May 7, 2026
ঢাকা: ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরে দলীয়ভাবে কেক কাটেননি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে পারিবারিকভাবে কেক কেটেছেন খালেদা জিয়া। প্রতিবছর ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে নেতা-কর্মীদের নিয়ে কেক কেটে জন্মদিন উদ্যাপন করলেও এবার তা করেননি খালেদা জিয়া।
শুক্রবার রাত ১২টার কিছুক্ষণ পর গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় বেগম জিয়ার দুই ভাইয়ের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ৭০তম জন্মদিনের কেক কাটেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শীর্ষ নিউজ জানায়, রাত ১২টার একটু আগে খালেদা জিয়ার ভাই সাঈদ ইস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন সাঈদ ছোট একটি কেক নিয়ে বাসভবনে আসেন। এরপর অপর ভাই শামীম ইস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতেমাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও সেখানে আসেন। এরপরই কেট কাটা হয়।
জাতীয় শোক দিবসে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি জন্মদিন পালন না করার আহবান জানানো হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে জাতীয় শোক দিবসে বিএনপি নেত্রীকে কেক কেটে জন্মদিন পালন না করার কথা বলেছিলেন। তবে আওয়ামী লীগের আহবান কিংবা জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বেগম জিয়া ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরে দলীয়ভাবে কেক কাটেননি কি না এব ব্যাপারে তার দলের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
তবে খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে শনিবার মহিলা দল কেক কাটবে জানিয়েছেন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা। বিএনপির দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছিল, শনিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে জন্মদিনের কেক কাটতে পারেন খালেদা জিয়া। তবে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যদি বেগম জিয়া কেক না কেটে থাকেন তাহলে তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতি সহনশীলতার একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর এ দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয়। একই দিনে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতারা। এদিনটিতে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ছাড়াও দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানান।
বেশ কয়েক বছর ধরে জাতীয় শোক দিবসে বেগম জিয়ার কেক কেটে জন্মদিন পালনের সমালোচনা করে আসছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। তবে এবার কেক কেটে জন্মদিন পালন না করার বিষয়টি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কিভাবে গ্রহণ করেন তা দেখার বিষয়। বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, সাধারণত শুক্রবার ও ছুটির দিনে বিএনপির চেয়ারপারসন তার কার্যালয়ে যান না। বিএনপির পক্ষ থেকে সব সময় বলা হয়, খালেদা জিয়া নিজ থেকে জন্মদিন পালন করেন না। এটি নেতা-কর্মীদের আবেগের বিষয়। সম্প্রতি দলের মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপনও এই বক্তব্য দিয়েছেন।
এদিকে লন্ডন থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের নাতি (তারেক রহমানের বড় মেয়ে) জাইমা রহমান দাদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।