April 4, 2026
ফিচার ডেস্ক :
১৯ বছর বয়সের আগেই ভারতের ৪২ ভাগ মেয়ে দৈহিক নির্যাতনের শিকার হয়। প্রতি ৫০ জনে একজন মেয়েশিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। ১০ বছর বয়স হতে না হতেই মেয়ে শিশুদের এ ধরনের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়। কৈশোর পার হতে না হতেই ৪২ শতাংশ মেয়েশিশু স্বামী, আত্মীয়, বন্ধু, পরিচিত, অপরিচিত এমনকি বাবা অথবা সৎ বাবার মাধ্যমে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনে প্রকাশিত ইউনিসেফের প্রতিবেদন “হিডেন ইন প্লেইন সাইট” এ ভারতে মেয়েশিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ভারতের মেয়েশিশুদের ওপর জনসংখ্যা তাত্ত্বিক ও স্বাস্থ্য বিষয়ে জরিপ চালিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রায় ১০ ভাগ ভারতীয় মেয়ে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সেই শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়, ১৫-১৯ বছর বয়সে এ সংখ্যা ৩০ ভাগ। কৈশোর অতিক্রমের আগেই প্রায় ৪২ ভাগ ভারতীয় মেয়ে শারীরিক সহিংসার মুখোমুখি হয়।
সমীক্ষায় ৭৭ ভাগ মেয়ে স্বীকার করেছে, তারা ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সে যাদের হাতে শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন, সেইসব হামলাকারীই বর্তমানে তাদের স্বামী বা সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন। আরো কষ্টকর ব্যাপার হলো, ওই বয়স গ্রুপে ৬ ভাগ শিশু তাদের কোনো স্বজনের হাতে নির্যাতিত হয়েছে। অন্তত ৪ ভাগ জানিয়েছে, তাদের বন্ধুরাই তাদের টার্গেট করেছিল। মাত্র ৩ ভাগ জানিয়েছে, তারা অচেনা লোকের হাতে নির্যাতিত হয়েছিল। ০.৪ ভাগ জানিয়েছে, তারা তাদের বাবা বা সৎ বাবার হাতে নির্যাতিত হয়েছে।
সাবেক ইউনিসেফ বিশেষজ্ঞ সুচিত্রা রাও জানিয়েছেন, মেয়েদের ওপর নির্যাতনের খবর খুব কমই প্রকাশ পায়। এ ধরনের যৌন হয়রানির কথা মেয়েরা বেশির ভাগ গোপন করে যায়। যখন কেউ সাহস করে পুলিশকে জানায় অথবা আদালতের শরণাপন্ন হয়, তখনই যৌন নিপীড়ন বা নির্যাতনের খবর জানা যায়।
তবে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপের পূর্বাঞ্চল, পাকিস্তান ও নেপালের তুলনায় ভারতের মেয়েদের কিছুটা নিরাপদ বলে মনে করা হয়।