April 18, 2026
নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় র্যাবের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার ১০ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত র্যাব সদর দফতরের তদন্ত কমিটি এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করে। র্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত খুনের ঘটনায় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত (অপহরণ থেকে শুরু করে মরদেহ নদীতে ডোবানো পর্যন্ত) ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাতা র্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মুহাম্মদ ও কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেন সিপিএসসি জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। কিন্তু লে. কমান্ডার (অব.) এম এম রানা অপহরণ পর্যন্ত অংশ নিয়ে আংশিক জড়িত ছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়। তবে ঘটনার সঙ্গে র্যাব সদর দফতরের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। প্রতিবেদনে র্যাব আরও বলেছে, ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেই কাউন্সিলার নূর হোসেন কাউন্সিলার নজরুল ইসলামকে অপহরণ ও খুনের পরিকল্পনা করেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। র্যাব জানায়, কমিটি এই দীর্ঘ তদন্তকাজে শতাধিক র্যাব কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাধারণ মানুষ, প্রত্যক্ষদর্শী, ঘটনার শিকার সাত জনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে। এছাড়াও সাত জনকে অপহরণের পর খুন করার আগে সেসব স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় সেগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে তথ্য ও আলামত নিয়েই তার ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন করে তদন্ত কমিটি।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। ৩০ এপ্রিল ও ১ মে শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।