পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

বলিউডের বর্ষাকাব্য

Posted on June 19, 2015 | in বিনোদন | by

01
বিনোদন ডেস্ক : এক সদ্য তরুণী ভালোবাসে তার প্রিয় বন্ধুকে। কিন্তু যখন সে জানতে পারে তার সেরা বন্ধুটি ভালোবাসে অন্য নারীকে তখন কান্না তার বাধ মানে না। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি ঝরে। তার চোখের জল মিশে যায় বৃষ্টিধারায়। ঠিক ধরেছেন, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবিতে ‘তুঝে ইয়াদ না মেরি আয়ি’ গানের সঙ্গে বৃষ্টিতে কাজলের কান্নার দৃশ্যের কথা বলা হচ্ছে। অথবা 02মনে করা যাক ‘রিমঝিম রিমঝিম’ গানের বিন্দু বিন্দু বৃষ্টির সঙ্গে মনীষা কৈরালা ও অনীল কাপুরের ভালোবাসায় সিক্ত হাসির ঝরে পড়ার কথা। ‘১৯৪২-এ লাভ স্টোরি’ ছবিতে রাহুলদেব বর্মণের অসাধারণ সুরে কুমার শানুর এ গান এবং সিনেমার দৃশ্যটি এখনও বলিউডি সিনেমায় বর্ষার সেরা গানগুলোর অন্যতম। বলিউডের প্রায় ছবিতেই বৃষ্টির মধ্যে একটি গানের দৃশ্য থাকে। কখনও তা প্রকাশ করে ভালোবাসা, কখনও তীব্র কষ্ট ও হতাশা, কখনও বিরহ। আবার অনেক ক্ষেত্রে বৃষ্টি ব্যবহৃত হয়েছে যৌনতার অনুষঙ্গ হিসেবে। বাণিজ্যিক ছবিতেই বৃষ্টির মধ্যে গানের দৃশ্য চিত্রায়নের মূল উদ্দেশ্য থাকে অভিনেতা অভিনেত্রীদের বৃষ্টিভেজা দেহ প্রদর্শন। এজন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্টুডিওর অভ্যন্তরে কৃত্রিম বৃষ্টি ব্যবহার করা হয়। বর্ষার অসংখ্য গান থাকলেও সব গান তো আর চিরকালীন হয়ে ওঠে না। এর মধ্যে কয়েকটি গান হয়ে ওঠে কালজয়ী। শ্রোতার মনে তা চিরদিন জেগে থাকে।
03যেমন, ‘নিমক হালাল’ সিনেমায় ‘আজ রাপাট যায়ে’ গানের দৃশ্যে অমিতাভ বচ্চন ও স্মিতা পাতিলের অনন্য অভিব্যক্তি। কিশোর কুমারের কণ্ঠে গানটি যে আবেদন সৃষ্টি করে তা অতুলনীয়। গানটি একই সঙ্গে যেমন শরীরী আবেদনের দিক থেকে দুর্দান্ত তেমনি রোমান্টিক। ‘চালবাজ’ সিনেমায় ‘না জানে কাহাসে আয়ি হ্যায়’ গানে শ্রীদেবীর কৌতুক এবং ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ সিনেমায় ‘কোই লাড়কি হ্যায়’ গানের সঙ্গে মাধুরীর অসাধারণ নাচ এখনও দর্শককে বিনোদন দেয়।  রোমান্টিক আবহ সৃষ্টিতে বৃষ্টির জুড়ি নেই। ‘শ্রী ৪২০’ ছবিতে বৃষ্টিভেজা রাজপথে নার্গিস ও রাজকাপুরের হেঁটে চলার দৃশ্য এবং সেই সঙ্গে ‘পেয়ার হুয়া ইকরার হুয়া’ গান তো হিন্দি সিনেমার ক্ল্যাসিক। একইভাবে ‘চলতি কা নাম গাড়ি’ সিনেমায় বৃষ্টিমুখর রাতে নায়ক কিশোর কুমারের জীবনে আসেন বৃষ্টিস্নাত মধুবালা। দৃশ্যটি দারুণ রোমান্টিক হয়ে ওঠে জলপতনের মধুর শব্দে এবং ‘এক লাড়কি ভিগি ভাগি সি’ গানে। গানটি কিশোর কুমারই গেয়েছিলেন। ‘চামেলি’ সিনেমাতেও নায়িকা কারিনা কাপুরের সঙ্গে নায়ক রাহুল বোসের দেখা হয় এক বৃষ্টিমুখর রাতে। যা দুজনের মনেই সমাজ ও সংস্কারের অতীত এক অনুভূতির সৃষ্টি করে। সেই সঙ্গে ‘ভাগো রে মান’ গান নিয়ে আসে এক অনন্য অনুভূতি। সুভাষ ঘাইয়ের ‘তাল’ সিনেমায় অঝোর বর্ষণ, সবুজ শৈলশ্রেণি, ঐশ্বরিয়া রাইয়ের বৃষ্টিতে ভেজা স্নিগ্ধ রূপ আর এ আর রহমানের সুর ‘তাল সে তাল মিলা’ যেন সত্যিই একটির সঙ্গে অন্যটির এক অনন্য ঐক্যতানের সৃষ্টি করে। পুরো সিনেমার সবচেয়ে রোমান্টিক দৃশ্য এটি। একইভাবে ‘গুরু’ ছবিতে শ্রেয়া ঘোষালের কণ্ঠে ‘বারসো রে’ গানের সঙ্গে পাহাড়ি জলপ্রপাত ও ঐশ্বরিয়ার নৃত্য, মন্দিরের ভাস্কর্য এবং গ্রামের বরষামুখর দৃশ্য অসাধারণ।
05রাজ কাপুরের ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ সিনেমার ক্লাইমেক্সে প্রবল বৃষ্টির ভিতর নায়কের (শশী কাপুর) নিজের প্রকৃত ভালোবাসার মানুষ রূপাকে (জিনাত আমান) খুঁজে পাওয়ার দৃশ্যটি মেলো ড্রামাটিক হলেও এর দৃশ্যায়ন অসাধারণ, অসাধারণ সেই সঙ্গে গান ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’।
কল্পনা লাজমির রুদালিতেও বৃষ্টির একটি চমৎকার দৃশ্য রয়েছে। যেখানে খরাপীড়িত রাজস্থানের এক গ্রামে ডিম্পল কাপাডিয়া বৃষ্টিতে বাড়িয়ে দেয় হাত।  শত দুঃখ কষ্টের মধ্যেও মানবসত্তার বেঁচে থাকার আকাঙ্খা ফুটে ওঠে এই দৃশ্যতে । ‘লগন’ সিনেমায় বৃষ্টি এসেছে জয়ের প্রতীক হয়ে। খরা ও দুর্দশাপীড়িত গ্রামে বৃষ্টি নামে সব প্রতিকূলতাকে জয় করে বেঁচে থাকার ও নতুন জীবনের প্রত্যাশা নিয়ে। বৃষ্টিতে ‘ঘানান ঘানান’ গানের সঙ্গে পুরো গ্রাম মেতে ওঠে আনন্দে। আমির খান ও গ্রেসি সিংয়ের অভিব্যক্তি অনন্য হয়ে ধরা দেয় এ গানে।
বৃষ্টিতে শুধু রোমান্টিকতা নয় সেইসাথে যৌনতার আবেদনও সৃষ্টি করেছে অনেক গানের দৃশ্যায়ন। ‘মোহরা ছবিতে ‘টিপ টিপ বারসে পানি’র সঙ্গে রাভিনার আবেদনময় নাচ সে কথা প্রমাণ করে। ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’তে কিশোর কুমার-আলিশা চিনয়ের কণ্ঠে ‘কাটে নেহি কাটতে’ গানের দৃশ্যে শ্রীদেবী-অনীল কাপুরের অভিব্যক্তি অনন্য। বিশেষ করে দুর্দান্ত ছিল শ্রীদেবীর শরীরী আবেদন। ‘চাঁদনি ছবিতে ‘লাগি আজ শাওন কি’ গানের সঙ্গে শ্রীদেবীর নাচও অসাধারণ আবেদনময়। ‘ফানা’ ছবিতে ‘ইয়ে সাজিশ হ্যায় বুন্দো কি’ গানে বৃষ্টিভেজা কাজল-আমির খানের অভিব্যক্তি যেমন আবেদনময় তেমনি রোমান্টিক। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ ছবিতে ‘মেরে খোয়াবো মে যো আয়ে’ গানটি বৃষ্টি কাজলের নাচের ভঙ্গিমায় আবেদনময় হয়ে ওঠে।
‘ফারার’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চন ও শর্মিলা ঠাকুরের বৃষ্টিস্নাত পর্দা-রোমান্স দারুণ জমে ওঠে ‘ম্যায় পিয়াসা তু শাওয়ান’ গানের সঙ্গে। ‘পিয়াসা শাওন’ ছবিতে ‘মেঘা রে মেঘারে’ গানের সঙ্গে জিতেন্দ্র ও মৌসুমী চ্যাটার্জিও রোমান্সও দারুণ। রোমান্টিক ও 04আবেদনময় বৃষ্টিভেজা গানের তালিকায় যুক্ত হতে পারে অসংখ্য শিরোনাম। ‘আয়া শাওন ঝুমকে’ ছবিতে ‘আয়া শাওন’ গানের সঙ্গে আশা পারেখ-ধর্মেন্দ্র, ‘অভিনেত্রী’ ছবিতে ‘ও ঘাটা সাওয়ারি’ গানে শশী কাপুর-হেমা মালিনী, ‘আজনাবি’ ছবিতে ‘ভিগি ভিগি রাতো মে’ গানে রাজেশ খান্না-জিনাত আমান, ‘বেতাব’ ছবিতে ‘বাদল ইয়ু গরাজতা হ্যায়’ গানে অমৃতা সিং-সানি দেওল এবং ‘হামতুম’ ছবিতে ‘সাসো কো সাসো মে’ গানের সঙ্গে সাইফ-রানির রোমান্স মনে রাখার মতো।
শত বর্ষা বৃষ্টির মধ্যেও ভালোবাসার দীপকে নিভতে দেয়নি ‘দেবদাস’-এর পারু। ‘সিলসিলা ইয়ে চাহাত কা’ গানটির দৃশ্যায়নে ঐশ্বরিয়ার নৃত্যভঙ্গীর মধ্যে যেন ফুটে ওঠে ভালোবাসার নিবিড়তা। আকাশে যতই গর্জে উঠুক মেঘ, বৃষ্টি নামুক অঝোরে, ভালোবাসার দীপ চিরদিন জ্বলবেই। বলিউডের বর্ষাকাব্যও চিরদিনই নতুন নতুন গানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করবে মানবমনের আনন্দ-বেদনা।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud