May 4, 2026
ফিচার ডেস্ক : ভিক্ষা অনেক প্রাচীন এক পেশা। তবে দেশ-কাল-পাত্র ভেদে এই ভিক্ষার রীতি একেক রকম। যেমন ধরুন ইউরোপের রাস্তায় আপনি অনেক ভিক্ষুককেই দেখতে পাবেন, যারা আপনার সামনে হাজির হয়েছে নিজস্ব কিছু কলাকৌশল নিয়ে। কিংবা কোনো একটা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে তারা রাস্তার পাশে দাড়িয়ে আছে জনগণকে আকর্ষণ করার জন্য। এবং জনগণকে ভিক্ষা দিকে উদ্বুদ্ধ করতে তারা বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছে। আবার ধরুণ এটা যদি মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের চিত্র হয়, তাহলে গোটা পরিস্থিতিটাই ভিন্ন হয়ে যাবে।
মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা প্রাচ্যের ভিক্ষা রীতি সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে যারা ভিক্ষা করে তাদের বলা হয় ভিক্ষুক। আর ভিক্ষুক ধারণার সঙ্গে নেই কোনো লেনদেনের সম্পর্ক। আর লেনদেনের সম্পর্ক না থাকার কারণে প্রায় সব জায়গাতেই একদল মানুষ দেখতে পাওয়া যায় যারা আপনার সামনে একটা প্লেট হাতে নিজের অসহায়ত্ব এবং দারিদ্রতার কথা বলে কিছু অর্থ দাবি করে। কর্মবিমুখ এই ভিক্ষাবৃত্তি শেষমেষ আরও অনেককে ভিক্ষাবৃত্তিতে উৎসাহী করে।
সম্প্রতি নরওয়ে সরকার দেশটিতে ভিক্ষা নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধান মোতাবেক নরওয়ের সর্বশেষ ভিক্ষুকের নাম মারজেল নিকোলেতা। দেশটির আরেন্দাল শহরের মূল স্কয়্যারের পাশে প্রতি ছুটির দিনে তিনি বসতেন ভিক্ষার আশায়। অনেকেই মারজেলের থলেতে দয়াবশত দুয়েকটা কয়েন ছুড়ে দিত। যদিও নরওয়ে সরকারের বক্তব্য হলো, তারা অবৈধ অভিবাসীদের ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। কারণ বিগত চারবছর ধরে দেশটিতে ক্রমাগত অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা বাড়ছে। এবং সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাবলীর কারণে দেশটির সরকার অভিবাসীদের ব্যাপারে কড়া সতর্কতা অবলম্বন করছে।
তবে দেশটির অনেক রাজনীতিবিদদের বক্তব্য হলো, ভিক্ষাবৃত্তি একটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সাক্ষ্য দেয়। বিশ্বে ধনী দেশের তালিকায় নরওয়ের নাম অন্যতম। কিছু মাস আগে অপর একটি গণমাধ্যম নরওয়ের সর্বশেষ ভিক্ষুক মারজেলকে নিয়ে একটি সংবাদ পরিবেশন করলে টনক নড়ে কিংবা বলা ভালো নরওয়ের প্রশাসনের লজ্জায় আঘাত হানে সংবাদটি। এরপরই মূলত তড়িঘড়ি করে বিশিষ্ট আইনজ্ঞদের পরামর্শে আরেন্দাল শহর থেকে শুরু হয় ভিক্ষা নিষিদ্ধকরণ অভিযান।
নরওয়ের এই সিদ্ধান্তে যে কোনো ভিন্ন মতামত নেই তা কিন্তু নয়। খোদ নরওয়েবাসীদের মধ্যেই অনেকে ভিক্ষা নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নিয়ে নাক সিটকাচ্ছেন। তাদেরই মধ্যে একজন ৫২ বছর বয়সী আলফ্রেড ফ্রেভার্ট। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা নরওয়েতে ভালোই আছি। খুব ভালো এবং বেশ ভালো। এই ভিক্ষা নিষিদ্ধের বিষয়টি একটি পাগলামি। আমাদের সীমান্তগুলো তো খোলা। এর মানে হলো আমাদেরকে কিছুটা দায়িত্ব নিতেই হবে। আর যদি দায়িত্ব না নেই তাহলে কেন আমরা সীমান্তগুলো বন্ধ করে দিচ্ছি না।’
নরওয়ের সীমান্ত বন্ধ না করার অবশ্য কারণ আছে। ইউরোপের মধ্যে নরওয়েতে বেকারত্বের হার সবচেয়ে কম। গত বছর দেশটিতে বেকারত্ব পুরোপুরি বিলোপ হয়ে যায়। কিন্তু ইউরোপের শেষ দেশ হিসেবে গোটা ইউরোপবাসীর পর্যটন কেন্দ্রের একটি বিশেষ স্থান হলো নরওয়ে। এই পর্যটন খাত থেকে প্রতিবছর প্রচুর উপার্জন করে দেশটি। এমতাবস্তায় সীমান্ত বন্ধ বা সীমান্তে কাড়াকড়ি করলে পর্যটকদের ওপর এর প্রভাব পরতে পারে বলেও ধারণা করা হয়।