পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

‘ভুল করে’ ধ্বংস করা হয়েছে ৬০ হাজার টন ফল ও মাছ

Posted on September 28, 2014 | in ব্যবসা-অর্থনীতি | by

formalin_0ঢাকা:  এবার যেন বেশি সচেতন হতে গিয়ে বাঁধল বিপত্তি। ‘ভুল করে’ ধ্বংস করা হয়েছে ৬০ হাজার টন ফল ও মাছ। পুলিশ ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) মাঝে মধ্যেই ভ্রাম্যমান আদালত দিয়ে ফরমালিনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে৷ এসব অভিযানে ফরমালিনযুক্ত সন্দেহে বিপুল পরিমান খাদ্যদ্রব্য ধ্বংস করা হয়৷ বিশেষ করে অতি সম্প্রতি দেশীয় ফলের মৌসুমে ফরমালিন থাকায় বিপুল পরিমান আম, জাম, লিচু, আনারস, লেবু, আপেল, নাশপাতি, পেঁপে, করমচা ও লটকন ধ্বংস করে ভ্রাম্যামান আদালত৷ তবে যে যন্ত্র দিয়ে এই ফরমালিন পরীক্ষা করা হয়, সেই যন্ত্র নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা৷ তাদের পক্ষে উচ্চ আদালতে একটি রিটও করা হয়৷ খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিনের উপস্থিতি রয়েছে কি-না তা নিশ্চিত হতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ‘ফরমালডিহাইড মিটার জেড-৩০০’ নামক যন্ত্র ব্যবহার করে৷ প্রকৃতপক্ষে এই যন্ত্রটি ফরমালিন পরীক্ষায় ব্যবহূত হয় কিনা তা নিশ্চিত হতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন বাংলাদেশ ‘ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স’ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাধন চন্দ্র দাশ ও সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম৷

এই রিটের ওপর শুনানি নিয়ে গত ২১ জুলাই আদালত যন্ত্রটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) মহাপরিচালক এবং ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির পরিচালককে নির্দেশ দেয়৷ বিসিএসআইআর গত মঙ্গলবার আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে৷ সেখানে বলা হয়েছে, ‘ফরমালডিহাইড মিটার জেড-৩০০’ নামক যন্ত্রটি ফল, মাছসহ বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্যে ফরমালিনের উপস্থিতি নিশ্চিতকরনে জন্য তৈরি করা হয়নি৷ তবে এটি বাতাসে ক্ষতিকর কেমিক্যাল (রাসায়নিক) আছে কি-না তা পরীক্ষা করতে পারে৷ প্রতিবেদনে যন্ত্রটির প্রস্তুতকারক কোম্পানির ব্যবহারবিধি ও ওয়েবসাইটের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘এনভায়রনমেন্টাল সেন্সর’ নামের এক কোম্পানির তৈরি করা ‘জেড ৩০০’ মডেলের ‘ফরমালডিহাইড ভ্যাপর মিটার’ যন্ত্রটি পরিবেশ ও বাতাসে ফরমালিন মাপার সংবেদনশীল যন্ত্র৷ এই যন্ত্র ব্যবহার করে খাদ্যে ফরমালডিহাইডের পরিমাণ জানার কোনো ‘অ্যাপ্লিকেশন নোট’ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান দেয়নি৷

রিটকারীদের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, এখন আমরা এই রিপোর্ট সংযুক্ত করে আদালতের অবকাশের পরে আবেদন করবো৷ আবেদনে ত্রুটিযুক্ত যন্ত্র বাতিল এবং এই ফরমাইল হাইড -৩০০ দিয়ে কত হাজার মন ফল নষ্ট করা হয়েছে তারও হিসেব জানার জন্য প্রার্থনা করা হবে৷ এরপর ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হবে বলে জানান তিনি৷ মানববন্ধনে ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, আদালতে একটি রিটের প্রেক্ষিতে গত ২১ জুলাই হাইকোর্ট তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে যন্ত্রটি পরীক্ষার নির্দেশ দেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), মহখালী জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) যন্ত্রটি পরীক্ষা করে। সংস্থাগুলো পরীক্ষায় প্রচলিত ফরমাল ডিহাইড মিটার (মডেল নং জেড-৩০০) পরীক্ষা করে দেখেছে এটি খাদ্যে ফরমালিনের উপস্থিতির সঠিক ফলাফল দেয় না। এ যন্ত্রটি বাতাসে ফরমালিনের মাত্রা পরীক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

সূত্রঃ ডিডাব্লিউ

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud