May 1, 2026
ফেনী প্রতিনিধি : ফেনী জেলা কারাগারে দিন দিন বেড়ে চলেছে কয়েদির সংখ্যা। স্থান সংকটে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বিভিন্ন অপরাধে ও মামলার বন্দিরা। এতে ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। মাত্র ১শ’ ৭২ বন্দির ধারণক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে এ জেলা কারাগারে কয়েদি রয়েছেন প্রায় চারগুণ অর্থাৎ ৮শ’ ২০ জন। সা¤প্রতিক রাজনীতিক অস্থিরতায় ও বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলার আসামি গ্রেপ্তার বেড়ে যাওয়ায় জেলা কারাগারে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্র। এদিকে, শহরের রানীর হাট এলাকায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক জেলা কারাগার নির্মাণের কাজ শুরু হলেও দীর্ঘদিন ধরে তা থমকে আছে। নির্মিতব্য এ কারাগারের কাজ শেষ হলে কয়েদিদের অসহনীয় দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হতো মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কারাগার সূত্র জানায়, ১৮৭৬ সালে দুই জন কয়েদিকে রাখার জন্য ফেনী শহরে এক একর জায়গার ওপর একটি ব্যারাক নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৪ সালে ফেনীকে জেলা ঘোষণার পর একই জায়গায় একটি চারতলা ভবন ও দু’টি ব্যারাক নির্মাণ করে শুরু হয় জেলা কারাগারের কার্যক্রম।
বর্তমানে কারাগারে ১শ’ ৭২ বন্দিকে রাখার আনুষাঙ্গিক সুবিধা থাকলেও রাখা হয়েছে ৮শ’ ২০ জনকে। বন্দির সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রতিনিয়তই অসুস্থ হয়ে চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে। এ ছাড়া কারাগারের খাবার মানও কমতে শুরু করেছে।
জানতে চাইলে ফেনী কারাগারের জেল সুপার আনোয়ারুল করিম জানান, ফেনী কারাগারের অধিকাংশ ভবনই শত বছরের পুরাতন। এ ছাড়া ধারণক্ষমতার বাইরে লোক থাকায় এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খাচ্ছেন তারা। চারগুণ বেশি কয়েদির জন্য কারাগারের পয়নিষ্কাশন ও আবাসন ব্যবস্থাপনা একেবারে ভেঙে পড়েছে। নতুন কারাগারের কাজ দ্রæত শেষ হলে এ অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।
জেলা কারাগারে বন্দিদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বিধান অনুযায়ী নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। নতুন কারাগারের অগ্রগতি সম্পর্কে ফেনী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম জানান, ২০১১ সালে শহরের রাণীর হাটে ৩৮ কোট টাকা ব্যয়ে নতুন কারাগার নির্মাণে কাজ শুরু হয়। পাঁচ ঠিকাদারকে মূল কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে দুই ঠিকাদার পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছেন।
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার সময়সীমা ২০১৮ সালের জুন মাস হলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ করা কঠিন। সম্পূর্ণ কাজ শেষ অতিরিক্ত দুই বছর লাগবে বলেও তিনি জানান।