April 19, 2026
চাঁদপুর থেকে মাসুদ রহমান: নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে গতকাল বুধবার। ফলে বৃহস্পতিবার থেকে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় আবার ইলিশ মাছ ধরতে পারবেন জেলেরা। এর আগে প্রজনন মৌসুমে মা-ইলিশ রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, চাঁদপুরের ৬০ কিলোমিটার নদী এলাকায় ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১১ দিন ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেই সঙ্গে ইলিশ বিক্রি, পরিবহন ও মজুদ নিষিদ্ধ ছিল।
তবে অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ সময়ে একশ্রেণীর জেলে ইলিশ ধরা অব্যাহত রাখেন। একইভাবে চলেছে ইলিশ কেনাবেচাও। এ ১১ দিন চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, কোস্টগার্ড, মত্স্য বিভাগ ও র্যা ব সদস্যরা নদীতে ও জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালান। চাঁদপুর জেলা মত্স্য কর্মকর্তা সফিকুর রহমান জানান, চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর উপজেলার পদ্মা-মেঘনা নদী এলাকায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন গঠিত ৫৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হয়। ৫ থেকে ১৫ অক্টোবর বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মোট ১০৯টি অভিযান চালানো হয়। তিনি জানান, এ সময় ৪১৯৪ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। এসব ইলিশের মধ্যে ১৩৯৫ কেজি তাজা ইলিশ মত্স্য হিমাগারে মজুদ করা হয়। আটক করা হয় ৪০ লাখ ২৩ হাজার মিটার কারেন্ট জাল। সফিকুর বলেন, ইলিশ ধরার ঘটনায় কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে ১৩৫ জন জেলে ও ইলিশ-ক্রেতাকে। এর মধ্যে ১১ জনকে দুই বছর করে ও ৯৯ জনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। ১১৬ জনের কাছ থেকে মোট ৩ লাখ ২২ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। মামলা করা হয়েছে ২১৫টি। তবে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৭০৪টি অভিযান পরিচালনা করেছেন। এতে ২০ দশমিক ৯১ টন ইলিশ আটক এবং বিভিন্ন মামলায় জরিমানা করা হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এ সময় ৯৬৩টি মামলা করা হয়েছে এবং ৫৬৫ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও প্রায় ২৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। মত্স্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেন, জাতীয় মাছ হিসেবে ইলিশ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে দেশে ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে। তিনি জানান, ইলিশ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইলিশের বিচরণক্ষেত্র সংশ্লিষ্ট ১৪টি জেলার জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ২৩ অক্টোবর ঢাকায় একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে।