April 21, 2026
ঢাকা: রাজধানীতে এখন যানজটের প্রধান কারণ হয়ে দাড়িয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি। শুধু তাই নয় প্রতিদিন ঢাকার রাস্তায় ১৫০ টি নতুন ব্যক্তিগত গাড়ি যোগ হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় সড়কের পরিসর বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। বরং পুরোনো সড়কগুলোরই দুপাশ জুড়ে হচ্ছে দখল। সড়কের জায়গা দখল করে বসানো হচ্ছে নতুন নতুন ব্যবসাসহ বাড়ি-ঘর। ফলে আরো সংর্কীর্ণ হচ্ছে রাজধানীর সড়ক। তাছাড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি শহরে ২৫ শতাংশ সড়ক থাকার পরিবর্তে রাজধানীতে রয়েছে মাত্র ৮ শতাংশ। এর মধ্যে আবার ৭৫ শতাংশই অপরিকল্পিত। এর প্রেক্ষিতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। নষ্ট হচ্ছে রাষ্ট্র ও মানুষের কোটি কোটি কর্মঘন্টা।
বর্তমানে প্রতিবছর ৩৭ হাজার গাড়ি ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে যার ৮০ শতাংশই ব্যক্তিগত গাড়ি। ঢাকায় প্রতিবছর ৬ লাখ করে মানুষ বাড়ছে। এটিও যানজটের প্রধান কারণ। তাই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরাও। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বি আরটিএ) তথ্যমতে, সারা দেশে বর্তমানে ২১ লাখ গাড়ি রয়েছে। সংস্থাটির এ যাবৎকালের সর্বমোট হিসাবে, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮ লাখ ৩৫ হাজার ৮১২টি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ঢাকার নম্বরেই। ঢাকার রাস্তায় বর্তমানে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬১৯টি প্রাইভেট কার চলাচল করছে। মাইক্রোবাস রয়েছে ৫৩ হাজার ২৪৬টি। দেখা গেছে, গত ৩ মাসে ঢাকার রাস্তায় ৪১২টি নতুন বাস নামানো হয়েছে। এর বিপরীতে প্রাইভেট কার নেমেছে ৩ হাজার ৫টি এবং মাইক্রোবাস ৪১২টি। বর্তমানে প্রতিবছর ৩৭ হাজার গাড়ি ঢাকার পরিবহন-ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে, যার ৮০ শতাংশই ব্যক্তিগত গাড়ি। বি আরটিএর হিসাবে, ঢাকায় চলাচলরত বাস-মিনিবাসের সংখ্যা ৫৪২৭টি। সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে ১৩ হাজার। নতুন ট্যাক্সিক্যাব রয়েছে ২৯৭টি। এগুলো হচ্ছে রেজিস্ট্রেশনকৃত গাড়ির হিসাব। বর্তমানে ঢাকায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি রয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৫৬০টি। নবায়ন না করার হিসাব থেকে করা এই তালিকা। সাম্প্রতিক এক জরিপে বলা হয়েছে, রাজধানীর পরিবহন ক্ষমতা দৈনিক সর্বোচ্চ ২ কোটি ১০ লাখ ট্রিপ হলেও বর্তমানে ৩ কোটি ট্রিপ হচ্ছে। ২০২৪ সালে তা ৬ কোটি ৫০ লাখে গিয়ে দাঁড়াবে। জাইকার হিসাবে শহরটির তুলনায় এটি দ্বিগুণ চাপ। বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্ট পরিচালিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, এমনিতেই একটি শহরের আয়তনের তুলনায় যে পরিমাণ রাস্তা থাকা প্রয়োজন ঢাকা শহরে তার এক-তৃতীয়াংশও নেই। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামসুল হক আমাদের সময়কে বলেন, শহরের আয়তনের ২৫ শতাংশ রাস্তা থাকার কথা। অথচ ঢাকায় আছে মাত্র ৮ শতাংশ। রয়েছে সড়ক ব্যবস্থাপনার ত্রুটি। ৭৫ শতাংশ সড়কই অপরিকল্পিত। রাজধানীতে মাত্র আড়াই শতাংশ রাস্তা রয়েছে বাস চলাচলের উপযোগী। তিনি বলেন, ফাইওভারের কারণে ছোট গাড়ি বাড়ে। এগুলো এক সময় ভাঙতে হবে। ফাইওভারের সঙ্গে শহরে প্রবেশ বা বের হওয়ার রিং রোড সম্পর্কিত হতে পারে। যেমন নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী শহরের মানুষ সেক্ষেত্রে রাজধানীতে সকালে কাজকর্মে এসে বিকালে চলে যেতে পারত। এতে পরিবহনের স্থায়ী চাপ কমত। প্রয়োজন বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বি আরটি), মাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি)। কেবল সড়ক পরিবহনের ওপর ভরসা করলে নগরীর গাড়ির চাপ কমবে না।