পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

জোড়া খুন: বাঁচার পথ নেই এমপিপুত্র রনির!

Posted on June 19, 2015 | in জাতীয় | by

Ronyঢাকা: জোড়া খুনের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না দিলেও একের পর এক সব সাক্ষ্যপ্রমাণই যাচ্ছে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনির বিরুদ্ধে। এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম। শুক্রবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘রনির যে আগ্নেয়াস্ত্র (৭ পয়েন্ট ৬৫) থেকে সেদিন গুলি করা হয়েছিল সেটি ব্যালাস্টিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই রিপোর্ট আমরা হাতে পেয়েছি। নিহতদের শরীরের বুলেট এবং পরীক্ষাগারে পাঠানো অস্ত্রের বুলেট একই ক্যালিবারের বলে রিপোর্ট এসেছে। এই আগ্নেয়াস্ত্র দিয়েই সেদিন ফায়ার (গুলি) করা হয়েছিল।’ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ মামলার সব ধরনের সাক্ষ্যপ্রমান এখন আমাদের হাতে। সেই গাড়িতে রনি এবং গাড়িচালক ছাড়াও আরো তিনজন ছিল। তাদের দেয়া বক্তব্যের সঙ্গে গাড়িচালকের দেয়া বক্তব্যের হুবুহু মিল পাওয়া গেছে। ব্যালেস্টিক প্রতিবেদনেও রনির পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়ার প্রমাণ মিলেছে। তাই আশা করছি আগামী সপ্তাহেই এ মামলার চার্জশিট দিতে পারবো আমরা।’ মনিরুল বলেন, ‘রনি আমাদের কাছে খুনের ঘটনায় নিজের দোষ স্বীকার করলেও আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু তার গাড়ি-চালক ইমরান ফকির আমাদের কাছে সেদিনকার ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খু জানিয়েছে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে। ইমরান আমাদের জানিয়েছিল, সেদিন গাড়িতে রনির তিনজন বন্ধুও ছিল। তার হলেন- জাহাঙ্গীর আলম, টাইগার কামাল ও কামাল মাহমুদ। এদের মধ্যে জাহাঙ্গীরকে ঘটনার আগেই মগবাজারে তার বাসায় নামিয়ে দেয়া হয়েছিল। অন্য দুইজন ঘটনার সময় গাড়িতেই ছিল। তারা তিনজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।’
মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী একজন আসামি একবার ১৬৪ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে আর রিমান্ডের আবেদন জানানো হয় না। কিন্তু যেহেতু আমরা রনিকে আদালতে ১৬৪ দেয়ার জন্য আবেদন করিনি এবং তিনি স্বীকারুক্তিমূলক জবানবন্দিও দেননি, তাই চলতি সপ্তাহে তাকে আরো সাতদিনের রিমান্ডের জন্য আদালতে আবেদন জানানো হবে। কারণ একজন আসামিকে ১৫ দিন রিমান্ডে নেয়া যায়। তাকে ইতিমধ্যে আটদিন রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আদালত যদি তার রিমান্ডের আবেদন নাও মঞ্জুর করেন তাতেও অসুবিধা হবে না। কারণ আমাদের কাছে তার বিরুদ্ধে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ আছে। এই মামলার তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে একটি গাড়ি থেকে ছোড়া গুলিতে দৈনিক জনকণ্ঠের অটোরিকশাচালক এবং এক রিকশাচালক মারা যান। গত বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল হকের কাছে রনির বন্ধু কামাল মাহমুদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, ‘ওইদিন গাড়ি থেকে মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনি গুলি ছুঁড়েছিলেন।’
এদিকে সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্র জানায়, জোড়া খুনের ঘটনায় যে প্রাডো গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো ঘ- ৩- ৬২৩৯) জব্দ করা হয়েছে সেটি নবম সংসদে শুল্কমুক্ত কোঠায় আমদানি করেছিলেন পিনু খান। যেহেতু ওই গাড়িটি তার তাই সেখানে সংসদ সদস্যের স্টিকারও শোভা পেতো সবসময়। আর ওই গাড়িতে চেপেই গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে রনির বিরুদ্ধে।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud