পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

ব্লগার নিলয় হত্যা: খুনি জাবের-ফাহিম-হাসিব

Posted on August 12, 2015 | in জাতীয় | by

নিউজ ডেস্ক: নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় ওরফে ব্লগার নিলয় নীল হত্যাকাণ্ডে ‘বাঁহাতি’ আবদুল করিম ওরফে জাবের এবং তার দুই সহযোগী ফাহিম ও হাসিব অংশ নেয় বলে নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী। এর মধ্যে জাবের গত ১২ মে সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যাকাণ্ডেও জড়িত ছিল। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ‘প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার ভাতিজার’ সূত্র ধরে জাবেরসহ তিন খুনির ব্যাপারে অনেকটা অগ্রসর হওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

এছাড়া আরও দুজন নজরদারিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী। এদিকে ঘটনার দিন শুক্রবার গোড়ানের ওই বাসায় খুনের পরপরই উপস্থিত মিঠু ওরফে মিঠুনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবে গোয়েন্দা পুলিশ। আর মঙ্গলবার নিহত ব্লগার নিলয়ের স্ত্রী আশামণি ও তার বোন তন্বীকে গোয়েন্দা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আশামণির এক আত্মীয়ের বাসায় ডিবি পুলিশের একটি টিম তাদের সঙ্গে কথা বলে খুনিদের চেহারার বর্ণনা আরও স্পষ্ট হয়েছে। এমনকি তাদের কয়েকজনের ছবি দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে।Niloy_0451438957402-1728x800_c

যেভাবে হত্যার ঘটনা ঘটে
নিহত নিলয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন পূর্ব গোড়ানের একটি সরুগলির ১৬৭ নম্বর হোল্ডিংয়ে পাঁচতলা বাড়ি হক মঞ্জিল- এ থাকতেন। বাড়ির মালিক শামসুল হক দোতলায় থাকেন। বাড়িটিতে কোনো নিরাপত্তাকর্মী নেই।
নিলয়ের স্ত্রী আশামনি বলেন, নিলয় গত শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে বাসায় ঢুকে গোসল করে শোবার ঘরে বসে ছিলেন। এর ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর বাইরে থেকে কড়া নাড়ার শব্দে তিনি দরজা খুলে দেন। ওই সময় এক যুবক বাসা ভাড়া নেবে বলে দ্রুত ভেতরে ঢুকে পড়ে।

তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে ২০-২১ বছর বয়সী জিন্সের প্যান্ট পরা এক যুবক দরজা খুলতেই বাসায় ঢোকেন। তিনি বাসা ভাড়া নেবেন বলে নিজ থেকেই দু’বার পুরো ফ্ল্যাট ঘুরে দেখেন। তখন আমি বলি, ‘আমরা তো বাসা ছাড়ছি না, বাসা ভাড়া নেবেন কীভাবে? বাড়িওয়ালাকেও তো এ বিষয়ে কিছু বলিনি।’

আশামনি বলেন, ‘এ সময় ওই যুবক বলেন- বাড়িওয়ালাই আমাকে দেখে যেতে বলেছেন বলে হাতে মোবাইলেও যেন কী যেন করছিলেন। আমি বিষয়টি ড্রয়িংরুমে আমার স্বামীকে জানাতে যাই।’
এইমধ্যে আরো তিন যুবক বাসায় ঢোকেন। এরমধ্যে একজনের মুখে দাঁড়িও ছিল। তারা ভেতরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দেন। তিনজন যুবকের হাতে রামদা ও একজনের হাতে পিস্তল ছিল।
নিলয়ের স্ত্রী বলেন, ‘আমি ওই যুবককে চলে যেতে বললে সে পিস্তল বের করে আমাকে ভয় দেখায়।

এরপর আমি নিলয়কে ঘটনাটি বললে সে এগিয়ে আসে। নিলয় বেরিয়ে যেতে বলতেই তারা তাকে দেখামাত্রই ওই চারজন রামদা দিয়ে কোপাতে শুরু করে। এ সময় তারা নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার স্লোগান দিচ্ছিল।’
তিনি বলেন, ‘একজন আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বারান্দায় রেখে ভেতর থেকে দরজা লক করে দেয়। একইভাবে অন্য রুম থেকে তন্বীকেও এখানে নিয়ে আসে। পরে এক সঙ্গে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায় তারা।’
আশামনি বলেন, ‘বারান্দায় আমি বারবার বাঁচাও, বাঁচাও বলে চিৎকার দিলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।’
সন্দেহভাজ খুনিচক্র
ব্লগার নিলয়কে হত্যার পরপরই তদন্তের নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে জঙ্গী কার্যক্রমের উপন নিয়মিত নজর রাখে এমন সংস্থাগুলো দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠে। এরপর খুনের ধরণ ও ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে বলে তদন্তু শুরু হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লম্বা ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী বাঁহাতি জাবের বেশির ভাগ সময় সাইকেলে চলাফেরা করে। নিলয় হত্যায় বাঁহাতের কোপের যে একাধিক চিহ্ন রয়েছে সেগুলো তার বলে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর পল্লবীতে ২০১৩ সালে ব্লগার রাজীব হায়দার শোভন হত্যাকাণ্ডের সময় নিহতের বাসার সামনে যে কয়েকজন খুনি ক্রিকেট খেলছিল তাদের মধ্যে জাবের অন্যতম।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নিলয় হত্যাকাণ্ড শেষে খুনিদের চলে যাওয়া লক্ষ্য করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
এর মধ্যে ‘শ’ আদ্যাক্ষরের একজন নারীও রয়েছেন। তিনি জানান, খুনিরা যখন চলে যায় তখন সবার আগে নিচে নামে বেশ লম্বা ও স্বাস্থ্যবান এক যুবক। তার বাঁহাতে তিনি ছুরি দেখেছেন। এমনকি ওই যুবক সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় যখন হাত উঁচিয়ে ‘নারায়ে তাকবির’ বলেছে, তখনও সে বাঁহাত ওপরে তুলেছে।
নিলয় হত্যাকাণ্ডে জাবেরের সঙ্গে ফাহিম ও হাসিব নামে দুজনও অংশ নেয় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা। যে কোনো কাজে জাবেরের সঙ্গে ওই দুই যুবককে সব সময় দেখা যায় বলেও তারা জানান। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃংখলা বাহিনী। তবে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়ারা অনেক সময়ই ছদ্মনাম ব্যবহার করে জানায় তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার রাজধানীর পূর্ব গোড়ানের ৮ নম্বর রোডের ১৬৭ নম্বর বাসায় আসা চারজন খুনির যে বর্ণনা গোয়েন্দারা পেয়েছেন তার মধ্যে বাঁহাতি আবদুল করিম ওরফে জাবের ছাড়াও সন্দেহের তালিকায় রয়েছে আরও কয়েকজন। এরা হলেন- সাদ আল নাহিন, কাওসার হোসেন, কামাল হোসেন, কামাল সর্দার, কাওসারের ভাই নবীর হোসেন, আবদুল্লাহ ওরফে হাসিব ও রেজওয়ানুল আজাদ রানা। রানা ব্লগার রাজীব হত্যার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের দলে আরও একজন আবদুল করিম আছে বলে জানা গেছে। জড়িত সবাই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য বলে সন্দেহ করছে আইনশৃংখলা বাহিনী।
র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ বলেন, সবকিছু মিলিয়ে আমাদের প্রযুক্তিগত তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত আছে। খুনের ঘটনায় উগ্রপন্থী কায়দা ও কৌশল প্রয়োগ হলেও নেপথ্যে কিছু আছে কিনা সেটাও আমরা খতিয়ে দেখছি।
ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনকে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ’র প্রথম সেমিস্টারের (২০১৪ সালে) ছাত্র সাদ আল নাহিনের দেয়া তথ্যে বাঁহাতি খুনি আবদুল করিম ওরফে জাবেরের বর্ণনা পাওয়া যায়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ওই যুবক কয়েকটি ভাষায় কথা বলতে পারে। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ছাত্র ছিল।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের একটি স্লিপার সেলের সূত্র ধরে কাজ করছে। পাশাপাশি তদন্তে যেসব বিষয় আসছে সবকিছুই পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সবগুলো ব্লগার খুন একই সূত্রে গাঁথা। প্রত্যেকটি খুনের ধরন তা একই রকমের। তাছাড়া গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আগের গ্রেপ্তারকৃতরা জড়িত ও নেপথ্যের আরও অনেকের নাম বলেছে। তাদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে। সূত্র: যুগান্তর

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud