March 5, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট : ক্যান্সার গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেলেন নিউ ইয়র্কের ওয়েইল কর্নেল মেডিক্যাল কলেজের বিজ্ঞানী স্কট লো। সামান্য জিনগত পরিবর্তনের সাহায্যে মাত্র অল্প কিছু দিনের মধ্যে এই মারণরোগ নির্মূল করার অব্যর্থ দিশা খুঁজে পেয়েছেন বলে তাঁর দাবি।
সম্প্রতি ‘সেল’ পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণাপত্র থেকে জানা গিয়েছে, টিউমার বেড়ে ওঠা ঠেকানোর জিনকে উন্নত করে তার সাহায্যে টিউমার সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করার পদ্ধতি আবিষ্কার করা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, এর জেরে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের কার্যকরী চিকিৎসা উদ্ভাবন করাও সম্ভব হবে।
প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত ওষুধে বেশির ভাগ ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলিকে মেরে ফেলা হয়। তাতে কাজ দিলেও অনেক সময় কয়েক সপ্তাহ পরে ফের শরীরের ওই অংশে টিউমার জন্মাতে পারে। এছাড়া, ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও হয় চরম কষ্টকর।
অধ্যাপক স্কট লো ও তাঁর দল Adenomatous Polyposis Coli (Apc) নামে একটি জিনের বিবর্তন ঘটিয়ে তার সাহায্যে কোলোরেক্টাল টিউমার ৯০ শতাংশ নির্মূল করতে সফল হয়েছেন। আপাতত ইঁদুরের উপর এই পদ্ধতি প্রয়োগে সুফল মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। গবেষকদের দাবি, Apc-এর মাত্রা বাড়িয়ে মাত্র ৪ দিনের মধ্যে ইঁদুরের শরীর থেকে টিউমার নিশ্চিহ্ন করে অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্য ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া গিয়েছে।
তাঁরা জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে মুষিকের অন্ত্র থেকে সমস্ত টিউমার বাদ দেওয়া গিয়েছে এবং ৬ মাস পরেও ক্যান্সার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দেয়নি। এই পদ্ধতি আরও উন্নত করে এবার মানবদেহের ক্যান্সার চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটাতে চান গবেষকরা।
তবে মানুষের শরীরে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ দূর করতে এই পদ্ধতি প্রয়োগে একটি দুর্ভেদ্য প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ইঁদুরের মতো মানবকোষের চরিত্রে জিনগত পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব নয়। এই কারণে ওষুধের সাহায্যে এবং অন্যান্য উপায়ে Apc-র পুনঃপ্রয়োগ ঘটাতে সচেষ্ট হয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি, অতি সক্রিয় Wnt pathway-কে নিয়ন্ত্রণ করে অন্ত্রের দূষণ ঠেকানোর উপায় খুঁজতে চলেছে আরও গবেষণা।
বিশ্বে প্রতি বছর অন্তত ৭ লাখ মানুষ মলাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। নব চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্যে ভবিষ্যতে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা যাবে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা। সেই সঙ্গে অন্যান্য ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও তা কার্যকরী হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।