March 17, 2026
রাজশাহী: পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১ হাজার ২৪৯টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে ১ হাজার ২৮টি রেলক্রসিং এখনও অরক্ষিত। সুরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা মাত্র ২২১টি। এর অধীনে কেবল রাজশাহী নগরীর রয়েছে ২৮টি রেলক্রসিং। তার মধ্যে আবার অরক্ষিতের সংখ্যা ১১টি। অরক্ষিত এসব রেলক্রসিংয়ের মধ্যে ৭৫৭টির অনুমোদন দিলেও রেল কর্তৃপক্ষ সবগুলোতে এখনও পাহারাদার নিযুক্ত করতে পারেনি আর্থিক কারণে। তাই অরক্ষিত ক্রসিংয়ে নেই কোনো গেটম্যান ও গেট ব্যারিয়ার। নেই ডিভাইস পদ্ধতির সিগন্যাল সিস্টেমও। একরকম বাধ্য হয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এসব রেলক্রসিং পার হচ্ছে শত শত মানুষ ও যানবাহন। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এই রেলক্রসিংগুলো যেন এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত দুই বছরে নগরের রেলক্রসিংয়েই প্রাণ গেছে ১৩ জনের।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর থেকে নাটোরের আবদুল্লাহপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত লেভেল ক্রসিং (গেইট) রয়েছে ৮৭টি। এর মধ্যে রেলওয়ের অরক্ষিত ক্রসিংয়ের সংখ্যা ২৫টি, অনুমোদিত ও সুরক্ষিত রেলক্রসিং ৬২টি। আর কেবল নগরের মধ্যেই ২৮টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে ১১টি অরক্ষিত ও অনুমোদিত ক্রসিংয়ের সংখ্যা ১৭টি।
নগর এলাকার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেলক্রসিং, ভদ্রা, গৌরহাঙ্গা, দড়িখরবোনা, বর্ণালী, বহরমপুর রেলক্রসিং, কোর্ট রেলগেট, চারখুঁটার মোড়, কাশিয়াডাঙ্গা রেলক্রসিংসহ ১৭টি ক্রসিং রেলের অনুমোদিত। এসব গেটে রেলওয়ের নিয়োগ দেওয়া গেটম্যানরা কর্মরত থাকেন। তবে নগরের রাজপাড়া থানার চারখুঁটার মোড়ে গেটটি বৈধ হলেও সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়নি কোনো গেটম্যানকে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পারমানেন্ট ওয়ে ইন্সপেক্টর (পিডাব্লিআই/ওয়ে) পরিমল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, নগরে ১১টি ক্রসিং অরক্ষিত রয়েছে। এসব অনুমোদিত রেলক্রসিং ছাড়াও স্থানীয়রা তাদের চলাচলের সুবিধার্থে নিজেদের মতো করে রেলক্রসিং তৈরি করেছেন। এসব ক্রসিংয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব রেলওয়ের নয়।
তিনি বলেন, যেসব ক্রসিং অবৈধ সেগুলোতে নিজ দায়িত্বে পার হওয়ার মতো সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডে দেওয়া থাকে। ওইসব রেলক্রসিং দিয়ে সাধারণ পথচারী তাদের নিজের দায়িত্বে দুইপাশ ভালোভাবে দেখে পার হতে হবে। এ সব দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে রেলওয়ে কোনো ধরনের দায়ভার থাকে না। এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরের একটি অনুমোদিত ক্রসিংয়ের গেটম্যান অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন পর রেললাইনে সংস্কার হওয়ার কারণে নগরের মধ্যে দিয়ে ট্রেন চলাচলের গতি বেড়েছে। প্রায় সময় ঘটছে প্রাণহানি। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রেলক্রসিংগুলোর দিকে তেমন কোনো নজর দেন না। নগরের অনেক রেলক্রসিং আছে যেগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম। প্রতি ৮ ঘণ্টায় একজন করে গেটম্যান থাকার কথা থাকলেও অনেক রেলক্রসিংয়ে ২৪ ঘণ্টায় দু’জন থাকছে। রাজশাহী জিআরপি থানায় দায়েরকৃত অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় দুই বছরে নগর এলাকার রেলক্রসিংয়ে ১৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ২০১৩ সালের মে মাস থেকে ২০১৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকার রেলক্রসিংয়ে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) খায়রুল আলম জানান, কেবলমাত্র আর্থিক কারণে রেল কর্তৃপক্ষ সবগুলোতে এখনও পাহারাদার নিযুক্ত করতে পারেনি। এছাড়া জনবল সঙ্কটও রয়েছে। তবে বিষয়গুলো মাথায় রেখে জনবল বাড়াতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে ।