April 16, 2026
কাঁচপুর বালুর মাঠ থেকে : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘সুন্দরবনের দুর্ঘটনা পরিকল্পিত। সুন্দরবনে আর পশুপাখি থাকবে না, পালিয়ে যাবে। ওটা ওয়েল ট্যাংকার ছিল না, ছিল বালুর ট্যাংকার।’ তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। এ সরকার শুধু মানুষখেকো নয়, পশুখেকোও। ওরা বাংলাদেশ খেয়ে ফেলতে চায়। তাই খুনিদের ক্ষমতায় রাখা যায় না। যখনই ডাক দেওয়া হবে মা-বোন সবাই প্রস্তুত থাকবেন। আন্দোলন করে সরকারকে হটাতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এই সরকার জনগণের জন্য বোঝাতে পরিণত হয়েছে। এ বোঝা সরাতে হবে। এ জন্য আন্দোলনের বিকল্প নেই।’ নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে শনিবার বিকেলে ২০ দলীয় জোটের জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।

বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির চক্রান্ত প্রতিরোধ, গুম-খুন-গুপ্ত হত্যার প্রতিবাদ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে জনসভা শুরু হয় শনিবার বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে। জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন। খালেদা জিয়া বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে জনসভা মঞ্চে আসেন। খালেদা জিয়া বলেন, ‘ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস। কিন্তু বিজয়ের মাসে মানুষের মুখে হাসি নেই। আনন্দ নেই। কারণ মানুষ প্রতিনিয়ত গুম-খুন ও অপহরণের শিকার হচ্ছে। এ সবই করছে আওয়ামী লীগ।’ ‘নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের মূলহোতা কর্নেল জিয়াউল হাসানকে জামাই আদরে রাখা হয়েছে’ এমন অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘এই জিয়াকে ধরলে নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশের গুম, খুনের সকল হোতা বের হয়ে যাবে। এই হত্যাকারীকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। চাকরিচ্যুত করতে হবে।’
তিনি বলেন, আজকে দেশের কী অবস্থা? দেশের মানুষ কি ভাল আছে? নাই। এখন দুর্নীতিবাজ, অত্যাচারী সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, ‘এমনিতেই বিদ্যুৎ-গ্যাস থাকে না। আবার নাকি বিদ্যু-গ্যাসের দাম বাড়ান হবে। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ান হলে আমরা কিন্তু বসে থাকব না। গ্যাস-বিদুুতের দাম বাড়ান হবে না। যদি বাড়ান হয় তবে পরদিন থেকেই আন্দোলন শুরু হয়ে যাবে।’ খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, এই সরকার সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে ধ্বংস করছে। সিভিল প্রশাসনকেও দলীয়করণ করছে। মিথ্যা অভিযোগে ভাল ভাল কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠাচ্ছে। আমার সঙ্গে দেখা করলে চাকরি যায়। এর আগে খালেদা জিয়া বেলা সোয়া ২টায় তার গুলশানের বাসভবন থেকে রওয়ানা দেন। তিনি গুলশান, রূপসী বাংলা মোড়, পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, হাটখোলা, যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার হয়ে সোনারগাঁও কাঁচপুর বালুর মাঠের জনসভায় যোগ দেন।
খালেদা জিয়ার যাত্রাপথে তাকে স্বাগত জানান অসংখ্য নেতাকর্মী। যাত্রাবাড়ী থেকেই সমাবেশস্থল পর্যন্ত তোরণ, ফেস্টুনে ছেয়ে ফেলা হয়েছে। এ সব তোরণ-ফেস্টুনে শোভা পাচ্ছে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আলোকচিত্র। বিএনপি নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, নারায়ণগঞ্জ জনসভায় প্রধান সমন্বয়ক বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহসান প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিবর, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক মো. আকরামুল হাসান প্রমুখ।
২০ দলীয় জোট নেতাদের বক্তব্য রাখেন— বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, জামায়াতের ইসলামীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. রেদওয়ান উল্লাহ সাহিদী, জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, এনডিপির খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আব্দুল মবিন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির গরিবে নেওয়াজ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, জমিয়তে ওলামার মাওলানা মুহিউদ্দিন একরাম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন— এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মুসলিম লীগের সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান, ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, কল্যাণ পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আমিনুর রহমান, লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী প্রমুখ।
এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান মনির, সোনারগাঁও বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক ও সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস প্রমুখ।
জনসভা শেষে খেলাফত মজলিসের মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক সরকার পতনের জন্য দোয়া করেন।