April 19, 2026
চট্টগ্রাম থেকে: পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশ সাকিব-মুশফিক-সাব্বিরের ব্যাটে চড়ে তুলেছে ২৮১ রান। ৭ উইকেট হারিয়ে টাইগাররা সফরকারীদের ২৮২ রানের টার্গেট দিল। ম্যাচে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ শতক করেন সাকিব। আর ১৭তম অর্ধশতক করেন মুশফিক। এছাড়া অভিষিক্ত সাব্বির তার ব্যাটে ঝড় তুলেছিলেন। এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রন পাওয়া বাংলাদেশের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে আসেন ১৩১টি ওয়ানডে খেলা বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল এবং ২৩টি ওয়ানডে খেলা আনামুল হক বিজয়। ম্যাচের চতুর্থ ওভারে পানিয়াঙ্গারার করা তৃতীয় বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম। দলীয় ৮ রানের মাথায় ১৫ বল খেলে তিনি ৫ রান করেন। তামিম ইকবালের বিদায়ের পর আনামুল হক এবং টেস্টে অসাধারণ পারফর্ম করা বাংলাদেশের ছোট্ট ব্রাডম্যান মুমিনুল হক ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন। কিন্তু পাওয়ার প্লে’র দশ ওভার শেষ হওয়ার ঠিক এক বল আগে চাতারার বলে তুলে মারতে গিয়ে ১২ রান করে চিগুম্বুরার হাতে ধরা দেন আনামুল। ফলে, দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় দুই উইকেটে ২৬ রান।
তামিম-আনামুলের পর সাজঘরে ফেরেন মাহামুদুল্লাহ। স্বাগতিকরা ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ১১.৪ ওভার শেষে করে তিন উইকেটে ৩১ রান। মাহামুদুল্লাহ এক রান করে চাতারার বলে কামুনগোজির হাতে ধরা পড়েন। খুব দ্রুতই তিন উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া স্বাগতিকদের হয়ে হাল ধরার চেষ্টা করছিলেন মুমিনুল এবং সাকিব আল হাসান। ৩৯ রানের জুটি গড়ে ১৯তম ওভারের চতুর্থ বলে ৩১ রান করে নাইম্বুর বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন মুমিনুল। এরপর ব্যাটিং ক্রিজে সাকিব আল হাসান এবং মুশফিকুর রহিম জুটি বেঁধে জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে যে কোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েন। ১৪৮ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন সাকিব-মুশফিক। কামুনগোজির বলে পানিয়াঙ্গারার হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১০১ রান করেন সাকিব। ৯৯ বল থেকে তিনি ১০টি চার হাঁকিয়ে ইনিংসটি সাজান। আউট হওয়ার আগে বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের ষষ্ঠ শতক হাঁকান। ৯৫ বলে তিনি ১০টি চার হাঁকিয়ে শতকের ঘরে পৌঁছান।
সাকিবের বিদায়ের পর মুশফিক তার ক্যারিয়ারের ১৭তম অর্ধশতক হাঁকিয়ে ৬৫ রান করে পানিয়াঙ্গারার বলে সলোমন মিরের হাতে ধরা পড়েন। ৭২ বলে দুটি করে চার ও ছয়ে তিনি এ ইনিংসটি খেলেন। এরপর মাশরাফি পানিয়াঙ্গারার তৃতীয় শিকারে পরিণত হন। এক রান করে টাইগার দলপতি বোল্ড হন।
তবে, অভিষেক ম্যাচেই ব্যাট হাতে দারুণ সফলতা দেখিয়েছে সাব্বির রহমান। ২৫ বলে ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ব্যাটে ঝড় তুলে তিনটি করে চার ও ছয়ে সাব্বির তার অভিষেক ইনিংসটি সাজান। পাওয়ার প্লে’তে স্বাগতিকদের সংগ্রহ দাঁড়ায় দুই উইকেটে ২৭ রান। ২০ ওভার শেষে তাদের দলীয় রান ছিলো চার উইকেটে ৭০ রান। ২৫.২ ওভারে টাইগাররা দলীয় শতক করে। বসুন্ধরা সিমেন্ট বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সফরকারী অধিনায়ক এলটন চিগুম্বুরা।
২০১৪ সালটি ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের মোটেও ভালো যায়নি। ১৩ ম্যাচ খেলে ১২টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। বাকি ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। তবে, পরিসংখ্যানের বিচারে ওয়ানডে সিরিজে এগিয়ে রয়েছে টাইগাররা। ৫৯ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৩১টি ম্যাচে। এর আগে স্বাগতিক বাংলাদেশ তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের তিনটিতেই জয় পেয়েছে। সফরকারীদের ধবলধোলাই দিয়ে টেস্টের নয় নম্বরে উঠেছে মুশফিকুর রহিমের দল। এবার মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের সামনে ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্য এসে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হলেও সফরকারীরা চায় ওয়ানডেতে নিজেদের লক্ষ্য পূরণে শুভ সূচনা করতে। দিবারাত্রির এ ম্যাচে জয় দিয়েই শুরু করতে চায় এলটন চিগুম্বুরার সতীর্থরা।
বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মর্তুজা, তামিম ইকবাল, আনামুল হক বিজয়, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, আল আমিন হোসেন, মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ, জুবায়ের হোসেন, রুবেল হোসেন, সাব্বির রহমান, শফিউল ইসলাম ও আরাফাত সানি।
জিম্বাবুয়ে দল: এলটন চিগুম্বুরা, রেগিস চাকাবায়া, টেন্ডাই চাতারা, ক্রেইগ আরভিন, কামুনগোজি, হ্যামিলটন মাসাকাদজা, নাতশাই এমশ্যাংগুই, রিচমন্ড মুতুমবামি, জন নাইম্বু, তিনাসে পানিয়াঙ্গারা, ভুসি সিবান্দা, সিকান্দার রাজা, ব্রেন্ডন টেইলর ও ম্যালকম ওয়ালার।