। তার মানে প্রতি ভরি ৪১৭ ডলার ৩৪ সেন্ট। দেশি মুদ্রায় ৩৩ হাজার ৩৮৭ টাকা (প্রতি ডলার ৮০ টাকা ধরে)।
সে হিসাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ২২ ক্যারেট সোনার দাম হবে ভরিপ্রতি ৩০ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু দেশের বাজারে এই মানের সোনা বিক্রি হচ্ছে ভরিপ্রতি ৪১ হাজার ৭৫৭ টাকায়। অর্থাৎ ক্রেতাকে প্রতি ভরিতে ১১ হাজার ১৭১ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে বাংলাদেশের বাজারের সোনার দামের এ পার্থক্যের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি কাজী সিরাজুল ইসলামকে বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজারে সোনা সহজলভ্য না হওয়ায় এ দাম সেভাবে কমছে না। তবে দাম অবশ্যই কমবে। আমরা শিগগিরই এ নিয়ে মিটিং করব।’
এই মিটিংয়ে কী ধরনের সিদ্ধান্ত হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মিটিংয়ে হয়তো ভরিপ্রতি ২ হাজার টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে একবারে দাম কমানো সম্ভব নয়। একারণে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে দামের একটা পার্থক্য থেকে যাবে।’
স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি দেশের বাজারে সোনার দর সংশোধনের কাজটি করে আসছে। সর্বশেষ ৬ আগস্ট সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ২২৪ টাকা কমিয়েছিল সমিতি।
তবে কলকাতায় বৃহস্পতিবার ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ৩৪ হাজার ২৯১ টাকায় বিক্রি হয়। পাশ্ববর্তী দেশে সোনার দাম কম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে কাজী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রতিগ্রাম সোনায় মজুরি নেওয়া হয় ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। কিন্তু কলকাতা বা ভারতে মজুরি কম নেয়ার কারণে সোনা কম দামে বিক্রি হয়।’
তিনি বলেন, ‘দেশে বৈধভাবে সোনা বেচাকেনার কোনো বাজার নেই। এছাড়া চোরাচালান হয়ে আসা সোনাগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হয়, আমাদের দেওয়া হয় না। কাজেই আমরা বুলিয়ান মার্কেট থেকে সোনা কিনি। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব দেশীয় বাজারে খুব একটা পড়ে না।’সৌজন্য…. প্রিয়

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud