May 3, 2026
নিউজ ডেস্ক : ২৫টি এজেন্সির মাধ্যমে ওমরাহ করতে গিয়ে কয়েক হাজার লোক ভিসার মেয়াদের মধ্যে দেশে ফেরেননি। এ কারণেই সৌদি সরকার বাংলাদেশকে ওমরাহ ভিসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য অনলাইন সিস্টেম লক করে দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যেই সৌদি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেদাস্থ বাংলাদেশ হজ মিশনকে জানিয়েছে। জেদ্দা বাংলাদেশ হজ মিশন থেকে গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত্ একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাতে ২৫টি এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, এর ফলে আগামী বছরের ওমরা ও সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা ুণœ হতে পারে।
জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ হজ মিশন থেকে ওমরাহ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (হজ) ফয়জুর রহমান ফারুকী। তিনি বলেন, একটি চিঠি পেয়েছি। আমরা সংশ্লিষ্ট ওমরাহ এজেন্সিগুলোকে কারণ দর্শানের নোটিশ দিয়ে বিষয়টি জানতে চাইব। তিনি বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় ওমরাহর লাইসেন্স দেয়া ও নবায়ন করা ছাড়া আর কোনো কাজ করে না। ওমরাহর কাজটি এজেন্সিগুলো সৌদি মোয়াল্লেম ও বাংলাদেশস্থ সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে করে থাকে। ফলে ওমরাহযাত্রীর কোনো পরিসংখ্যান ধর্ম মন্ত্রণালয়ে নেই। যেই চিঠি আমাদের কাছে এসেছে তাতে কিছু ওমরাহ এজেন্সির নাম রয়েছে। তবে তাদের কতসংখ্যক হাজী ফেরেনি তা উল্লেখ নেই। আমরা বিষয়টি বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চিঠিতে ওমরাহ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে চলতি বছরের হজ এবং আগামীতে ওমরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এবার ওমরায় গিয়ে গত বছরের চেয়ে বেশিসংখ্যক লোক দেশে ফিরেনি। এই কারণেই সৌদি সরকার ওমরাহর সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছে। ২৫টি এজেন্সির মধ্যে কয়েকটি এজেন্সির নাম জানা গেছে। তবে তাদের কতসংখ্যক যাত্রী ফিরে আসেনি তা জানা যায়নি। এজেন্সিগুলো হলো- সিটি নিউন ট্রাভেলস, মল্লিক ট্রাভেলস, ইজিওয়ে ট্রাভেলস, পিপলস এভিয়েশন ট্রাভেলস, মাসুদ ট্রাভেলস, এভারগ্রীন ট্রাভেলস। এর মধ্যে মল্লিক ট্রাভেলসের সাথে যোগাযোগ করা হলে এর ম্যানাজার জানান, তারা ওমরাহ কার্যক্রম পরিচালন করছেন। তাদের সব যাত্রীই ফিরে এসেছে বলে তিনি জানান। অন্য কয়েকটি এজেন্সির সাথে ফোনে যোগযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গ, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের ওমরাহ যাত্রীদের ভিসা দেয়া বন্ধ রেখেছে সৌদি আরব। এ বিষয়ে এতদিন সৌদি সরকার কিংবা বাংলাদেশস্থ সৌদি দূতাবাস থেকেও কিছু জানা যাচ্ছিল না। সর্বশেষ গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আসা চিঠি থেকে জানা গেল মূলত ওমরাহর নামে মানবপাচারের কারণেই সৌদি আরব ওমরা ভিসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন ওমরাহ করতে গিয়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার লোক দেশে ফেরেনি। তবে এ সংক্রান্ত তালিকা জেদ্দা বাংলাদেশ হজ মিশন থেকে পাঠানো চিঠিতেও উল্লেখ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে জানার জন্য কাউন্সিলর হজ আসাদুজ্জামানের সাথে ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (হজ) ফয়জুর রহমান ফারুকীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিসংখ্যান আমরাও জানি না। যেহেতু সৌদিআরবের ওমরাহ পরিচালনাকারি এজেন্সিগুলোর অভিযোগের ভিত্তিতে চিঠিটি এসেছে সেহেতু ওমরাহ যাত্রী ও না ফেরা ওমরাহ যাত্রীর সংখ্যাও পরে জানা যেতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা এখন এজেন্সিগুলোর কাছে কারণ জানতে চাইব। এ জন্য তাদের আজকালের মধ্যেই চিঠি দেয়া হবে।
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ ওমরাহ পালন করতে যান। এর মধ্যে রমজান মাসেই যায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ওমরাহ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশী লোক বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ পালন করেছেন। আসন্ন রমজানে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ওমরাহর ভিসা পাবেন কি না তা এখনো পরিষ্কার নয়। এখন পর্যন্ত ওমাহর জন্য সৌদি আরবে অনলাইন সিস্টেম বন্ধ আছে। সূত্র নয়া দিগন্ত।