পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

নববর্ষে সীমান্তে বাঙ্গালির মিলনমেলা

Posted on April 14, 2015 | in সারা দেশ | by

মো, রফিকুল ইসলাম ও রাকিব : পাসপোর্ট, ভিসা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, বিজিবি ও বিএসএফের বাধা উপেক্ষা করে পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী এলাকার অমরখানায় হয়ে গেল দু’বাংলার লালো মানুষের মিলনমেলা।MILON-MELLA-PIC2-400x284
মঙ্গলবার বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দু’বাংলার সর্বস্তরের মানুষের উপচে পড়া ভিড় সীমান্তের কঠোর নিরাপত্তাকে হার মানায়।
অমরখানা সীমান্তের ৭৪৪ নং মেইন পিলারের ১ থেকে ৭ নং সাব-পিলার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার নোম্যান্সল্যান্ড এলাকার কাঁটাতারের বেড়ার দু’পাশে পঞ্চগড় জেলার অমরখানা ইউনিয়নের অমরখানা ও বোদাপাড়া এবং ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রায়গঞ্জ থানার খালপাড়া, ভিমভিটা, গোমস্তাবাড়ি ও বড়ুয়াপাড়া গ্রামসহ দু’দেশের বিভিন্ন বয়সী লাখো মানুষ এ মিলনমেলায় অংশ নেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়। বেলা ১২টায় বিএসএফ-বিজিবি একমত হয়ে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে যাওয়ার অনুমতি দিলে বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মতো উভয় দেশের বিভিন্ন বয়সী মানুষ নোম্যান্সল্যান্ডে প্রবেশ করেন। এ মিলনমেলা সকাল ১১টা থেকে চলে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।
১৯৪৭ সালে পাক-ভারত বিভক্তির আগে পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া, বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার অধীনে ছিল। পাক-ভারত বিভক্তির পর এসব এলাকা বাংলাদেশের অর্ন্তভূক্ত হয়। দেশ বিভক্তের কারণে উভয় দেশের নাগরিকদের আত্মীয়-স্বজন দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও দুই দেশের নাগরিকরা তাদের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়া-আসার সুযোগ পেলেও ভারত সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করায় অবাধ যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে উভয় দেশের নাগরিকদের অনুরোধে প্রায় একযুগ ধরে বিজিবি ও বিএসএফের সহযোগিতায় অমরখানা সীমান্তে দুই বাংলার মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
পঞ্চগড় ১৮ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক মো. আরিফুল হক বলেন, ‘মিলনমেলার মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে বছরের একটি দিন তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। এটা অনেক বড় পাওয়া তাদের কাছে। আমরা বিএসএফ এর সঙ্গে আলাপ করে এই মিলনমেলার আয়োজন করেছি।’
বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়ার গেট থেকে তাদের সীমান্ত রেখায় এসে অবস্থান নেয়। বিজিবিও একই স্থানে এসে নিজদের মধ্যে কুশল বিনিময় করে। কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ নিজেদের স্বজনকে খুঁজে বের করে কুশল বিনিময় ছাড়াও প্রিয়জনদের সামর্থ্য অনুযায়ী উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেনি।
পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার রাকিব (৪০) বলেন, প্রতি বছরে পহেলা বৈশাখে এ সীমান্তে কাঁটাতারের মধ্যেদিয়ে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছি। নাহিদা আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরী জানায়, প্রতি বছরে এখানে ভারত-বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের মিলনমেলা হয় তা দেখতে এসেছি।
কিছু সময়ের জন্য হলেও দু’দেশে বসবাসরত স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ করে দেওয়ায় উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud