February 23, 2026
ঢাকা: রাজধানী থেকে গাড়ি ছুটিয়ে চলেছেন। দুর্ঘটনা ঘটিয়ে মহাসড়কে উঠেই বাড়িয়ে দিলেন গাড়ির গতি। ভাবখানা এমন যে, এবার আপনাকে পায় কে! না। এ ভাবনার দিন শেষ। গাড়ির চাকা রাজধানীর গাবতলী ছাড়িয়ে ঢাকা আরিচা মহাসড়কে ওঠা মাত্রই আপনার গতিবিধি আর গাড়ি চলে এসেছে পুলিশের নজরদারীর মধ্যে। তেমনিভাবে যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাই, গাড়ি চুরির মতো অপরাধ কিংবা মহাসড়কে গাড়ি ভাংচুর, জননিরাপত্তা বিঘ্ন বা পেট্রোল ঢেলে গাড়িশুদ্ধ মানুষ পুড়িয়ে মারলেও এখন আর নিস্তার নেই। অন লাইনেই পুলিশ হেডকোয়ার্টাসে বসে পর্যবেক্ষণ করা যাবে সড়কের পরিস্থিতি। নিরাপত্তাহীন মহাসড়ককে আরো নিরাপদ করতেই নিবিড়ভাবে এ ধরনের নজরদারীর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বুধবার দুপুর থেকে। সুইচ টিপে ঢাকা জেলা পুলিশের উদ্যোগে আশুলিয়ার বাইপাইল পুলিশ বক্সে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার। দে ও পূজায় ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার, সাভার বাসস্ট্যান্ড, নবীনগর, ধামরাই থানার ইসলামপুর এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশুলিয়া, বাইপাইল, কবীরপুর ও চন্দ্রায় বসানো হয়েছে আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) ক্যামেরা।
ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মতোই নিবির পর্যবেক্ষণে থাকা এসব ক্যামেরার বৈশিষ্ট হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেখানেই থাকুন না কেন অফিসে বসে কিংবা চলন্ত অবস্থায় মুঠোফোনেই দেখতে পাবেন সড়কের পরিস্থিতি। পুলিশের অর্থায়নে নয় বরং কমিউনিটি পুলিশের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠির সহায়তায় এ কাজটি বাস্তবায়ন করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, ঢাকা আরিচা মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ। পরীক্ষামূলকভাবে এ উদ্যোগে আমরা সাড়া পাচ্ছি। আইজিপি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করায় এ কার্যক্রম আরো গতি লাভ করবে বলেও জানান তিনি। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় নেয়া এ উদ্যোগের সুফল জনগণ ভালোভাবেই উপভোগ করবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা
।এ উদ্যোগের সম্প্রাসারণ করতে ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জের প্রবেশ সীমানা অর্থাৎ ঢাকা জেলার শেষ সীমানা ধামরাইয়ের বারোবাড়িয়ায় ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। একটি নির্দিষ্ট সাইটে ঢুকে নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড দিয়ে থানা, পুলিশ বক্স কিংবা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সবখানেই স্থাপিত মনিটরে দেখা যাবে সড়কের হাল। আর এই কার্যাক্রমের নিয়ন্ত্রণ করা হবে কেন্দ্রিয়ভাবেই।এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার জানান, সড়কে নিরাপত্তার পাশাপাশি কেউ জ্বালাও পোড়াওয়ের কিংবা গাড়ি ভাংচুরের মতো ফৌজদারী অপরাধ করে পালাতে পারবে না। তাকে ধরা পড়তেই হবে। আইনের আওতায় আসতে হবে। তিনি জানান, তথ্য প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে এভাবে কেন্দ্রিয়ভাবে সড়ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করায় অপরাধ প্রবণতা অনেক কমে আসবে। মানুষ স্বস্তিতে সড়ক ব্যবহার করতে পারবে। পর্যায়ক্রমে গোটা সড়ক নেটওয়ার্কে এ ধরনের ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আসাদুজ্জামান মিয়া বাংলানিউজকে জানান, কোথাও যানজট সৃষ্টি হলে এখন অফিসে বসেই তা মনিটরিং করা যাবে।
কর্তব্য পালনে কেউ অবহেলা করছে কি’না তাও নজরদারীতে আসবে। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, ঢাকা জেলার উত্তরাঞ্চলের ৪টি প্রবেশ দ্বারসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি পয়েন্টে ইন্টারনেট প্রোটোকল ক্যামেরা (আইপি) বসানো আছে। পর্যায়ক্রমে এ ধরনের ক্যামেরার সংখ্যা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে।ঢাকা জেলার পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আজিম জানান, ঈদ ও পূজায় ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আইপি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও বছর জুড়েই তা চলবে।তবে পুলিশ প্রধানের মতো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এই উদ্যোগ সড়ক মহাসড়কের পরিস্থিতিকে আরো উন্নত করবে। মহাসড়কে নজরদারীর পাশাপাশি কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যের কার্যক্রমকে জবাবদিহীতার আওতায় আনবে।