April 17, 2026
হবিগঞ্জ : পাহাড়, টিলা, হাওর আর খালবিলের জেলা হবিগঞ্জ। প্রায় প্রতিটি পাহাড়-টিলা চা গাছে ঢাকা। এ চায়ের দেশের নতুন অর্থকরী ফসল শিম। হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল, নবীগঞ্জ ও মাধবপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এ সবজির চাষ হচ্ছে। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই শুধু শিমের মাচা। এসব মাচায় থোকা থোকা ফুল। অধিক লাভ হওয়ায় কৃষক দিন দিন ঝুঁকছেন শিম চাষের দিকে। ফলে প্রতি বছরই এ সবজি চাষ বাড়ছে। এখানকার শিম যাচ্ছে মালয়েশিয়া, ভারত, মিয়ানমারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। হবিগঞ্জে আশ্বিনা, কাকিয়া, বোয়ালগাদা, বারি-১, বারি-২ সহ কয়েকটি জাতের শিম চাষ বেশি হয়। মে থেকে জুনে আগাম শিম চাষ শুরু হয়। মৌসুমের শিম চাষ শুরু হয় আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে। বীজ বপনের ৯০ দিনের মধ্যে ফলন আসে। শুরুতে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হয় ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।
শিমচাষি মহিব উল্লাহ জানান, ১৯৯৮ সালে তিনি শিম চাষ শুরু করেছেন। অধিক লাভ হওয়ায় প্রতি বছরই আবাদ বাড়াচ্ছেন। কৃষক এমদাদুর রহমান জানান, তিন বিঘা জমিতে শিম আবাদে তার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। তিনি কমপক্ষে ২ লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। এখানে উচ্চফলনশীল জাতের বীজের অভাব রয়েছে। ফলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া কঠিন হচ্ছে। চাষি মোঃ রমজান মিয়া জানান, পানির অভাবে শেষ সময়ে শিমের উৎপাদন কমে যায়। ব্যাংকগুলোর কাছে ধরণা দিয়েও ঋণ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি। মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে টাকা নিয়ে চাষাবাদ করতে হয় বলে অভিযোগ অনেক কৃষকের। হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ শাহ আলম বলেন, ‘শিম চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। এ কারণে এ সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষক। প্রতি বছর হবিগঞ্জে শিমের আবাদ বাড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। উঁচু এলাকায় সেচ দিতে পারলে শিম চাষ আরও বাড়বে।’