March 14, 2026
স্টাফ রিপোর্টার : মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বৃষ্টির পানিতে বহু সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় বেড়ে গেছে যানজটও। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির তীব্রতা শুক্রবার রাতে বেড়ে যায়। বিভিন্ন এলাকার অলিগলি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গতকাল শনিবার সকাল থেকে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারেননি। এদিকে, জলাবদ্ধতার কারণে বহু ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষ ঘর থেকে বের হতে না পারায় অধিকাংশ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট সকালের দিকে খুলতে পারেননি। আবার কেউ কেউ কর্মস্থলে পৌঁছেছেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতে। এছাড়া নগরীর অধিকাংশ ডাস্টবিন সড়কের ওপর খোলা অবস্থায় থাকায় কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টির পানিতে রাজপথ ময়লা-আবর্জনাতে ভরে গেছে। এর দুর্গন্ধে পথচারী, যাত্রী সাধারণ ও নগরবাসী নাকাল। আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকাতে গত ৬ ঘণ্টায় ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানীর মালিবাগ, রাজারবাগ, শান্তিনগর, কাকরাইল, রামপুর, হাজীপাড়া, খিলগাঁও, নাখালপাড়া, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, পুরানো ঢাকার বিভিন্ন এলাকা, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, আদাবর, টিকাটুলী, হাটখোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
এ কারণে ওইসব এলাকাসহ রাজধানীর শান্তিনগর, মৌচাক, মগবাজার, কারওয়ান বাজার, পল্টন, ফার্মগেট, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় যানজটের তীব্রতা বেড়ে গেছে বলে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে খবর পাওয়া গেছে।
মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা মতিউর রহমান জানিয়েছেন, ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় শনিবার সকাল থেকে তিনি ঘরের বাইরে যেতে পারেননি। দুপুরের দিকে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় সড়ক থেকে পানি সরতে দেরি হচ্ছে।
যাত্রাবাড়ী থেকে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, বৃষ্টির কারণে যাত্রাবাড়ী ও এর আশপাশের বহু অলিগলি পানিতে তলিয়ে যায়। রাতভর বৃষ্টির পর সকালে এর তীব্রতা আরো বেড়ে যাওয়ায় কর্মস্থল ও অফিসমুখী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। মহাসড়কেও যানজট বেড়ে যায় বলে জানান তিনি।
মোহাম্মদপুর থেকে কলেজ শিক্ষক খলিল পাঠান জানান, মোহাম্মদপুর, আদাবর, কল্যাণপুরসহ আশেপাশের এলাকায় সড়কে ও অলিগলিতে পানি উঠে গেছে। ঘর থেকে মানুষদের বের হতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদফতর সকালে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের বৃষ্টিপাতের রেকর্ডে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, কক্সবাজারে ২৬৩ মিলিমিটার। এ ছাড়া টেকনাফে ১৩২ মিলিমিটার, খেপুপাড়ায় ১২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম একই পরিমাণ ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর থেকে আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বলেন, শুক্রবার রাতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি থাকলেও শনিবার সকাল থেকে তা কিছুটা কমেছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ছয় ঘণ্টায় ঢাকাতে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস
শনিবার সকালে আবহাওয়ার ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।