February 23, 2026
শিশু চিকিৎসকরা যতটুকু মনে করেন, তার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর শিশুদের বেশি বেশি সময় টেলিভিশনের পর্দার সামনে বসে থাকা। নতুন পাওয়া তথ্য-পরিসংখ্যান মতে, বেশি সময় টেলিভিশন দেখলে শিশুদের রক্তচাপ বেড়ে যায় এমনকি সে শিশু যদি বেশি মোটা না হয়।
১১১ জন বালক-বালিকার ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, বেশি সময় টিভি দেখে যেসব শিশুদের তাদের সিসটোলিক ব্লাড প্রেসার ৬-৭ শতাংশ বেড়ে যায়। দিনে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে যেসব শিশু টিভি দেখে তাদের বেলায় এমনটি ঘটতে দেখা গেছে।
আর রক্তচাপ এই মাত্রায় বেড়ে যাওয়া স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ফেলার জন্য যথেষ্ট এ অভিমত মিসিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জো আইজেনম্যানের। তিনি পরামর্শ রেখে বলেন, আপনার শিশুর হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে তাদের টিভি দেখার সময় দুই ঘণ্টার মধ্যে সীমিত করে ফেলুন। হাঁটার মতো কর্মকাণ্ডে শিশুকে দিনে ১ ঘণ্টা লাগিয়ে রাখুন।
পঙ্গুত্ব ভালোবাসা শেষ করে দেয় না
যুক্তরাষ্ট্রে উতাহ অঙ্গরাজ্যের ব্রিগহাম ইয়ং বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, পঙ্গুত্ব স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার প্রেম আরো গভীরতর করে। জেরিমি ইয়োর্গেসন ১২ বছরের ৩৬-৭৫ বছর বয়সী এক হাজার ২০০ লোক খুঁজে পেয়েছেন, যাদের বৈবাহিক জীবনের সুখ আরো বেড়েছে, যখন ওই দম্পতির কোনো একজন স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, যদি যুগল জীবনে একজন শারীরিক সীমাবদ্ধতার শিকার হন, তখন অন্য জন আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘এ থেকে বোঝা যায় পঙ্গুত্ব হচ্ছে একটি দ্বিমুখী পথ, যেখানে কিছু বিয়োগের মধ্য দিয়ে অবাক করা কিছু বিষয় জীবনে এসে যোগ হয়।’ তবে কেন পঙ্গুত্ব স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ককে আরো গভীর করে তোলে, এর কোনো কারণ বোঝা যায়নি। মনস্তত্ত্ববিদ্যার এ ক্ষেত্রে অনেক কিছুই করার বাকি।
ওজন কমানোর ওউন্ডার ড্রাগ
শিগগিরই বাজারে আসছে ওজন কমানোর ‘অবাক করা ওষুধ’ তথা ওউন্ডার ড্রাগ। হতে পারে আপনি ওষুধ খেয়ে শরীরের ওজন কমাতে আগ্রহী। যদি তাই হয় আপনি নিশ্চয় জানেন এ ক্ষেত্রে আপনার আমার জন্য কোনো ম্যাজিক বুলেট নেই। এখন যেগুলো আছে, সেগুলোর আছে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কিন্তু শিগগিরই বাজারে আসছে নতুন ওজন কমানোর ওষুধ Qnexa, এটি যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদন লাভ করেছে। মনে করা হচ্ছে, এই Qnexa কার্যকারিতার দিক থেকে বাজারের আর সব ওষুধকে ছাড়িয়ে যাবে। ওষুধটি অন্যান্য দেশেও শিগগিরই অনুমোদন লাভ করতে যাচ্ছে।
এক হাজার ২০০ মুটিয়ে যাওয়া রোগীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, যারা এই নতুন ওষুধ সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যবহার করেছেন, তারা গড়ে এক বছরে সাড়ে ১৬ কেজি করে ওজন কমিয়েছেন। হারানো এই ওজন মোটামুটিভাবে শরীরের ওজনের ১৪.৭ শতাংশ। এটি বড় মাপে ওজন কমানোর একটা উদাহরণ। অপর দিকে সে তুলনায় পরীক্ষায় দেখা গেছে, Xenical (orlistal) অথবা Reductil (Sibutramine) ব্যবহার করলে গড়ে একজন ওজন কমে মাত্র ১৫ কেজি।
ছহবীধ-র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও খুবই কম। এ ক্ষেত্রে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, হাত-পায়ের আঙুল শিরশির করা হচ্ছে অতি পরিচিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মুটিয়ে যাওয়া রোগবিষয়ক গবেষক ড. আর্থার ফ্র্যাঙ্ক বলেন, ছহবীধ-র ফলাফল খুবই আশাব্যঞ্জক। উল্লেখ্য, তিনি উল্লিখিত গবেষণায় সংশ্লিষ্ট ছিলেন না।
ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার
এমন কোনো ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার ছিল না যেটাকে আপনি বলবেন যৌনতার জন্য পুষ্টিকর বা সেক্সি নিউট্রিয়েন্ট। হঠাৎ করে এটি হয়ে উঠেছে সুপারস্টার। উৎপাদনকারী তা এখন যোগ করছেন দইয়ে, সিরাপে এবং এমনকি কৃত্রিম মিষ্টিকারকেও। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এখনো নিশ্চিত নন যে, এসব ফাইবার খাবারের মান বাড়ায়। এখন তা চেষ্টা করে দেখার অপেক্ষায় এবং তা পরীক্ষা করে দেখার মতো বিষয়ও।
হ্যাঁ, আপনি প্রচুর ফাইবার খেতে পারেন। এতে বিতর্ক নেই যে, হাই ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার একটি শক্তিশালী জীবন রক্ষাকারী। জানা গেছে, এটি হৃদরোগের ও ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকি কমায় এবং মুটিয়ে যাওয়া থেকেও রক্ষা করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমায়। ক্ষুদ্রান্তে ক্যান্সার সৃষ্টির ঝুঁকিও কমায়।
কিন্তু নতুন এ খাবার ধর্তব্যে না-ও আসতে পারে। কারণ এগুলো বেশির ভাগেই ব্যবহার হয় ‘রংড়ষধঃবফ’ ভরনৎব যা বের করে আনা হয়েছে সেই খাবার থেকে, যাতে মূলত এটি ছিল বললেন পুষ্টি বিশেষজ্ঞ টারা গিডাস।
ইনসুলিন, পলিডেক্সট্রোস ও মালেটাডেক্সট্রিনের মতো আইসোলেটেড ফাইবার হচ্ছে ফ্লেবারহীন এবং তা দই ও থিরাপকে আঠালো করে তোলে না। এর দোষের দিক হলো, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, এটি দীর্ঘমেয়াদের রোগে উপকারী কি না। অতএব এক গ্লাস ফাইবারসমৃদ্ধ আঙুরের রস খেয়েই দেখুন না। তবে ভুলবেন না এতে বেশি করে শস্যদানা শিমের বীচি ও ফল যোগ করতে যেগুলো সুপ্রমাণিত জীবন রক্ষাকারী।
কাজের সময়টা কি একটু কমিয়ে আনতে চান? ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে চেষ্টা করুন। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন, এই ই-ব্রেক সময় নষ্ট করার চেয়ে বরং কাজে মনোযোগ ও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে তোলে।
‘যারা কাজের মধ্যে মজা করার জন্য নেট সার্ফিং করে অফিসের কাজের সময়ের ২০ শতাংশের কম সময় এই নেট সার্ফিংয়ে যারা কাটায় তারা সবচেয়ে বেশি উৎপাদনশীল। তাদের উৎপাদনশীলতা অন্যদের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি।’ বলেছেন উল্লিখিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপণন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ড. ব্রেন্ট কুকার। কুকারের মতে, ইন্টারনেট হচ্ছে মনোযোগ নষ্ট হওয়ার রোগের ওষুধ। মাত্র ২০ মিনিট ইন্টারনেটে কাজ করলে কাজে আবার মনোযোগ ফিরে আসে।
আপনার কি কলোনোস্কোপি করার সময় হয়েছে?
নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সময়টা এ ক্ষেত্রে একটা বিবেচ্য বিষয়। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের গবেষকরা পর্যালোচনা করে দেখেছেন তিন হাজার ৬ শ’রও বেশি কলোনোস্কোপির ফলাফল। তারা দেখেছেন চিকিৎসকরা পলিপস ডিটেকশন করতে পারেন সবচেয়ে ভালোভাবে সকাল বেলায় পরিচালিত পরীক্ষার সময়। পলিপস রূপ নিতে পারে ক্যান্সারে।
এই পলিপস পাওয়া গেছে ২৯ শতাংশ রোগীর মধ্যে, যাদের পরীক্ষা করা হয়েছিল সকাল বেলায়। আর যাদের পরীক্ষা করা হয় বিকেলে তাদের ২৫ শতাংশের মধ্যে পলিপস পাওয়া যায়। আসলে এই পলিপস পাওয়ার হার আস্তে আস্তে সময় কমতে থাকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে। দিনের প্রথম ঘণ্টার পলিপস পাওয়া যায় ৩৪ শতাংশের মধ্যে আর শেষ ঘণ্টায় পাওয়া যায় ২২ শতাংশ রোগীর মধ্যে।
হতে পারে ডাক্তারদের পরিশ্রান্ত হয়ে যাওয়ার কারণেও তা ঘটতে পারে। ডাক্তারের কাজের শেষ ঘণ্টাগুলোতে পরীক্ষায় ততটা মনোযোগ নাও দিতে পারেন। এ অভিমত ডাক্তার মধুসূদন সরকারের। ফলে এ ক্ষেত্রে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার।