April 16, 2026
নিউজ ডেস্ক : চাপাতির অবিরাম আঘাতে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে, ভিজে যাচ্ছে সারা গা। শীর্ণ দেহটা নিয়ে আশার উপর ভর করে তবু শেষবারের মতো উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। বাঁচার জন্য প্রাণপণে মরিয়া হয়ে দৌড়ও দিয়েছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে রক্তের সঙ্গে শরীরের সব শক্তিও নিঃশেষ হয়ে দেহটা নিস্তেজ হয়ে গেছে, মুমূর্ষু দেহটা রাস্তার ওপরই লুটিয়ে পড়ে। এ দৃশ্য দেখে আতঙ্কে আশপাশের সবাই যখন নিরাপদ দূরত্বে সরে গেছে তখন মানবতার জন্যে এগিয়ে এসেছিলেন সাহসী এক রিকশাচালক। এরপর মুমূর্ষকে রিকশায় তুলে হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি; তার শেষ চেষ্টার কমতি ছিলনা। তবুও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি তাঁকে। মানবতা হারে তার কাছে। এ ঘটনায় গোটা বিশ্বে তৎকালীন সময়ে তোলপাড় শুরু হলে নায়ক হয়ে উঠেন তিনি। নায়কের প্রস্থান ঘটে, সরকারের টনক নড়ে, কিন্তু নায়কের প্রস্থান নাটকের কর্মকাররা কেউ জেলহাজতে আবার কেউ প্রকাশ্যে বুক চিতিয়ে হাঁটে। ফলে পরিবারের শোকগ্রস্তদের মনে আজও শান্ত¡না আসেনি। এই নায়কের নাম বিশ্বজিৎ দাস। ঠিক দু’বছর আগের এদিনের নায়ক তিনি।
সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের অবরোধের মধ্যে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি মিছিল থেকে জামায়াত-শিবির সন্দেহে দরজি বিশ্বজিৎকে ধাওয়া করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে বিশ্বজিৎ একটি মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নিলেও সেখানে তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলের কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল পুলিশ । মারাত্মক জখম অবস্থায় বিশ্বজিৎ রাস্তায় পড়ে থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। পরে এক রিকশাচালক স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকান্ড নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। জেগে ওঠে বিশ্ববিবেক। নাড়া দিয়ে ওঠে মানুষের জাগ্রত হৃদয়। বিশ্বজিতের খুনিদের গ্রেফতার করে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি ওঠে সব মহলে। ঘটনার দিন অজ্ঞাতনামা ২৫ জনকে আসামি করে সূত্রাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন এসআই জালাল আহমেদ। এরপর মামলাটি থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা অফিসে হস্তান্তর করা হয়। মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ২১ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম।
দাসকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ওই মামলায় ২১ আসামির মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদন্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়। তাঁদের মধ্যে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত দুজন ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১১ জন পলাতক। বাকি আটজন কারাগারে। এঁদের সবাই ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী।
আলোচিত বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামির কয়েকজনকে সম্প্রতি ছাত্র-লীগের একাধিক কর্মসূচিতেও দেখা গেছে। ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত একজনকে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকে সক্রিয় দেখা গেছে। তবে তিনি এখন ভারতে পালিয়ে আছেন। অথচ পুলিশ তাদেরকে খুঁজে পায়না। তাদেরকে আনা যাচ্ছেনা আইনের আওতায় ।