April 19, 2026
চট্টগ্রাম থেকে: বছরজুড়ে ব্যর্থ ছিল টাইগাররা। তবে বছরের শেষে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে সিরিজে জয়ের ধারায় ফিরেছে টাইগারবাহিনী। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম তিন টেস্টে অধিনায়কত্বের দায়িত্বে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। আর পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে টাইগারাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাশরাফি বিন মুর্জতা।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জিতে সিরিজের সবগুলো ম্যাচেই জয়ের প্রত্যাশায় সতীর্থদের প্রতি আরো কঠোর হলেন মাশরাফি। এজন্য দলের খেলোয়াড়দের কোন রকম মানসিক প্রশান্তিতে ভুগতে দিতে চাইছেন না তিনি। জয়ের আনন্দ উপভোগ করার আগেই তাই বারবার তাদের পরবর্তী লক্ষ্যের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে পাঁচ জয়ের আগে আনন্দ-উল্লাসের কোন কারণও দেখেন না তিনি।
তাই একাদশে থাকা সবাইকে সর্বজয়ী হওয়ার আগে একটু দম ফেলার ফুসরত দিতে নারাজ এই কঠোর অধিনায়ক। এমন কী সিরিজ জয় নিশ্চিত হলেও আত্মতুষ্টির কোন লক্ষণ তিনি দেখতে চাইবেন না সতীর্থদের শরীরী ভাষায়!
হ্যাঁ, এমনই কঠোরতা ফুটে উঠলো মাশরাফির কণ্ঠে,‘ মাত্র একটা জয়ে আত্মতুষ্টির কোন সুযোগও নেই। ৫ ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই সিরিজ জিততে পারব ইনশাল্লাহ । তবে সেক্ষেত্রেও যে বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ নেই। অন্তত এই পর্যায়ে এসে তা উচিত নয়। আর আমার মনেও হয় না কারো মাথায় এটা আছে। কখনও কখনও একজন খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেওয়া হয়। এটা ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু যারা খেলবে একাদশে তাদের সেই সুযোগ নেই।’
দলের উন্নতি নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আমাদের উন্নতি করার জায়গা আসলে অনেক। প্রথম ম্যাচে জিতেছি দুই থেকে তিন জনের পারফম্যান্সে। তাই উন্নতির সুযোগ তো রয়েছেই। টপ অর্ডারের রান করতে হবে। তারা যেটা করেছে টেস্ট ম্যাচে সেটা প্রথম ওয়ানডেতে হয়নি। এই ভাবে চলতে দেয়া যাবে না। এই প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। যেটা ভাল চলছিল সেটাই ফিরিয়ে আনতে হবে। ইনিংসের শুরুর দিকে বোলিংয়ে আমরা এতটা খারাপ করি না। কিন্তু আজকে খারাপ করেছি। সে জায়গায় উন্নতি করতে হবে।’
দল শুধু সাকিব নির্ভর হোক সেটাও চান না জাতীয় দলের অধিনায়ক। দলের জয়ের জন্য সবাইকে সাকিবের মতোই হতে বললেন, ‘একটা ছেলের দিকে সব সময় তাকিয়ে থাকার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দলে যারা খেলে সবাইকে দলের জয়ে অবদান রাখার চেষ্টা করতে হবে ।’
আরাফাত সানিকে নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘সানির এই পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আমার সেকারণে তার প্রতি একটা আত্মবিশ্বাস ছিল ওই সময়। ওর (সানি) যে বোলিং, আমি সব সময় জানি ও (সানি) যেখানে খেলে ভালই করে। জাতীয় লিগেও সানি স্ট্যাম্প টু স্ট্যাম্প বোলিং করে, সঠিক জায়গায় বোলিং করে। জিম্বাবুয়ে যেহেতু স্পিনে দূর্বল, আমার আত্মবিশ্বাস ছিল সানি ভাল করবে। সেটা শিশির থাকলেও।’
অধিনায়ক সাব্বির রহমানের বিষয়ে বলেন, ‘ওর অভিষেক ম্যাচ ইতিবাচক হয়েছে। ওই সময়ে মাত্র ৭ ওভার ছিল। ওই সময়ে ব্যাটিং নেমে এই রকম ইনিংস খেলা কঠিন। খেলে ফেললে খুব ভাল। কিন্তু একটা নতুন খেলোয়াড় এসে খেলাটা খুব কঠিন। নিজেকে মানিয়ে নিয়ে সুন্দর একটা ইনিংস খেলেছে। এটা আমার খুব ভাল লেগেছে। আশা করি এটা সানি চালিয়ে যেতে পারবে। এবং এমন খেললে আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যাবে তার।’