April 4, 2026
প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুরে মাইক্রোবাসে পোশাককর্মীকে ধর্ষণের ঘটনাটি সাজানো বলে নিজেদের তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চে সোমবার দুই পুলিশ কর্মকর্তা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সমন্বয়কের পক্ষে তিনটি হলফনামা জমা দেয়া হয়। এই ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের ডিসি ইমতিয়াজ আহমেদ ও মিরপুর থানার ওসি মো. সালাহউদ্দিনকে আদালত তলব করেছিল। গত ১ জুলাই ওই তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ করলে তার প্রতিকার চেয়ে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করে একটি দাতব্য সংস্থা।
আদালতে বাদী পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম। আদালত আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর এই রিট আবেদনের পরবর্তী শুনানির দিন রেখেছে। দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। ধর্ষণের ঘটনাটি সাজানো বলে পুলিশের দেয়া বক্তব্যের বিষয়ে বাদী পক্ষের বক্তব্য হফফনামা আকারে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দিতে বলেছে হাই কোর্ট। আদালতে সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সমন্বয়ক বিলকিস বেগমও উপস্থিত ছিলেন। গত ৯ জুলাই হাই কোর্ট ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে তলবের পাশপাশি ক্রাইসিস সেন্টারের সমন্বয়ককে আসতে বলেছিল। বাদী পক্ষের আইনজীবী হালিম বলেন, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সমন্বয়কের পক্ষ থেকে দেয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, ওই পোশাককর্মীকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ধর্ষণের কোনো আদামত তারা পাননি।
দুই পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে দেয়া হলফনামায়ও বলা হয়, ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার বাদী পারুল এবং সেই পোশাককর্মী (কথিত ধর্ষিত) যোগসাজশ করে ঘটনা সাজিয়েছে। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ বলেছে, বাদীর সঙ্গে আসামিদের ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি করা হয়। হালিম বলেন, “আদালত আমাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, অভিযোগ যদি মিথ্যা হয়, তাহলে কী হবে? “সাংবাদিকরা এটা নিয়ে খবর পরিবেশন করেছে, আদালতে আপনি মামলা করেছেন, আদালতের সময় নষ্ট হয়েছে। পুলিশের সময় নষ্ট হয়েছে। পোশাককর্মী ধর্ষিতা বলে বিশ্বজুড়ে মিথ্যা খবর ছড়িয়েছে, তার কী হবে? আমরা কিন্তু ঘটনা সাজানোর সঙ্গে যারা ছিল, তাদেরকে শাস্তি দিয়ে দিতে পারি।” রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমাতুল করিম বলেন, পুলিশের বক্তব্য হচ্ছে, ধর্ষণ মামলার বাদী পারুল এবং আসামি ফরিদ ও সুমন একই বস্তিতে ছিলেন। তারা ২৫ বছর ধরে পরস্পরকে চেনেন। পারুলের এক আত্মীয়ের সঙ্গে বিরোধে ফরিদকে তারা প্রাণনাশের হুমকি দেন। এই অভিযোগে মার্চ মাসে একটি জিডি হয়। পুলিশ সেই জিডিও তদন্ত করে জয়নাল এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করে। “এরপর পারুল তার এক আত্মীয়ের নাম পরিবর্তন করে একটি ঘটনা সাজিয়ে মামলা করেন। সেখানে বাদী ‘ভিক্টিমের’ সঙ্গে সম্পর্কও সঠিকভাবে উল্লেখ না করে ভুল তথ্য দিয়েছেন।”
পুলিশকে উদ্ধৃত করে এই আইনজীবী বলেন, ওই পোশাককর্মীকে তেজগাঁও ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে আইন সালিশ কেন্দ্রের এক আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। ধর্ষিত হননি বলে তিনি স্বীকার করেছেন। “আসামি ফরিদ ও সুমনের মুখোমুখি করা হয় ওই তরুণীকে। তখন পারুল আসামিদের ধর্ষক হিসাবে সনাক্ত করলেও কথিত ধর্ষিতা কান্না শুরু করেন এবং বলেন, এরা তাকে ধর্ষণ করেনি।” এরপর আদাবর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে পারুল ও কথিত ধর্ষিতার বিরুদ্ধে মামলা করে।