May 4, 2026
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে হাউজ অব কমন্সে আলোচনা করায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কঠোর সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কি হয়েছে তা ব্রিটিশ সরকার আমাদের সরকারকে বলবে। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়েছে সেখানে বলতে পারে। কিন্তু পার্লামেন্ট টু পার্লমেন্ট এভাবে সমালোচনা করতে পারে না। এটা পৃথিবীর কোথাও নেই। গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন সুরঞ্জিত।
তিনি বলেন, আমরা রক্ত দিয়ে এ পার্ল?ামেন্ট তৈরি করেছি। বাংলাদেশে কি হয়েছে, যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সেটা নিয়ে আলোচনা করতে হবে? আমরা হাউজ অব কমন্সকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখি। এক পার্লামেন্টের আরেক পার্লামেন্টের মধ্যে সর্ম্পক হবে শ্রদ্ধাশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ। হাউজ অব কমন্সকে আমরা মাদার অব পার্লামেন্ট বলে থাকি। কিন্তু ১৭ জুন হাউজ অব কমন্সের চেম্বারে আইন প্রণয়ন ছাড়া ওয়েস্ট মিনিস্টারের ৩০ নম্বর বৈঠকে একটা রঙ ব্রিফিং হোল্ড করে কতগুলো ভুল ইস্যু নিয়ে আলোচনা করলো। এক রাষ্ট্রের সঙ্গে আরেক রাষ্ট্রের একটা সম্পর্ক আছে। সেখানে কিছু পরামর্শ দিতে পারে। কিন্তু এভাবে এক পার্লামেন্ট আরেক পার্লামেন্টের বিষয় নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ কথা বলতে পারে না।
স্পিকারের উদ্দেশ্যে সুরঞ্চিত বলেন, আপনি কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সভাপতি। তাই আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনি বিষয়টি তুলবেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশের মানবাধিকার এবং আইনের শাসন নিয়ে সমালোচনা করা হয়। মূলত এ বিষয় নিয়েই সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত সমালোচনা করেন।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সমালোচনা করে সুরঞ্জিত বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর তো একটা টু শব্দও করেনি। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ইনডেমনিটি জারি করে হত্যার বিচার বন্ধ করে দেন তাতেও কোনো কথা বলেনি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। জিয়াউর রহমান হ্যা-না ভোট দিয়ে ৯৮ শতাংশ ভোট কাস্টিং দেখিয়ে ক্ষমতা দখল করলো। কই তখন তো কিছু বলেনি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট?
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কি হয়েছে? যদি কিছু হয়ে থাকে তা হলে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়েছে সেখানে বলতে পারেন। কিন্তু এভাবে পার্লামেন্ট টু পার্লমেন্ট বলতে পারে না। আমারা হাউজ অব কমন্সকে মাদার অব দি পার্লামেন্ট বলি। আমরা হাউজ অব কমন্সকে রেসপেক্ট করি। এতে পার্লামেন্টের ডিগনিটি নষ্ট হয়। আমাদের মানবাধিকার কমিশন শ্রেষ্ঠ কমিশন। আমাদের দুদক রয়েছে তারা তাদের নিজস্ব মতাদর্শে চলে। এখন মন্ত্রী এমপিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে সরকারের অনুমতি লাগে না। আগে সরকারের অনুমতি নিয়ে মামলা করতে হতো। আমাদের সরকারের স্বচ্ছতার জন্য অনেক মন্ত্রী-এমপির পদত্যাগের নজির রয়েছে।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখলাম ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপি হয়েছে। ৫৫/৫৬ হাজার কোটি টাকা যদি খেলাপি ঋণ হয়, তা হলে আলাপি ঋণ কত? আলাপি ঋণ মানে যেগুলোর কোনো হদিস নেই। হলমার্ক গেল, সোনালী, রুপালী ব্যাংকের ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা গেছে। বেসিক ব্যাংক তো বেসিক হয়ে গেছে। এসব খেলাপি ঋণ আদায় করতে না পারলে বাজেট দিয়ে কি হবে?
অর্থমন্ত্রীকে খেলাপি ঋণ আদায়ে অর্থ আদালতে মামলা করার আহŸান করেন সুরঞ্জিত। একই সঙ্গে ব্যাংকিং কমিশন করে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবিও করেন তিনি। সুরঞ্জিম সেন গুপ্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান। মন্ত্রীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে মন্ত্রীরা অনেকে অনেক কথা বলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সংবিধান ও আইনের শাসনের প্রতি অনুগত। আমি নির্বাচন করতে পারব কি পারব না। এই সিদ্ধান্ত সংসদ দিতে পারে না। এজন্য নির্বাচন কমিশন, উচ্চ আদাল ও সংবিধান রয়েছে। মন্ত্রীদের কথা বলার সময় সর্তক হয়ে কথা বলা উচিত। মন্ত্রীরা যে যে দলেরই থাকেন আপনাদের আলাদা আলাদা এজেন্ডা থাকতে পারে। এবং আপনারা যা ইচ্ছে বলতে পারেন। কিন্তু এমন কিছু বলবেন না যেন আমাদের বিব্রত হতে না হয়। যেহেতু আপনারা মন্ত্রী আপনাদের বক্তব্যের দায় প্রধানমন্ত্রীর উপর বর্তায়। খালেদা জিয়ার বিচারে কি হবে। ২১ আগষ্ট, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তার কি শাস্তি হবে সেটা আদালত বুঝবে।
উল্লেখ্য শনিবার সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু আগামি নির্বাচনে খালেদা জিয়া বাদ এবং তার (খালেদার) আদালতের বারান্দায় থাকতে হবে বলে মন্তব্য করায় এসব কথা বলেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি।