পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

‘টুনি’র মরদেহ উত্তোলন করে পুনঃময়নাতদন্তের নির্দেশ

Posted on November 26, 2014 | in বিনোদন | by

ঢাকা: নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’র টুনি চরিত্রের অভিনেত্রী নায়ার সুলতানা লোপার মরদেহ পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। লোপাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে হত্যা মামলার বাদিনী লোপার মা রাজিয়া সুলতানা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য আদালতে এ আবেদন জানিয়েছিলেন। ময়নাতদন্তের ওই প্রাথমিক প্রতিবেদনে লোপা ‘আত্মহত্যা করেছেন’ বলে উল্লেখ থাকায় তিনি এ আবেদন জানান।
lopa_banglanews24_888541539
এ আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার (২৬ নভেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) বিকাশ কুমার সাহা এ লক্ষ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগে ঢাকার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে পুনঃময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন আদালত। গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের শ্বশুরবাড়ি থেকে লোপার গলায় ফাঁস দেওয়া লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লোপার শ্বশুরের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দাম্পত্য কলহের জের ধরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। লোপার স্বামী আলী আমিন দাবি করেন, গুলশানের ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে  নায়ারের সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের জের ধরে নায়ার আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার সময় তিনি বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন বলেও দাবি করেন আমিন।

এ ঘটনায়  ওই দিন রাতেই নায়ারের স্বামী আলী আমিনকে আটক করে গুলশান থানা পুলিশ। রাতে লোপার মা রাজিয়া সুলতানা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা সাজানোর চেষ্টা উল্লেখ করে গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে লোপার স্বামী আলী আমিনসহ তার বাবা ও মাকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে আলী আমিনকে মাদকাসক্ত উল্লেখ করেন নায়ারের মা রাজিয়া সুলতানা। এতে প্রতিদিন লোপাকে শারীরিক নির্যাতন ও এসব নির্যাতনে আমিনের বাবা-মাও প্রশ্রয় দিতেন বলে উল্লেখ করা হয়। এ নির্যাতনের মধ্যেই ঘটনার দিন দুপুর আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে যেকোনো সময় তারা তিনজন লোপাকে শ্বাসরোধ করে সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

পরদিন আমিনকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। তবে আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে আমিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান লোপার গলার ডানে ও বাম হাতের গিরায় আঘাত সদৃশ চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করেন। তবে গত ১৬ নভেম্বর দেওয়া ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে লোপা ‘আত্মহত্যা’ই করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। প্রাথমিক এ প্রতিবেদনটি পেয়ে গুলশান থানা পুলিশ লোপার পরিবারকে বিষয়টি জানালে তারা এটি মেনে নেননি। পরে মামলার বাদিনী রাজিয়া সুলতানা পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য আদালতে আবেদন জানান।

নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত ‘এইসব দিনরাত্রি’ নাটকে ‘টুনি’ চরিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান লোপা। নাটকের শেষ পর্যায়ে ‘টুনি’ অসুস্থ হয়ে পড়লে সারা দেশের অসংখ্য মানুষ হুমায়ূন আহমেদের কাছে চিঠি লিখে টুনির প্রাণ রক্ষার আবেদন জানান। টুনির জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবরে অনেকে যেমন চোখের পানি ফেলেছিল, তেমনি দেশের বিভিন্ন স্থানে হয়েছিল মিছিলও।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud