পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

রনির ইশতেহার

Posted on April 13, 2015 | in রাজনীতি | by

নিউজ ডেস্ক : এবার ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করলেন গোলাম মাওলা রনি। সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ইশতেহার প্রকাশ করেন। আমাদেরসময় ডটকমের পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হল।
সম্মানীত নগরবাসী,11026133_639143106190552_48
আস্সালামু আলাইকুম- ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু !
সমগ্র দেশের লক্ষ-কোটি মানুষের মতো আপনিও হয়তো রাজনীতির প্রতি বিরক্ত হয়ে ওঠেছেন। রাজনীতিবিদ দেখলে বা তাদের কথা শুনলে আপনি হয়তো আগের মতো মনোযোগী হয়ে তাদের কথা শুনেন না। গত কয়েক বছরের হানা হানি- মারামারি, খুন-হত্যা -গুম কিংবা পেট্রল বোমার ভয়াবহ তান্ডব আপনাকে হয়তো বিক্ষুব্দ করে তুলেছে। ক্ষোভের আগুনে জ্বলতে জ্বলতে আপনি যখন প্রায় কয়লা হতে বসেছেন ঠিক তখনই সিটি নির্বাচন নামক রাজনৈতিক ডামাডোলে আমাদেরকে অংশ গ্রহন করতে হচ্ছে। অসংখ্য মানুষের কান্না, চাপা ক্ষোভ আর লাশের পোড়া ও পঁচা গন্ধে আমিও আপনাদের মতো বেদনাহত, ভারাক্রান্ত এবং ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এই অবস্থায় নিজেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আপনাদের সামনে উপস্থাপন কিংবা আমার আংটি প্রতীকটির জন্য ভোট চাইতে গিয়ে অসহায় বোধ করছি। আপনারা আমার এই মানবিক দূর্বলতা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখলে কৃতজ্ঞ থাকবো।
প্রিয় নগরবাসী-আসমান ও জমিনের মালিক মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনকে হাজির-নাজির জেনে বলছি – বিশ্বাস করুন ! আমি অন্যসব রাজনীতিবিদদের মতো নই। লোভের আগুনে উত্তপ্ত হয়ে আমি কোন দিন অন্যের হক নষ্ট করিনি। নিজের স্বার্থের জন্য ক্ষমতাবানদের নিকট মাথা নত করিনি। নিজের বিবেককে বন্ধক রেখে দূর্নীতিবাজদের সঙ্গে উল্লাস নৃত্য করিনি- বরং প্রতিবাদ করেছি- মানুষের কথা বলেছি-দেশের কথা বলেছি। শেয়ার মার্কেটে পুঁজি হারানো লক্ষ লক্ষ অসহায় মানুষের পক্ষে রুখে দাঁড়িয়েছি- দূর্নীতিবাজ, লুটেরাদের মুখোশ উন্মোচন করেছি। তাদের রক্ত চক্ষু আমাকে থামাতে পারেনি- তাদের চক্রান্ত আমাকে দমাতে পারেনি-তাদের নির্যাতন আমাকে স্তব্দ করতে পারেনি। আপনাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আজও দাঁড়িয়ে আছি- আমি আজও বলে যাচ্ছি এবং অনবরত লিখে যাচ্ছি।
বিগত সাতটি বছর রেডিও, টেলিভিশনে আপনারা আমার কথা শুনেছেন এবং আমাকে দেখেছেন। পত্র পত্রিকায় আমার লেখা পড়েছেন। এই মহানগরীর তরুন-তরুনী, যুবক যুবতী এবং সম্মানীত বয়োজেষ্ঠগনের অনেকেই আমাকে চেনেন এবং জানেন। আমি প্রচলিত রাজনীতির স্রোতে গা ভাসাইনি এবং ভাসাবো না ইন্শা আল্লাহ। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ হিসেবে আল্লাহ আমাকে যে জ্ঞান-বুদ্ধি-প্রজ্ঞা দান করেছেন তা দিয়ে আমি কেবল নিজের কথা চিন্তা করিনি-আপনাদের কথাও চিন্তা করেছি। তাবৎ দুনিয়ার বড় বড় নেতা এবং মহান শাসকগনের জীবনী পড়েছি- তাদের কর্মকান্ড নিয়ে গবেষনা করেছি। কিভাবে তারা একটি অসহায় সম্প্রদায় কিংবা জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে সভ্যতার স্বর্ন শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন সেই সব কাহিনী মুখস্ত করেছি আর বাংলাদেশের কথা ভেবেছি- বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কথা ভেবেছি- ঢাকা বাসীর কথা ভেবেছি। আর সেই ভাবনা থেকেই নিজেকে বহুদিন ধরে প্রস্তুত করেছি একজন যোগ্য মেয়র হিসেবে আপনাদের সেবায় আমার মন -মননশীলতা – চিন্তা চেতনা- বুদ্ধি প্রজ্ঞা এবং শ্রম ও সময়কে উৎসর্গ করার জন্য।
নির্বাচনের মাঠে কথা মালার ফুলঝুরি ঝরছে- প্রতিশ্র“তির বন্যা বইছে এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার নানা সব যাদু মন্ত্র উপস্থাপন করা হচ্ছে। এই মহানগরীর পুঞ্জীভূত হাজারো সমস্যাকে পুঁজি করে আপনাদেরকে অবাস্তব সব উন্নয়নের মহা পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে- আমি ওসব বলবো না। আমি বলবো না- নগরীর মশার কথা, ড্রেন কিংবা জলাবদ্ধতার কথা। যানজট, সন্ত্রাস, পাবলিক টয়লেট কিংবা সবুজ নগরী গড়ার কথাও বলবো না। কারন ওসব বড় সস্তা কথা- ওসব বলতে কিংবা করতে খুব বেশী জ্ঞান-গরিমা-পন্ডিতি বা বাহাদুরীর দরকার নেই। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ পিয়ন-চাপরাশি ও জানে যে-ঐগুলো একজন মেয়রের সাধারণ দায়িত্ব।
মেয়র নির্বাচিত হলে আমি সবার আগে একথা প্রমান করবো যে- আমি আপনাদের লোক। আমার অফিসটি মুলত আপনাদের অফিস আর নগর ভবন হলো আপনাদের বাড়ী। আপনারা নগর ভবনে যাবেন একবুক আশা নিয়ে এবং ফিরবেন হাসি মুখে। আমি আপনাদেরকে বিশ্বাস করাবো এবং আপনাদের মনে এই আস্থা গড়ে তুলবো যে- আপনাদের মেয়র চোর নয়-তিনি টেন্ডারবাজি, দোকান বরাদ্ধ, ঘুষ-দূর্নীতি, নিয়োগ বানিজ্য করেন না। তিনি আপনাদের সমস্যা বোঝেন এবং সেগুলো সমাধানের জন্যে রাত দিন কাজ করেন। তিনি আপনাদের অভিভাবক হিসেবে আপনাদেরকে বিপদের সময় সাহায্য করবেন- আপদের সময় পরামর্শ দিবেন এবং প্রয়োজনে সেবকরূপে শুশ্র“ষা করবেন।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সকল সমস্যা দুর করার জন্য সবার আগে দরকার নগর ভবনের সমস্যা সমূহ উচ্ছেদ করা। দূর্নীতিবাজ কর্মচারীদের দৌরাতœ এবং অত্যাচার বন্ধ করার জন্য আপনাদের দরকার হবে একজন সৎ, সাহসী, চরিত্রবান এবং জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন মেয়রের। কর্মকর্তা কর্মচারীদের দক্ষতাবৃদ্ধি, তাদের নিকট থেকে কাজ আদায় এবং তাদেরকে নগরবাসীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তুলতে না পারলে ঢাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমার মনে হয় অতীতের মেয়রগন জনগনের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে পারেননি- নগরবাসী একবারের জন্যও ভাবতে পারেনি- মেয়রের চেয়ারে বসে লোকটি নিজের কথা না ভেবে আমাদের কথা ভাবছে-কিংবা নিজের উন্নয়ন না করে নগরের উন্নয়ন করছে। অন্যদিকে সম্ভবত মেয়রগনও ভাবেনি যে- তার চেয়ারটি আল্লাহর নেয়ামত এবং জনগনের আমানত। তারা হয়তো চেয়ারটিকে মনে করেছেন সিংহাসন। ফলে যা হবার তাই হয়েছে- নগরীর উন্নয়ন না হলেও তাদের উন্নয়ন হয়েছে, দেশে বিদেশে শত শত বাড়ী হয়েছে- নতুন নতুন গাড়ী হয়েছে- বিত্ত বিলাস আর চর্বি হয়েছে।
একটি সুখী এবং সমৃদ্ধশালী মহা নগরী গড়ে তোলার জন্য আমি সরকারের প্রত্যেকটি মন্ত্রনালয়- বিভাগ এবং অনুবিভাগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলবো। প্রত্যেকটি কাজ পারস্পারিক সহযোগীতা এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে করবো। নগরবাসীর দৈনন্দিন সমস্যা জানার জন্য নিয়মিত ভাবে প্রতি ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অফিসে নিজে উপস্থিত থেকে মাসিক মত বিনিময় সভার আয়োজন করবো। এর বাইরে নাগরিক গন যাতে জরুরী প্রয়োজনে সব সময় মেয়রকে পেতে পারে সেই জন্য আমার অফিস, বাসা, মোবাইল সকলের নিকট উন্মুক্ত করে দিবো ইন্শা আল্লাহ।
আমি নগরবাসীকে সাহায্য করবো সুন্দর একটি পরিবার গড়ে তোলার জন্য। একজন মা যখন গর্ভবতী হবেন ঠিক তখন থেকেই নগর ভবন ঐ প্রসূতি পরিবারের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যাবে। এরপর নবজাতকের জন্ম, তার বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে সকল কাজে নগর ভবন তাকে সাহায্য করবে। একটি নীতিনিষ্ঠ সমাজ গড়ে তোলার জন্য দুষ্টের দমন, শিষ্ঠের পালন, ছোটদেরকে স্নেহ এবং বড়দেরকে সমীহ করা সহ বাঙালীর হাজার বছরের সামাজিক ঐতিহ্য সমূহ পুনঃ প্রতিষ্ঠা করার জন্য নগরভবন কাজ করে যাবে। নগরভবনে প্রতিষ্ঠিত হবে একটি সার্বক্ষনিক হেল্প লাইন। যেকোন বিপদাপন্ন নাগরিক যে কোন প্রয়োজনে কিংবা পরামর্শের জন্য দিন-রাতের যে কোন সময়-এই হেল্প লাইনের সাহায্য নিতে পারবে।
নগর ভবনের থাকবে একটি নিজস্ব ডাটা ব্যাংক। সেখানে সংরক্ষিত থাকবে নাগরিকগনের যাবতীয় তথ্য, মহানগরীর প্রয়োজনীয় তথ্য সহ দেশ-বিদেশের প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ন তথ্য। নগরভবন চালু করবে স্বনির্ধারণী কর ব্যবস্থা। নাগরিকবৃন্দ নির্দিষ্ট নিয়মে ঘরে বসে যেমন নিজের কর নিজেই নির্ধারণ করতে পারবেন তেমনি ইন্টার নেটের মাধ্যমে নিজের অবস্থান থেকেই কর পরিশোধ করতে পারবেন। নগরভবনের দূর্নীতি রোধে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী-কাউন্সিলার এবং মেয়রের স্বেচ্ছাচারীতা রোধের উদ্দেশ্যে বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দের সমন্বয়ে বৃটেনের প্রিভি কাউন্সিলের ন্যায় একটি গন আদালত গঠনের চেষ্টা করা হবে।
ঢাকা দক্ষিন সিটির প্রতিটি ওয়ার্ডে তরুনদের জন্য ইয়ুথ ক্লাব, কর্মজীবিদের জন্য প্রফেশনাল ক্লাব, বয়স্কদের জন্য সিনিয়র সিটিজেন ক্লাব গঠন করা হবে নগর ভবনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে। এই তিনটি সংগঠনের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি, জাতীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি এবং সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা হবে। নগরবাসীকে আবহমান বাংলার সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং সঙ্গীতের পাশা পাশি ধর্মীয় বিষয়ে সচেতন করে তোলার জন্য নগরভবন ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহন করবে।
নগরের সন্ত্রাস দমন, মাদক নিয়ন্ত্রন, নারী নির্যাতন রোধ, বাল্য বিবাহ, শিশু নির্যাতন, বস্তিবাসীর জীবন মান উন্নয়ন, ভবঘুরে, ছিন্নমুল পাগল ও ভিক্ষুকদের পূনর্বাসনের জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সহযোগীতার পাশা পাশি নগরভবন স্বতন্ত্র কর্ম পরিকল্পনা প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন করবে। নগর ভবনে স্থাপিত হবে সমৃদ্ধ একটি লাইব্রেরী এবং ডিজিটাল ল্যাবরেটরী। ভেজাল রোধে মোবাইল কোর্ট এবং খাদ্য দ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রনে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
প্রিয় নগরবাসী- পরিকল্পনার কথা বললে- অনেক বলতে পারবো। কিন্তু কথা বলার চেয়ে আপনাদের দরকার পড়বে একজন মানুষের যিনি কিনা সুনামের সাথে সততা এবং ন্যয়পরায়নতার সংমিশ্রন ঘটিয়ে অনেক সফল কর্ম সম্পাদনের যোগ্যতা রাখেন। আপনারা দয়া করে সকল মেয়র প্রার্থীর খোঁজ খবর নিন এবং যাকে যোগ্য মনে করেন তাকেই ভোট দিন। আমাকে আপনাদের পছন্দ হলে আংটি মার্কায় ভোট দিন। ইন্শা আল্লাহ ! কথা দিচ্ছি-সর্বশক্তি দিয়ে ঈমানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো। আল্লাহ হাফেজ।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud