February 23, 2026
ঢাকা: মাত্র একদিন আগেও হয়তো জলজ্যান্ত মানুষটি রিকশায় চড়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন রাজধানীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। অথচ একদিন পরই তিনি লাশ! আর যে রিকশায় নিজে লাফ-ঝাঁপ দিয়ে চড়েছেন সেই রিকশায়ই তাকে সাদা কাপড় পেঁচিয়ে বাঁধা হলো বাঁশে, তার যে আর রিকশায় বসে থাকার শক্তি নেই। সময় কতো নিষ্ঠুর পরিবর্তন দেখলো মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই! একদিন আগেও যে তিনি অন্য কারও আহত হওয়া নিয়ে ‘আহ’ উচ্চারণ করেছেন, সেই তাকেই রিকশায় এই অভিনব কায়দায় বসানো দেখে ‘আহ’ বলার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন পথচারীরা! রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন টিটিপাড়া রেললাইনে শনিবার ট্রেনে কাটা অজ্ঞাত পরিচয় ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। দুর্ভাগ্য তার, মৃত্যুর পরও খানিক শান্তি মেলেনি, মেলেনি এতটুকুন সম্মানও। সুরতহাল বিশ্লেষণের পর বনে শিকার করা পশুর মতোই বাঁশ দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় তার লাশ। পার্থক্য কেবল এতটুকুই, মৃত পশু সওয়ার হয় শিকারিদের কাঁধে, আর এই ব্যক্তি রিকশায়।

মৃত এই ব্যক্তিকে বস্তায় ভরে সাদা কাপড়ে পেঁচিয়ে বাঁশ দিয়ে বেঁধে নিজেই রিকশা চালিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসেন কমলাপুর রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) থানার ডোম বিহারি। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢামেক মর্গের প্রবেশ পথে এমন দৃশ্যই চোখে ধরা পড়ে। টিটিপাড়া রেললাইনে ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ওই ব্যক্তি। এরপর সুরতহাল বিশ্লেষণের জন্য সেদিন তার লাশ রাখা হয় থানায়ই। পরদিন রোববার ময়নাতদন্তের জন্য রিকশায় বেঁধে তার লাশ আনা হয় ঢামেকে। কমলাপুর জিআরপি থানার সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) জাহিদুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা অভিমুখী একটি ট্রেনে কাটা পড়ে ওই ব্যক্তি নিহত হন। তার পরিচয় জানা যায়নি। লাশ ভ্যানে বা গাড়িতে না নিয়ে রিকশায় বাঁশ দিয়ে বেঁধে নেওয়ার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, লাশ বহন করার জন্য কমলাপুর রেলওয়ে থানার ডোমকে তিনটি ভ্যান দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু সেগুলো চুরি হয়ে গেছে। এরপর থেকে আর কোনো ভ্যান নেই।
তবে রিকশায় করে লাশ নেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। লাশ বহনকারী ডোম বিহারি বলেন, আমার একটি ভ্যান ছিলো। সেটা চুরি হয়ে গেছে। এজন্য লাশটি রিকশায় করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মজিদ কাছে দাবি করেন, লাশ বহন করার জন্য তাদের কোনো গাড়ি নেই। তবে রিকশায় করে লাশ নেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই।