পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

জিএসপি সুবিধার অভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশী পণ্য

Posted on July 11, 2015 | in ব্যবসা-অর্থনীতি | by

download (1)অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী পণ্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়তে যাচ্ছে। কারণ গত দু’বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের জিএসপি সুবিধা কার্যকর ছিল না। ফলে মার্কিন আমদানিকারকদের বাংলাদেশের পণ্য আমদানিতে শুল্ক দিতে হয়েছে। এখন অন্য দেশগুলো জিএসপির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানি করবে। তাছাড়া মার্কিন আমদানিকারকরা গত দু’বছরে পরিশোধিত শুল্কও ফেরত পেতে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পণ্যের সাথে স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশী পণ্য। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানি হয়েছে ৫৭৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের। আর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৫৫৮ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স¤প্রতি স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল ১২৭ দেশের জন্য অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বা জিএসপি কর্মসূচি নবায়ন করেছে। আগামী মাস থেকে ওসব দেশ থেকে পণ্য নিতে মার্কিন আমদানিকারকরা শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবেন। তাছাড়া আফ্রিকার দেশগুলোকে বিশেষ আইনের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধাও ১০ বছর বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ওবামা প্রশাসন শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠায় যথাযথ অগ্রগতি না হওয়ার অজুহাতে ২০১৩ সালের জুন মাসে বাংলাদেশের জন্য জিএসপি স্থগিত করে। আর তার পরের মাসেই শেষ হয় জিএসপি কর্মসূচির মেয়াদ। তারপর এ কর্মসূচি নবায়ন করতে দু’বছর সময় লাগল। জিএসপি নবায়নের সময় বাংলাদেশের স্থগিত থাকা সুবিধা ফিরিয়ে দেয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হলেও শেষ পর্যন্ত আর হয়নি।
সূত্র জানায়, গত ডিসেম্বর মাসে জিএসপি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যালোচনার পর তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কার্যত নতুন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে ইউএসটিআরের পক্ষ থেকেও কোনো সাড়া মেলেনি। আগামী শুনানি কবে হবে এ বিষয়ে নিশ্চুপ ইউএসটিআর। জিএসপি নবায়নের সময় বাংলাদেশের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না করা বৈষম্যমূলক আচরণ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা চুক্তির (টিকফা) আগামী বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরবে বাংলাদেশ। কারণ আফ্রিকার দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিতে আলাদা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাচ্ছে। বাণিজ্য উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে ওসব দেশকে রক্ষায় আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট (আগোয়া) নামে আইন করেছিল ক্লিনটন প্রশাসন। ২০০০ সালে ২ অক্টোবর কার্যকর হওয়া ১৫ বছর মেয়াদি ওই আইন এবছর শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে তা ১০ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, আগোয়াভুক্ত দেশগুলোর শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ বাড়ানোর কারণে বাংলাদেশের রফতানিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর আগামী পাঁচ বছরে সাব সাহারান দেশগুলো পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলো ২০২০ সালের মধ্যে আফ্রিকা থেকে আমদানি বর্তমানের ১০ গুণ করতে চায়। আর ২০৩৫ সালের মধ্যে আফ্রিকার সাব-সাহারান দেশগুলো পোশাক রফতানিতে এ খাতের এক নম্বর রফতানিকারক চীনের সমক্ষতা অর্জন করবে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র থেকেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের মোট রফতানি আয়ের ২০ শতাংশের বেশি আয় আসে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের (ওটেক্স) তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে পোশাক রফতানিতে প্রতিযোগীদের কাছে ক্রমে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। গত সেপ্টেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার কাছে বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থান হারিয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান এখন ষষ্ঠ। চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, মেক্সিকো রয়েছে বাংলাদেশের আগে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি না পাওয়া প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম জানান, এতোগুলো দেশ একসাথে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ। কারণ অনেক দেশই এখন কমবেশি পোশাক রফতানি করে। অন্য দেশগুলোর জিএসপি নবায়নের পর বাংলাদেশের এ সুবিধা পুনরুদ্ধারে সরকারের পক্ষ থেকে জোর লবিং প্রয়োজন। পাশাপাশি তৈরি পোশাক যাতে জিএসপির আওতায় রাখে সে বিষয়েও সরকারের ভূমিকা জোরালো হতে হবে।
আর বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ডায়লগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে- যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা না পাওয়ায় খুব বেশি সমস্যা হবে না। কারণ জিএসপি পাওয়া দেশগুলোর রফতানি পণ্য আর বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের মধ্যে মিল কম। অনেক দেশেরই রফতানি তালিকায় তৈরি পোশাক নেই। তবে স্থগিত হওয়ার আগে যেসব পণ্য মার্কিন জিএসপি সুবিধা পেত, সেসব পণ্য কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
অন্যদিকে ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে জিএসপি স্থগিত হওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত প্লাস্টিক সামগ্রী, সিরামিক, চা, ফার্নিচার, সবজি, তামাক জাতীয় পণ্য, খেলার সরঞ্জাম, রান্নাঘরের সামগ্রী, গলফ সামগ্রী, চশমা, লবণ, পাথর, সিমেন্ট, জাহাজসহ রফতানি তালিকার ছোটখাটো আরও কিছু পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা পেত। ওসব পণ্য রফতানিতে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। কোনোটির বেড়েছে, কমেছে কোনোটির। তবে সার্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানি কিছুটা বেড়েছে।
তবে প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির পরিচালক ইউসুফ আশরাফ জানান- জিএসপি নবায়নের ফলে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে যুক্তরাষ্ট্রে প্লাস্টিক পণ্য রফতানি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে। গত দু’বছর কোনো দেশের জন্য মার্কিন জিএসপি ছিল না। ফলে বাংলাদেশের জিএসপি স্থগিত থাকলেও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিযোগিতা ছিল। এখন জিএসপি নবায়ন করায় যেখানে অন্য দেশ শূন্য শুল্ক সুবিধা পাবে, সেখানে বাংলাদেশকে গুনতে হবে ১৫ শতাংশ শুল্ক।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী পণ্যের জিএসপি সুবিধা প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন জানান- মার্কিন জিএসপি নবায়ন হয়েছে বলে শোনা গেছে। বাংলাদেশেরও জিএসপি ফেরত পাওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud