April 21, 2026
রাজশাহী : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড, একেএম শফিউল ইসলাম হত্যাকা-ে অংশ নেওয়া যুবদল নেতা আরিফুল ইসলাম মানিক অত্যন্ত ভয়ঙ্কর এবং দুর্ধর্ষ। তার বিরুদ্ধে এখন বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার সম্পর্কে খোঁজ নিতে নড়েচড়ে বসেছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, র্যাবের অভিযানে আটক যুবদল নেতা মানিক অত্যন্ত ভয়ঙ্কর এবং দুর্ধর্ষ। তার অতীত জীবনের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ছাত্রদল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এবং বর্তমানে রাজশাহী জেলা যুবদলের আহবায়ক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের ডানহাত হিসেবে কাজ করেন মানিক।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় উজ্জ্বলের নেতৃত্বেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, বিশ্ববিদ্যালয়ে টেন্ডারবাজির ঘটনা ঘটে। আর উজ্জ্বলের এসব বহু অপকর্মের সঙ্গী এই মানিক। ড. শফিউল হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মহানগরীর মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, মানিকের বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি ও মাদক ব্যবসাসহ ১৭টি মামলা আছে। তিনি জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটাখালি পৌরসভা এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক মানিক। তার নামেই একটি বাহিনী রয়েছে এবং নিজেই সে এ বাহিনীর প্রধান। এর আগে সে কয়েকবার গ্রেফতার হলেও উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে ফের অপরাধমূলক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদ্মার বালু মহলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চর শ্যামপুরের আওয়ামী লীগ নেতা আনারুল ইসলাম হত্যাকা-, চক বেলঘরিয়ার ছাত্রলীগ নেতা ও রাবি শিক্ষার্থী নাজমুলের হাত কেটে ফেলা, জেলা সৈনিক লীগের সভাপতি মোহাম্মাদ আবু সামাকে কুপিয়ে জখম করা, ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের তিনদিন আগে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় রাজশাহী-৩ আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনার মামলার আসামি মানিক। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরিফুল ইসলাম মানিক কাটাখালির মৃত আশরাফ খাদীর ছোট ছেলে। মানিকের বড় ভাই আব্বাস আলী ওই এলাকার সন্ত্রাসীদের গডফাদার হিসেবে পরিচিত। আব্বাস এক সময় মহানগর যুবলীগের সহসভাপতি থাকলেও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের জন্য ২০০৯ সালে তাকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মানিক জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। গত মার্চে কাটাখালি পৌরসভা যুবদলের সম্মেলনের পর মানিককে সভাপতি করে প্রস্তাবিত কমিটি করেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জল। কিন্তু মানিক সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ওই কমিটি অনুমোদন পায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ড. শফিউল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র্যাবের অভিযানে গ্রেফতারকৃত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আব্দুস সালাম পিন্টু ও জেলা যুবদলের আহবায়ক উজ্জ্বল মানিকের মাধ্যমে চোরাচালান, বালুমহল এবং ঠিকাদারী ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। পিন্টু মহানগরীর ডাসমারি এবং উজ্জ্বল কাজলা এলাকার বাসিন্দা।