পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

বদলে গেছে বনশ্রীর জীবনচিত্র

Posted on November 25, 2014 | in বিনোদন | by

ঢাকা: বেঁচে থাকার সংগ্রামে এক সময়ের লাস্যময়ী অভিনেত্রী বনশ্রী যখন ক্ষয়িঞ্চু আয়ু নিয়ে ধুঁকছেন তখনই অনেকটা ত্রাতার মতো তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সহায়তায় বনশ্রীর অসহায় জীবন পুনরুজ্জীবন লাভ করেছে বলা যায়। প্রধানমন্ত্রীর বিশ লাখ টাকার সহায়তা পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বনশ্রী বলেন, ‘আমি জানি না কোন ভাষায় কৃতজ্ঞা প্রকাশ করলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে। তিনি আমাকে বেঁচে থাকার অবলম্বন দিয়েছেন। আমার সন্তান ও আমার পক্ষ থেকে তার প্রতি রয়েছে কৃতজ্ঞচিত্তের দোয়া। তিনি দীর্ঘজীবি হউন।’
IMG-5984
সদ্য প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পাওয়া বনশ্রী এভাবেই তার অন্তরের সুপ্ত আকুতি ব্যক্ত করলেন। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমের প্রতিও তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। কারণ তারা তার সংগ্রামী চিত্র তুলেছেন প্রতিটি পদক্ষেপেই। বনশ্রী চলচ্চিত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর নানাভাবে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে শুরু করেন। তার রমরমা জীবনে আপনজন ও আÍীয়-স্বজন যারা তার সঙ্গে লেপ্টে থেকেছেন অসহায় জীবন শুরু হওয়ার পর সবাই তাকে ত্যাগ করে চলে যান। এমন কি তার পরিবারের সকলেও তার দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন। তিনি দুটি সন্তানের জননী। মেয়ে বড় এবং ছেলে ছোট। বনশ্রীর মেয়েটিকে এক সন্ত্রাসী তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তিনি থানা, পুলিশ করেও এর কোনও সুরাহা করতে পারেননি। তিনি এ বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার মতো একজন সাধারণ মানুষের কথা অত্যন্ত ধৈর্য নিয়ে শুনেছেন এবং আমার মেয়েকে আমার বুকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন। এজন্য আমি আবারও তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’ বনশ্রী জানান, এ সময়ে সেখানে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছেলেটি তার সঙ্গেই আছে। তিনি একটা সময়ে ছেলেকে এতিমখানায় দিয়ে দেন। বস্তিতে জীবন যাপন করতে গিয়ে ভাড়ার অভাবে তাকে প্রায় প্রতি মাসেই বাসা পরিবর্তন করতে হয়েছে।

তার এই দুঃসময়ে জীবন ধারণের জন্য বাসে বাসে নামাজ শিক্ষা বই বিক্রি করার সময় দেখা হয়ে যায় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। এই প্রতিবেদককে দেখে তিনি কিছুটা লজ্জিত হয়েছেন। দ্রুত চলে গেছেন। পরে তাকে খুঁজে বের করা হয় একটি বস্তিতে। তার ছবি তোলা হয়।  গোটা গণমাধ্যম জুড়ে তোড়পাড় শুরু হয়ে যায়। ততক্ষণে সহকর্মী রিমন মাহফুজ প্রতিবেদনটি বনশ্রীর ফোন নাম্বারসহ সব মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। এই প্রতিবেদনটি আমাদেরসময় ডটকম সর্বোচ্চ প্রায় পাঁচ শ’ শেয়ার হয়েছে। স্যাটেলাইট চ্যানেল এটিএন তাকে নিয়ে একটি হƒদয় বিদারক প্রতিবেদন সম্প্রচার করে। একইসঙ্গে এফএম এবিসি রেডিওতেও তাকে নিয়ে এই প্রতিবেদকের সাক্ষাৎকারসহ প্রতিবেদন প্রচার হয়। পত্র-পত্রিকাও ঝাঁপিয়ে পড়ে বনশ্রীর অসহায় জীবনের চিত্র তুলে ধরার জন্য। এ সময় অনেকেই তার দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে আসে। কিন্তু সেটা ছিল তার প্রয়োজনের তুলনায় যৎসামান্য। বনশ্রী এ সময়ে শিল্পী সমিতির কাছে সাহায্যের আবেদন করেন। সমিতির সভাপতি শাকিব খান তাকে অনেক দিন ঘুরিয়ে খালি হাতেই ফেরত দিয়েছেন। তার নিজের অতীতের কথাও তিনি ভুলে গেছেন। এক সময় তিনি নিজেও একটি ছবি ভিক্ষা চেয়ে প্রযোজকদের দুয়ারে দুয়ারে ধর্ণা দিয়েছেন। শাকিব খান এই প্রতিবেদককে বলেছেন, ‘বনশ্রী এমন একটা অংকের টাকা সাহায্য করব যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন।’ কিন্তু তার পরবর্তী আচরণে সত্যিই ভাবতে কষ্ট হয় যে তিনি বনশ্রীর যে-আচরণ করেছেন তা সত্যিই কল্পনা করা যায় না।

বনশ্রী আবারও জীবন সংগ্রামে নেমে পড়েন। একমাত্র অবলম্বন ছেলেকে এতিমখানায় রেখে তিনি ফুল বিক্রির কাজ শুরু করেন। তাকে ফুল বিক্রিরত অবস্থায় পাওয়া যায় শাহবাগ মোড়ে। আবারও পত্র-পত্রিকা মুখরিত হয়। এ সময় নাট্যকার ও পরিচালক জিএম সৈকত তাকে লোক মারফত তার অফিসে ডেকে নিয়ে আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা দিয়ে বনশ্রীর ফুল বিক্রির কাজ বন্ধ করেন। তিনি তার প্রতিটি নাটকে বনশ্রীকে কাজ করার অফার দেন এবং তার বাসায় আশ্রয় দেওয়ারও আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে তিনি নিজের মগবাজারের অফিসে বনশ্রীর বিষয় নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করে সকলকে আরও ব্যাপকভাবে জানান দেওয়ার আয়োজন করেন। এরপরই জিএম সৈকত রাণী সরকারকেও সহায়তা করার জন্য এগিয়ে যান। তিনি নারায়নগঞ্জে ছুটে যান অসুস্থ নায়ক সাত্তারের বাড়িতে। বললেন, সাত্তার একটি থেরাপির মেশিন পেলে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারেন। জিএম সৈকত বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই অন্যকে সাহায্য করার একটা মন-মানসিকতা পোষণ করে আসছি। এটা আসলে আমার মানস গঠনের মধ্যেই আছে।’

শুধু বনশ্রী, রাণী সরকার বা সাত্তারই নয়, আরও অনেক অসহায় শিল্পী সকলের দৃষ্টির আড়ালে ধুকে ধুকে জীবন যাপন করছেন। কবিতা নামের একজন নায়িকা এখন কাঠ বিক্রি করে জীবন যাপন করেন বলে শোনা যায়। একদিন একজন তাকে এই অবস্থায় খিলগাও এলাকায় দেখেছেন বলে জানালেন। কিন্তু কোথায় থাকেন সে ঠিকানা কোথাও পাওয়া যায়নি। তার কোনও আÍীয়-স্বজনেরও হদিস পাওয়া যায়নি। শিল্পীরা শেষ জীবনে এসে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এমন ভাগ্যই বরণ করেন। হয়তো বা শিল্পী জীবনের এটাই একটা অব্যাহত প্রক্রিয়া।
সুত্র…. আমাদেরসময় ডটকম

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud