পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

সংসার সুখের হয় গোয়েন্দার গুণে!

Posted on September 22, 2014 | in আন্তর্জাতিক, লাইফস্টাইল | by

vhrbyy6pআন্তর্জাতিক ডেস্ক : কথায় বলে ‘সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে’। কিন্তু আধুনিক যুগে এই প্রাচীণ প্রবচনটি বোধহয় আর খাটছে না। তাই একে একটু বদলে মানে ‘রমনী’ স্থানে গোয়েন্দা পড়ুন। আপনার নতুন সংসারকে সবদিক দিয়ে পরিপূর্ণ করতে এসব ব্যাক্তিগত গোয়েন্দাদের জুড়ি নেই। নইলে অনেক বাছবিচার করে যে মেয়েটিকে আপনি ঘরে তুললেন বা যে সুদর্শনের গলায় আপনি মালা পড়ালেন তার সবই যাবে বিফলে।
ভারতে এখন অনেকেই বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য সংগ্রহে এসব গোয়েন্দা বা ডিটেকটিভদের ভাড়া করছেন। এসব ডিটেকটিভের কাজ হল, পাত্রপাত্রীর অতীত সম্পর্ক, আয়ের উৎস এবং তদের পরিবারের ইতিহাস খুঁজে বের করে আনা। গত ২৭ বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে এই কাজটি করে আসছেন তারালিকা লাহিরি। কোনো রকম প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই এ কাজ শুরু করেছিলেন ৫৩ বছরের লাহিরি। কাজ করতে করতেই এ পেশায় দারুনভাবে দক্ষ হয়ে উঠেছেন তিনি।
১৯৯৪ সালে কাজের সুবিধার জন্য গড়ে তুলেছিলেন নিজের গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল ডিটেকটিভ এন্ড কর্পোরেট কনসালটেন্টস’(এনডিসিসি)। প্রাথমিক পর্যায়ে এখানে ৫ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন। ভারতে ১৯৮৭ সালে যে গুটিকয়েক নারী এই বিয়ে বিষয়ক গোয়েন্দা পেশায় নিযুক্ত হয়েছিলেন তাদের অন্যতম হচ্ছেন লাহিরি। এখন অবশ্য এই পেশাটি মেয়েদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং অনেকেই এত উৎসাহী হয়ে উঠেছেন।
বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্রী পক্ষেরই তাদের ভাবী জামাতাটি বিষয়ে খোঁজখবর নেয়ার বেশি আগ্রহ থাকে। ফলে এই পেশায় নারী গোয়েন্দাদের চাহিদা বাড়ছে। পাত্রী পক্ষ সাধারণত: গুপ্তচরবৃত্তির জন্য নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন।
সংসার সুখের হয় গোয়েন্দার গুণে! 9dae06fnগোড়ার দিকে তারালিকার এনডিসিসি প্রতিষ্ঠানে একমাত্র নারী কর্মী ছিলেন তিনি নিজে। এখন সেখানে ১৫ জন কর্মী কাজ করছেন এবং তার এ ব্যাবসাও ফুলে ফেপে ওঠেছে। নিজের পেশা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন,‘এখন ভারতে ইন্টানেটে বিয়ে হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় বিবাহ পূর্ব তদন্তের ঘটনা বেড়ে গেছে। আগের দিনে মামী বা খালারাই বিবাহ উপযুক্ত ছেলে মেয়েদের খোঁজ আনতেন এবং পাত্রপাত্রীর প্রাথমিক তথ্যগুলো সংগ্রহ করতেন তারাই। কিন্তু এখন বিয়ের ক্ষেত্র অনেক বেড়েছে এবং দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে দূরদেশে বসবাসকারীদের সঙ্গেও অনেকে সম্পর্ক করছেন। তাই চেনা জানা গণ্ডিতে আর আবদ্ধ নেই বিয়ের সম্পর্ক। এছাড়া ভারত বা বিদেশে বসবাসকারীরা সহজেই অনলাইনে ভূয়া জীবন বৃত্তান্ত দেয়ার সুযোগ পান। সেজন্যই এখন পাত্র পাত্রীদের সম্পর্কে ব্যাপক খোঁজ খবর নিতে হয়।
কেননা পাত্র বা পাত্রীর অভিভাবকেরা এটি নিশ্চিত হতে চান যে, তারা নিজেদের ছেলেমেয়ের জন্য যাকে পছন্দ করেছেন সে যেন পারফেক্ট হয় এবং বিয়ের পর যেন কোনো গলদ বের না হয়।
এ প্রসঙ্গে পুরনো একটি অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেন তারালিকা লাহিরি। একবার দিল্লির এক ধনী শিল্পপতি তার মেয়ের প্রেমিক সম্পর্কে খোঁজ নিতে তার কাছে আসেন। ওই শিল্পপতির ভাবি জামাতা সবসময় দামি পোশাক পরেন, চরেন মূল্যবান গাড়িতে। প্রেমিকার সঙ্গে ডেটিং করেন শহরের অভিজাত রেস্তোরাগুলোতে। তাই ওই মেয়ের বাবার সন্দেহ হয় এবং ওই ছেলের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার উৎস সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে লাহিরির শরণাপন্ন হন। কয়েক সপ্তাহ ধরে ওই ছেলের পিছু নিয়ে তিনি আবিষ্কার করেন, সে একজন সামান্য আর্টিস্ট। সে ওই মেয়ের পরিবারকে নিজের সম্পর্কে যা কথ্য দিয়ে তার সবটাই ভূয়া। সে যে গাড়ি করে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসে সেগুলো সবই অন্যের-ধার করা।
তারালিকা বলেন, একজন তরুণ বা তরুণীর কাছে এই সত্য বলাটা কখনোই অতটা সহজ নয় যে, তিনি তার ভাবী জীবনসঙ্গী সম্পর্কে যে ধারণা করছে তা সঠিক নয়।এজন্য দরকার উপযুক্ত প্রমাণ তা ছবি বা ফোনকল রেকর্ড হতে পারে। এগুলো ছাড়া তরুণ মক্কেলটিকে প্রভাবিত করা সহজ নয়।
সংসার সুখের হয় গোয়েন্দার গুণে! 7vrvmjz6শুধু বিয়ে গড়তে নয়- বিয়ে ভাঙ্গতেও ডাক পড়ে তারালিকার। বিবাহ বিচ্ছেদ মামলায় আদালতে দুই পক্ষকেই তাদের দায়েরকৃত অভিযোগের প্রমাণ পেশ করতে হয়। তখন আইনজীবীরা মামলায় উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তারালিকার মত গোয়েন্দাদের কাজে লাগিয়ে থাকেন। তিনি বলেন,‘এসব তথ্য পেশ করতে পারলে ভরণপোষণ খরচ কমানো বা শিশুর অভিভাবকত্ব আদায় করা সহজ হয়।’
এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা স্মৃতিচারণ করেন তারালিকা একবার এক ভারতীয় স্ত্রী তার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী স্বামীর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় নিজের ও সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য প্রচুর অর্থ দাবি করেন। তিনি অজুহাত হিসেবে বলেন, এক দুর্ঘটনায় তিনি পঙ্গু হয়ে গেছেন। ফলে তার পক্ষে কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। এজন্য তার এই অর্থ দরকার।
তার স্বামী স্ত্রীর ওপর গুপ্তচরবৃত্তির জন্য সুদূর আমেরিকা থেকেই ভাড়া করলেন তারালিকাকে। তিনি জানালেন, তার স্ত্রী দিল্লিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছেন। খবর পেয়ে কাজে লেগে গেল তারিালিকার দল। তারা ওই নারীর পিছু নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেলেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে বরের লোকজনের সঙ্গে মিলে মনের সুখে নাচলেন ওই নারী। তার সমস্ত কর্মকাণ্ড গোপনে ভিডিও করল গোয়েন্দা দল। এসব ভিডিও মার্কিন আদালতে উপস্থাপন করে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় জিতে যান তার প্রবাসী স্বামী।
তারালিকা লাহিরির সংস্থা এ কাজের জন্য মামলা ভেদে বিভিন্ন রেটে অর্থ নিয়ে থাকে। তবে সাধারণত: বিবাহ পূর্ব তদন্তের জন্য ৫শ ডলার ফি নিয়ে থাকেন। তবে বিবাহ পরবর্তী গোয়েন্দা তৎপরতায় আরো বেশি পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন। কেননা তখন অনেক বেশি তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করতে হয়।
সংসার সুখের হয় গোয়েন্দার গুণে!
তিনি যখন এই পেশায় এসেছিলেন তখন তার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু দিনে দিনে গোয়েন্দা পেশায় তিনি অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেছেন। এছাড়া এখন এ কাজে অনেক আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিতে পারছেন। । যেমন, রাতে ছবি তোলার লেন্সসহ হাই রেজুলেশন ক্যামেরা, গোপন টেপরেকর্ডার যা সহজেই চশমা বা পকেটে রাখা যায়। এছাড়া সঠিক প্রশিক্ষণের কারণে তার কর্মীরা অনেক দক্ষ হয়ে উঠেছেন। তারা এখন ইন্টারনেট থেকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। তবে এ কাজে সফলতার জন্য যে জিনিসটিকে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে থাকেন তা হল, কঠোর পরিশ্রম। এই গুণটির কারণেই তিনি আজ এতটা সফল।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud