পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

মানবপাচার হাব নেতাসহ অভিযুক্ত ওমরা এজেন্টদের শো’কজ

Posted on June 12, 2015 | in জাতীয় | by

HajZatri_728712433ঢাকা: নানা বিতর্কের পর অবশেষে মানবপাচরে অভিযুক্ত হাব নেতাসহ ওমরা এজেন্টেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এবং চৌধুরী মো. বাবুল হাসান রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন।
বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার (১২ জুন) অভিযুক্তদের কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠানো হবে।
এ প্রসঙ্গে ধর্ম সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান বলেন, সৌদি আরব থেকে আমরা এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো তালিকা পাইনি। সৌদি দূতাবাস ও হজ কাউন্সিলরের কাছ থেকে একাধিক তালিকা পেয়েছি। তা সমন্বয়ের কাজ চলছে। সমন্বয় করে অভিযুক্তদের শনিবারের মধ্যে শো’কজ লেটার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, হজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) সভাপতি মো. ইব্রাহিম বাহার ও নির্বাহী কমিটির অন্যান্য নেতাসহ অভিযুক্ত ওমরা এজেন্টদের শো’কজ নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। ওমরা পালনের নামে কিছু এজেন্সির মানবপাচারের কারণে ওমরা ভিসা বন্ধ করেছে সৌদি সরকার।
আরও জানা যায়, অভিযুক্তদের মানবপাচার সংক্রান্ত বিষয়ে জবাব দিতে বলা হচ্ছে। পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে হবে। মানবপাচারের অভিযোগে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, জরিমানা করা ও ফৌজদারি আইনে মামলা করা হবে কি না জানতে চাওয়া হবে কারণ দর্শানো নোটিশে। স্বল্প সময়ের মধ্যে পাচার হওয়া ওমরাযাত্রীদের ফেরত আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না তাও জানতে চাওয়া হবে। এর আগে গত ৮ জুন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ধর্ম সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান মানবপাচারে মামলা করার সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দেন। এই অবস্থার মধ্যদিয়ে মানবপাচার রোধে ব্যবস্থা নিতে সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬৫টি এজেন্সির মাধ্যমে ওমরার জন্য পাঠানো লোকের মধ্যে মোট ১০ হাজার ১শ ৩০ জন ফেরত আসেনি। হজ কাউন্সিলরের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় ৩ হাজার ৯শ ২৭ জন, দ্বিতীয় দফায় ১ হাজার ৭শ ২৭ জন এবং তৃতীয় দফায় ৪ হাজার ৪শ ৭৬ জন। যেসব এজেন্সির মাধ্যমে এসব লোক সৌদি আরবে পাচার হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে হাব সভাপতি মো. ইব্রাহিম বাহারের মালিকাধীন এজেন্সি মেগাটপ ট্রাভেল ইন্টারন্যাশনাল (প্রা.) লিমিটেড, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. হেলালের মুনা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, সহ-সভাপতি ফরিদ আহমদ মজুমদারের গোল্ডেন বেঙ্গল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এবং যুগ্ম-মহাসচিব মোজাম্মেল হোসেন কামালের হাসিম এয়ার ইন্টারন্যাশনাল।
মানবপাচারকারী হিসেবে অভিযুক্ত তালিকায় রয়েছেন হাবের নির্বাহী সদস্য এন এম এইচ খাদেম দুলালের খাদেম এয়ার সার্ভিস, আবু বকর সিদ্দিকীর আল নূর ইন্টারন্যাশনাল, আবুল মালেকের সবুজ বাংলা ইন্টারন্যাশনাল, হাব চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি মো. ইলিয়াসের গোল্ডেন বেঙ্গল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এবং হাব সভাপতির জামাতা হাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব মান্নানের টাইমস অ্যাভিয়েশন।
গত ২৫ মে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের হজ কাউন্সিলর মো. আসাদুজ্জমান মানবপাচারে জড়িত ওমরা এজেন্সির তালিকা পাঠান ধর্ম সচিবের কাছে। এরপরেও দুই দফা তালিকাসহ চিঠি দেন হজ কাউন্সিলর। চিঠিতে এজেন্সিগুলোর উপর চাপ সৃষ্টি করে পাচার হওয়াদের ফেরত আনাসহ আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে ওমরা ভিসা চালু করার অনুরোধ জানানো হয়।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud